11608

06/19/2024 আরব বাণিজ্য ও ইসলাম প্রচারের ঐতিহাসিক সম্পর্ক

আরব বাণিজ্য ও ইসলাম প্রচারের ঐতিহাসিক সম্পর্ক

মহিব্বুল আরেফিন

২৬ অক্টোবর ২০২২ ০৯:১৬

দ্বিতীয় পর্ব

ঐতিহাসিক বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায় আদিকাল থেকেই আরব বণিকদের সাথে প্রাচীন বাংলা তথা হিন্দের বাণিজ্যক সম্পর্ক ছিল। এই আদিকাল হচ্ছে পবিত্র ইসলাম ধর্ম আগমনের বহুপূর্ব সময় পর্যন্ত। কিন্তু পরবর্তীতে ভারতবর্ষে পবিত্র ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব ঘটে মূলত এই আরব বণিকদের মাধ্যমে। আর এসময় আরব বণিকদের দুটি পরিচয় প্রকাশিত হয়। এক. ব্যবসার জন্য (পূর্ব থেকে) আসা সাধারণ বণিক এবং দুই. পবিত্র ইসলাম গ্রহণ করার কারণে মুসলমান বা মুসলিম আর মর্যদার দিক থেকে সাহাবি (রা.)।
আরব বণিকগণ পবিত্র ইসলাম ধর্মগ্রহণ করার পর তারা দাওয়াত বা ধর্ম প্রচারকের কাজটিকেই মূল পেশা অর্থাৎ মূল কাজ হিসেবে গ্রহণ করেন। আর বেঁচে থাকা অর্থাৎ জীবিকার তাগিদে পূর্বের বাণিজ্য পেশাটির সাথে সম্পর্ক রাখেন। ইসলাম ধর্মগ্রহণের পর বণিকরা তখন আর বণিক নেই, তাঁদের মূল পরিচয় সাহাবি বা ইসলাম প্রচারক। প্রাচীন বাংলা ও ভারতে তাঁদের বাণিজ্যের সঙ্গে এভাবেই যুক্ত হয় পবিত্র ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারের মিশন।

ড. মোহাম্মদ হাননান ‘দৈনিক বণিক বার্তা-র সাময়িকী, ২রা জুন, ২০১৭-এ প্রকাশিত শানজিদ অর্নব-এর মুসলিম বাণিজ্য অভিযাত্রা’ এর সূত্র উল্লেখ করে বলেন, ‘আধুনিক ইতিহাসবিদদের মতে ‘ভারত মহাসাগর ছিল ইসলামি দুনিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য নৌপথ। নৌবাণিজ্য অপেক্ষাকৃত সহজ ও নিরাপদ ছিল। স্থানীয় নৌবাণিজ্য হতো নদীপথে। আর বণিকদের বড় বড় জাহাজ পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, ভূমধ্যসাগর ও ভারত মহাসাগর হয়ে আফ্রিকার উপকূলে চলাচল করত। আরেকটি জলপথ ছিল শ্রীলংকা থেকে চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংঝৌ পর্যন্ত। সাগরের মৌসুমি বায়ু পূর্ব আফ্রিকা থেকে ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এ বাণিজ্য যোগাযোগকে সহজ করে দিয়েছিল।’

ভারত মহাসাগর ইসলামি দুনিয়ার বিশেষ করে তৎকালীন আরব বণিকদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য নৌপথ ছিল। এ নৌপথ প্রাচীন বাংলার নৌবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো। হজরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর মামা হজরত আবু ওয়াক্কাস (রা.) ভারত উপমহাদেশ ও চীন পর্যন্ত ইসলাম প্রচারে জন্য প্রাচীন বাংলার বন্দর দিয়ে চীনে গমন করেন। গবেষকগণ বলেন, ‘বিশ্ব ইতিহাসে বাণিজ্যকে অন্য কোনো ধর্ম এতোটা বিকশিত করেনি, যতটা ইসলাম ধর্ম করেছে।’ ইতিহাসবিদরা মনে করেন, উপমহাদেশের সাথে বৃহত্তর আরব ভূমির সম্পর্ক বণী ইসরাইলের নবি হজরত আদ (আ.) এঁর সময়কাল থেকেই। তারা এ বিষয়ে নবি হজরত ইউসুফ (আ.) এঁর নাম উল্লেখ করেন। ঐতিহাসিক এলফিনস্টোন এ সম্পর্কে বলেন, ‘হজরত ইউসূফ (আ.) এঁর সময় থেকেই ভারতের সাথে আরবদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক চমৎকার। আর ইসলাম আগমনের পূর্বে উপমহাদেশে প্রচুর আরব কলোনি গড়ে উঠেছিলো।.....মিশর-সিরিয়া হয়ে ভারতীয় পণ্য ইউরোপের বাজারকে সমৃদ্ধ করে তুলেছিলো।

আরবে ভারতীয়দের আবাসস্থল Arz-ul-Hind নামে পরিচিত ছিলো।’ ইতিহাসবিদ এলফিনস্টোনের History of India গ্রন্থ থেকে মোহাম্মদ আবদুল মান্নান-বাংলা ও বাঙালী: মুক্তি সংগ্রামের মূলধারা গ্রন্থে এবং একে এম আবদুল মান্নান-বাংলায় ইসলামের আর্বিভাব (ঢাবি পত্রিকা, প্রবন্ধ, অক্টোবর ২০০৭) এ বর্ণিত সূত্রটি ড. মোহাম্মদ হাননান তাঁর গ্রন্থের ১১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন। আরব ব্যবসায়ীরা কালিকট ও মাদ্রাজ হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করত, এখানে প্রথমে তারা সিলেট যেত। সিলেট তখন ছিল বন্দর ও ব্যবসায়ের কেন্দ্র। ভাষাগত কারণে সিলেটকে আরবরা সালাহাত বলতো। এখান থেকেই তারা বাংলাদেশের অপর বন্দর চট্টগ্রাম যেতো। আর চট্টগ্রাম কে তারা ‘সাদজাম’ বলত। অতঃপর এখানে তারা ভারত ও চীনের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী বন্দর সিয়াম হয়ে চীন সাগরে পাড়ি জমাত।

আরব-চীনের নৌ-পথের পর্যালোচনা
প্রাচীন আরব-চীনের নৌপথের সংক্ষিপ্ত একটি পর্যালোচনা করলে বাংলাসহ এই উপমহাদেশে পবিত্র ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র আমাদের সামনে দৃশ্যমান হয়। তা হলো চীনের সিল্ক রোড ছিলো পৃথিবীর দীর্ঘতম এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন বাণিজ্য পথ। যা চীনের “হান সাম্রাজ্যের (মিং রাজবংশ) সময় প্রতিষ্ঠিত হয়। পূর্ব-পশ্চিমের সংযোগ স্থাপনকারী সিল্ক রোড চীনের সাথে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল সমূহের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের পাশাপাশি শত শত বছর ধরে এটি সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে। খ্রিষ্টপূর্ব ১৩০ অব্দ থেকে ১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সিল্ক রোড ছিলো ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বানিজ্য পথ। খ্রিষ্টপূর্ব ১৩০ অব্দ থেকে ১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সিল্ক রোড ছিলো ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বানিজ্য পথ।সিল্ক রোড। বর্তমানে পৃথিবীর প্রাচীনতম এই বাণিজ্য পথটি ইউনেস্কো এর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সিল্ক রোডের নামকরণ
নাম সিল্ক রোড বা রেশম পথ হলেও এটি কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট একটি পথ বা রাস্তা নয়। সিল্ক রোড বা রেশম পথ মূলত নির্দিষ্ট একক পথ বা রাস্তা নয়। এটি অনেক গুলো স্থলভিত্তিক বাণিজ্য পথের সমষ্টি যা চীন, মধ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকার কিছু দেশ ও ইউরোপকে যুক্ত করে। সিল্ক রোড হলো পূর্ব থেকে পশ্চিমে যাওয়ার বহু রাস্তা নিয়ে বিশাল এক জালের মতো নেটওয়ার্ক। সিল্ক রোড নামটি এসেছে লাভজনক এশিয়ান সিল্ক থেকেই। ঐ সময়ে সিল্ক ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই সিল্ক রোডের যাত্রা শুরু হয়। বিলাস বহুল ও মূল্যবান এই পণ্যটি ইউরোপীয় ও মধ্য এশিয়ান বণিকদের ব্যাপকভাবে আকর্ষণ করতে থাকে এবং তারা স্বর্ণ, আইভরি, পশম, কাঁচের জিনিসপত্র ঘোড়া ইত্যাদির বিনিময়ে চীন থেকে সিল্ক ক্রয় করে নিয়ে যেতো। চীনা সিল্ক বা রেশমকে কেন্দ্র করে জমজমাট হয়ে উঠে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য। তবে সিল্ক রোড যতটা প্রাচীন, এর নামকরণের ইতিহাস কিন্তু ততটা পুরানো নয়। ১৮৭৭ সালে জার্মান ইতিহাসবিদ ও ভূগোলবিদ ফার্ডিন্যান্ড ভন রিকথোফেন প্রথম এই নামকরণ করেন। ১৩০ খ্রিষ্টপূর্বে যখন চীনের হান রাজবংশ পশ্চিমের দেশগুলোতে বাণিজ্য শুরু করে তখনই এই বাণিজ্যপথের উদ্ভব ঘটে। ১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চালু ছিল এই বাণিজ্যপথ। ১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দে অটোমান সাম্রাজ্য কনস্টান্টিনোপল জয় করে ও পশ্চিমের সাথে সকল ব্যবসায়িক লেনদেন বন্ধ করে দেয়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় এই সিল্ক রোড।
বর্তমান সময়ে চীনা সরকার ঐতিহাসিক এই বাণিজ্য পথটি পুনঃনির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৫০ টি দেশের কাছে নৌ সিল্ক রুটে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। চীনের এই প্রস্তাবে ইতোমধ্যেই সাড়া দিয়েছে বিভিন্ন দেশ। চীনের দক্ষিণ সাগর থেকে ভারত মহাসাগর, আরব সাগর, ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে যুক্ত হবে চীনের এই সিল্ক রুট। চীনের এই সিল্ক রুটে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপও রয়েছে। বিখ্যাত নৌ পরিব্রাজক ঝেং হে সাতবার নৌবহর নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত, আরব অঞ্চল ও পূর্ব-আফ্রিকা অঞ্চল চষে বেড়ান।

সিল্ক রোড। মানচিত্রে আরব সাগর, ইন্ডিয়া সাগর ও সাউথ চায়না সাগরের তুলনামুলক একটি ধারণা পাওয়া যায়। যাতে করে তৎকালীন নৌ বানিজ্যের পাশাপাশি ইসলাম প্রচারের একটি চিত্র দৃশ্যমান হয়- ছবি: ওয়েব সাইট।
২৮ বছর প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে চীনা পণ্য নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন ঝেং হে। তৎকালীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ে তিনি দুবার এসেছিলেন। তিনি প্রথমবার আসেন ১৪২১ ও দ্বিতীয়বার আসেন ১৪৩১ সালে। .
তৎকালীন সময়ে আরব বণিকদের নৌপথে আরব থেকে ভারত, ভারত থেকে বাংলা এবং বাংলা থেকে চীন গমন করা যেতো এ বিষয়ে কোন সন্দেহ সংশয় যেন না হয় একারণেই সিল্ক রোডের আলোচনাটির অবতারণা করা হয়েছে।

ইসলাম প্রচারে আরব-বাংলা ও চীনের নৌ-বন্দর

 চিত্র:  তৎকালীন সময়ে আরব বণিকদের আরব-হিন্দ-বাংলার উল্লেখযোগ্য নৌ-বন্দর।

উল্লেখ্য, কালিকট বর্তমান ভারতের কেরালা রাজ্যের কালিকট জেলার একটি শহর ও পৌর কর্পোরেশনাধীন এলাকা। হিন্দুস্থানের বহু পুরনো নৌবন্দরগুলোর মধ্যে কালিকট অন্যতম। প্রাচীনকাল থেকেই পৃথিবীর বাণিজ্যিক ভূগোলে কেরালা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিলো। ‘পোরিপ্লাস অফ দি এরিথ্রেয়ন সীজ’ গ্রন্থে প্রচ্য-পাশ্চত্ব্যের বাণিজ্যের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে কেরালা বা ‘কেরল’ চেররাজ্য বলে পরিচিত ছিলো। ১৪৯৮ সালে নৌবহর নিয়ে ভাস্কো-দা-গামা কালিকটের কাছে কাপ্পাডুতে পৌঁছান। মাস তিনেক অবস্থানের পর তিনি কালিকট বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেন। বিশেষত রাজা জামরিন এর (অন্যনাম: সামুদিরি) শাসনামলে কালিকট বন্দরে বিদেশি জাহাজের আসা-যাওয়া ব্যপক ভাবে শুরু হয়। বর্তমানে এই বন্দরটি অনেকটাই ব্যবহারের অনুপযোগী। ছোটখাটো নৌযান নোঙর করতে পারে। বর্তমানে কালিকটের নাম বদলে কোঝিকোড় নামকরণ করা হয়েছে। অপর দিকে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালি পাড়ায় খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭ অব্দ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত একটি বিরাট সমুদ্র বন্দরের প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শন পাওয়া যায়। চট্টগ্রামে সমুদ্র বন্দর এবং রংপুর, দিনাজপুর ও ঢাকা এলাকায়ও বিরাটাকায় নদী বন্দরের বহু নিদর্শনের ইতিহাস জানা যায়।

হালাকু খানের বাগদাদ আক্রমনের (১২৫৮ খ্রি.) পর ইরাক থেকে অসংখ্য ‘আলেম-উলামা ইরান, আফগানিস্তান ও হিন্দুস্তানে চলে আসেন। ‘পবিত্র ইসলাম ধর্মের অভ্যুত্থানের বহু শতাব্দী আগে থেকেই ভারতবর্ষের সঙ্গে আরব জগতের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছিলো।’ সে কারণে খুব সহজেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর নবুয়ত প্রাপ্তির পর এ উপমহাদেশে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে বিশেষত দুটি মাধ্যমে। এক. দাই বা মুবাল্লিগগণ এবং দুই. আরব বণিকদের মাধ্যমে।

ভারতীয় উপমহাদেশে আরব বণিকদের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের অনেক পরে অভিযানের মাধ্যমে ইসলামি রাজ্য বিস্তৃত হয়। তবে মুইজ উদ্দিন মুহম্মদ ঘুরীর (রহ.) আগে ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামি অভিযানের উল্লেখ যোগ্য তেমন কোন ঘটনা নেই। ঐতিহাসিক তথ্য মতে, হজরত উমর (রা.) এর আমলে (৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দ) বর্তমান বুম্বাইয়ের নিকট থানাতে ও ৬৪৩ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধু নদের মোহনা এলাকায় অবস্থিত দেবল বন্দরে দুটি মুসলিম অভিযান চালানো হয়। অবশ্য এ-দুটি অভিযান বহু শতাব্দীব্যাপী যে লুন্ঠনবৃত্তি ছিলো তা বন্ধ করার জন্য।’ খলিফা হজরত আলী (রা.) এর আমলে আরবরা পুনরায় বোলান গিরিপথ দিয়ে ভারতবর্ষে প্রবেশ করেন। এসকল গিরিপথ দিয়েই আবহমান কাল থেকে বিভিন্ন বিদেশী জাতি ও গোষ্ঠী ভারতে প্রবেশ করে। কিন্তু বোলান সীমান্তবর্তী কিকান রাজ্যের অধিবাসীদের হাতে আরবদের ওই অভিযান ৬৬৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিহত হয়। তবে ভারতবর্ষ ও আরব জগতের সম্পর্ক ঘনিষ্টতর ও সুদৃঢ়তর হয় ‘খলিফা হারুণ আর-রশিদের সময় (৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এবং খলিফা আল-মামুনের (৮১৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দ) শাসনের কাল পর্যন্ত।’ আর ‘১১৯২ খ্রি. মুইজউদ্দিন মুহম্মদ ঘুরীর (রহ.) কাছে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহানের পরাজয়ে প্রাচীন ভারতবর্ষের সূর্যাস্তের সন্ধিক্ষণেই ভারতীয় ইতিহাসে ইসলামের চন্দ্রোদয় ও মধ্যযুগের শুরু হয়।’ এ বিষয়ে ঐতিহাসিকগণ বলেন, ‘ব্রাহ্মণ্য প্রাধাণ্যের ফলে বৌদ্ধ ও নিম্ন-বর্ণের জনসাধারণ খুবই ক্লিষ্ট ও নির্যাতিত জীবন যাপন করছিলো ও তারা নিষ্কৃতির জন্যে ঐশী শক্তির কাছে প্রার্থনা করছিলো এবং সে সময় বাংলায় মুসলমান বিজয়াভিযান হলে তারা বেশ সমাদরের সঙ্গেই বৈকুণ্ঠ থেকে অবতীর্ণ পরিত্রাতারূপে মুসলমানদের বরণ করে।

ভারতবর্ষে ইসলামের আগমন নিয়ে সুরজিত দাশগুপ্ত সহজ ভাষায় আরো উল্লেখ করেন, ‘সপ্তম শতাব্দীতে ভারতবর্ষে ইসলাম আরব বণিকদের মাধ্যমে জলপথে প্রথম প্রবেশ করে। তারপরে আসে শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের ধর্ম প্রচারকরা। বর্তমান কেরলের ক্যাঙ্গানোরে ৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম মসজিদ নির্মিত হয়। অষ্টম শতাব্দীতে ইসলামের প্রথম সামরিক অভিযান হয় সিন্ধুতে। পরের প্রায় তিন শতাব্দী ধরে ভারতবর্ষের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক ছিল শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। আবার সামরিক অভিযান হয় একাদশ শতাব্দীর শুরুতে। পরবর্তী দেড় শতাব্দী ইসলাম আধ্যত্মিক অভিযান চালিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করে দ্বাদশ শতাব্দীর শেষ পর্বে। অতঃপর ভারতবর্ষে ইসলাম সম্প্রসারিত হয়। একাধারে সাংস্কৃতিক ও সামরিক সত্ত্বারূপে এবং ক্রমে ক্রমে ভারতীয় জীবনের অঙ্গীভূত হয়।

[ ১ম পর্ব : আরব অঞ্চলের সাথে প্রাচীন বাংলার সম্পর্ক]

লেখক: সাংবাদিক ও সুফি গবেষক ।

পান্ড ুলিপি  : ইসলামে সুফিবাদের ধারণা ও মধ্যযুগের ওলি-আউলিয়াদের ভূমিকা ।।

 

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]