02/03/2026 এমপিও নীতিমালায় বৈষম্যের প্রতিবাদে রাবির আরবী বিভাগের মানববন্ধন
রাবি প্রতিনিধি:
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৭
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত এমপিও নীতিমালার খসড়ায় আরবী প্রভাষক পদে ‘মাস্টার্স’ পাসের পাশাপাশি দাখিল ও আলিম সনদের বৈষম্যমূলক শর্ত বহাল রাখার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আরবি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে আরবী বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা সেক্টরে সুপরিকল্পিতভাবে আরবী বিভাগকে অপমান ও বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এ খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবী বিভাগ রয়েছে, যেখানে প্রতিবছর শত শত শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করছে। কিন্তু এই খসড়া চূড়ান্ত হলে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বেকার হয়ে পড়বে।
শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আরবী বিভাগের প্রভাষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার জন্য প্রকাশিত এই নীতিমালায় একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবী ভাষা ও সাহিত্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যেন কোনো ধরনের বৈষম্য না করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালার একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। যদি কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই খসড়া চূড়ান্ত করে, তবে ছাত্রসমাজ এমন বৈষম্য মেনে নেবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে নীতিমালাটি সংশোধন করে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আরবী বিভাগের কারিকুলাম এমনভাবে প্রণীত যে একজন শিক্ষার্থী অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর আর অতিরিক্ত কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ে না। অথচ সেখানে মাদ্রাসার অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের একটি ডিগ্রি যুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন ছিল, যা করা হয়নি। ফলে আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামিক স্টাডিজ একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হওয়া সত্ত্বেও কেন আরবীর সঙ্গে যুক্ত করে আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে—তা বোধগম্য নয়। আমাদের দাবি, পূর্বের নীতিমালা বহাল রাখা হোক।