29832

02/10/2026 ইতিহাসের সেরা নির্বাচনি ফল পেতে যাচ্ছে জামায়াত

ইতিহাসের সেরা নির্বাচনি ফল পেতে যাচ্ছে জামায়াত

রাজ টাইমস ডেস্ক

৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০২

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে- বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ইসলামী জিতুক বা না জিতুক, দলটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো নির্বাচনি ফলাফল পেতে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বহু বছর ধরে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাচনের সময় বিরোধী দলগুলোর রাজপথে উপস্থিতি ছিল খুবই কম। কখনো তারা নির্বাচন বর্জন করেছে, আবার কখনো শীর্ষ নেতাদের গণগ্রেফতারের ফলে কোণঠাসা হয়েছে। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে এবার পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। 

হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এখন নিষিদ্ধ। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল- এমন বহু তরুণ বলছে, এই নির্বাচন হবে ২০০৯ সালের পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ব্যাপকভাবে এগিয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হলেও, ইসলামপন্থি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন একটি জোট শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে। রয়টার্স বলছে, নতুন একটি দল, যা ৩০ বছরের নিচের জেন-জি সদস্যদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণঅভ্যুত্থানে রাজপথ কাঁপানোর পরও ‘নির্বাচনি ভিত্তি’ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, তাদের দল ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ও তারা ‘সরকার গঠনের মতো আসন’ পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।

বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরিষ্কার ও চূড়ান্ত ফলাফল দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার পতনের পর কয়েক মাস ধরে চলা অস্থিরতায় বাংলাদেশের প্রধান শিল্পখাত- বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানি খাত, গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে, এই নির্বাচনের রায় বাংলাদেশের ওপর আঞ্চলিক দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি চীন ও ভারতের ভূমিকায়ও প্রভাব ফেলবে।

ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও ভোটারদের একটি বড় অংশ এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। কয়েকটি বিষয় ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে জেন-জি, যারা মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ, তাদের ভোট। তাদের অংশগ্রহণ ফলাফলকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে।

রয়টার্স লিখেছে, বাংলাদেশের সব জায়গায় বিএনপির ‘ধানের শীষ’ ও জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সাদা-কালো পোস্টার, ব্যানার গাছে ঝুলছে, রাস্তার দেওয়ালে লাগানো হচ্ছে। পাশাপাশি বহু স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোস্টারও রয়েছে। রাস্তার মোড়ে দলের প্রতীক-সজ্জিত অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে প্রচারণার গান বাজছে।

বর্তমান নির্বাচনি পরিস্থিতি অতীতের নির্বাচনের তুলনায় পুরোপুরি বিপরীত। হাসিনার আমলে শুধু আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকই দেশজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করতো।

ভারতের বদলে চীনের প্রভাব বাড়ছে

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই নির্বাচনের রায় আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশে চীন ও ভারতের প্রভাবও নির্ধারণ করবে। শেখ হাসিনা কট্টর ভারতপন্থি নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন ও ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতেই পালিয়ে যাওয়ায় ঢাকায় চীনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

ভারতের প্রভাব কমলেও অনেক বিশ্লেষকের মতে জামায়াতের তুলনায় বিএনপি ভারতের সঙ্গে বেশি সাযুজ্যপূর্ণ। বিশ্লেষকদের আরও মত, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার পাকিস্তানের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারে, যেটি আরেকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ও ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী।

এছাড়া জামায়াতের জেন-জি জোট অংশীদার জানিয়েছে, বাংলাদেশে ‘নয়াদিল্লির আধিপত্য’ তাদের বড় উদ্বেগ। দলটির নেতারা সম্প্রতি চীনা কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। ইসলামি নীতিভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান জানানো জামায়াত জানিয়েছে, তারা কোনো দেশের প্রতি ঝোঁক রাখে না।

এদিকে, বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেন, তার দল সরকার গঠন করলে দেশের জনগণ ও দেশকে উপযুক্ত মর্যাদা দেবে- এমন যে কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে।

জরিপে বলা হয়েছে, ভোটাররা ধর্মীয় বা প্রতীকী ইস্যুর চেয়ে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক উদ্বেগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন ও এমন নেতাকে প্রত্যাশা করছে যারা দায়িত্বশীলতা, সক্ষমতা ও জনগণের প্রতি আন্তরিকতা দেখাবে।

এদিকে, বিএনপির তারেক রহমান পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যদি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে যায়, তাহলে তাদের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের জন্য বিবেচিত হতে পারেন।

২১ বছর বয়সী প্রথমবারের ভোটার মোহাম্মদ রাকিব বলেন, তিনি আশা করেন যে পরবর্তী সরকার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তাদের আমলে নির্বাচনে মানুষ ভোটই দিতে পারতো না। মানুষের কোনো কণ্ঠ ছিল না। আমি আশা করি পরবর্তী সরকার, যেই আসুক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।

সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]