03/09/2026 নেসকোর প্রধান কার্যালয় গুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ মার্চ ২০২৬ ১৮:৪৪
উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো)–এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কে একটি ডিও (আধাসরকারি) চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই-বাছাই করতে বিদ্যুৎ বিভাগ একটি সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাজশাহীতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
সূত্র জানায়, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ডিও লেটারে উল্লেখ করেন, নেসকোর কার্যক্রম উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পশ্চিমের চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা এবং পূর্ব-দক্ষিণের পাবনা পাবনা জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু সদর দপ্তর রাজশাহী শহরে হওয়ায় রংপুর বিভাগের অনেক অপারেশনাল কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা বগুরা জেলায় নেসকোর সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং গ্রাহক সেবার মান উন্নত হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ও ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব হবে বলেও তিনি মত দেন।
এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স–১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম একটি সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয় অনুবিভাগ) মোহাম্মদ সানাউল হককে। কমিটিতে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভলপমেন্ট বোর্ড এর একজন প্রতিনিধিকেও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
এদিকে নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগে রাজশাহীতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নগরবাসী বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে এবং এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজশাহীতে কিছু মানুষ সোচ্চার রয়েছে। নেসকোর সদর দপ্তর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ কমে যাবে।
এ বিষয়ে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান গণমাধ্যম কে বলেন, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন, তবে এ সংক্রান্ত কোনো সরকারি চিঠি এখনো তার দপ্তরে পৌঁছেনি। সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স–১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম গণমাধ্যম কে বলেন, ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।