30186

04/04/2026 ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ৯৪ শিশুর মৃত্যু : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ৯৪ শিশুর মৃত্যু : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

রাজ টাইমস ডেস্ক

৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২:২৭

গত ১৯ দিনে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ৯ শিশুর মৃত্যু হামের কারণে হয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে ৭১১ জন শিশুর শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আজ (শুক্রবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বর্তমান হাম পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে অদ্যবধি সারা দেশে হাম সন্দেহে ৫ হাজার ৭৯২ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় ৭৭১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে মোট ৩১৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৯৪৭ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। একদিনে শনাক্ত হওয়া এসব রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ জনই ঢাকা বিভাগের। তবে এই সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন কোনো হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। এ ছাড়া খুলনা ও সিলেট বিভাগে ৫ জন করে এবং চট্টগ্রামে ৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ১ জন করে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

হামের লক্ষণ কী?

হামের জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে কমপক্ষে ১০-১৪ দিন সময় লাগে। তাই, কার মাধ্যমে এবং কখন ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে তা বোঝা কঠিন। হামের প্রাথমিক উপসর্গগুলো হলো, সর্দি, কাশি, তীব্র জ্বর (১০৩-১০৫°F), চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং গালের ভেতরে ছোট সাদা দাগ বা কপ্লিক স্পটের আবির্ভাব। এ উপসর্গগুলো সাধারণত ৪-৭ দিন স্থায়ী হয়।

হামের সবচেয়ে দৃশ্যমান লক্ষণ হলো ত্বকে লাল ফুসকুড়ি (র‍্যাশ)। র‍্যাশ সাধারণত সংক্রমণের ৭-১৮ দিন পরে শুরু হয়, প্রথমে মুখ ও গলার উপরের অংশে দেখা যায়। এটি প্রায় ৩ দিনের মধ্যে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, শেষ পর্যন্ত হাত ও পা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। র‍্যাশ সাধারণত ৫-৬ দিন স্থায়ী হয়, তারপর ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।

অধিকাংশ হাম আক্রান্ত রোগী রোগের সূচনা থেকে ৭-১০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে এবং শরীরে আজীবন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় এবং দ্বিতীয়বার হাম দিয়ে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। হাম ভাইরাস সংক্রমণের পর মানবদেহ মূলত হিমাগ্লুটিনিন (H) প্রোটিনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং এ অ্যান্টিবডিই পরবর্তী সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]