04/07/2026 শিক্ষিকা হত্যাকান্ডের ঘটনায় দ্রুত বিচারের দাবিতে ইবিতে মৌন মিছিল
ইবি প্রতিনিধি:
৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:২২
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যারকান্ডের সাথে জড়িত সকল আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার চেয়ে শোক ও প্রতিবাদে মৌন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টায় অনুষদ ভবনের সামনে থেকে "সাধারন শিক্ষক" ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মৌন মিছিলটি অনুষদ ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদিক্ষণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জন শিক্ষকসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাহিদুর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. গফুর গাজী, সহকারী অধ্যাপক মৌমিতা আক্তার, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজিম তিতিল, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক গাজী মাহবুব মুর্শিদ, অধ্যাপক ড. মোঃ মনজুর রহমান, অধ্যাপক ড. রোজী আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ড. তিয়াশা চাকমা, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইনজামুল হক সজল।
সমাবেশে আন্দোলনকারীরা তিনটি দাবি পেশ করেন, ‘হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত’, ‘অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ এবং ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা’।
এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘বিচারহীনতার চর্চা বন্ধ করো, সাজিদ হত্যার বিচার চাই, হত্যার বিচার আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার চাই, শিক্ষকদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, নিরপেক্ষ তদন্ত চাই প্রতারণা মুক্ত বিচার চাই’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
এসময় অধ্যাপক ড. মোজাহিদুর রহমান বলেন, “আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার দাবি জানাই। তার হত্যার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়—তার সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধই তাকে এই নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি অনিয়ম ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। রুনা ম্যাডাম যখন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চান, তখনই তার ওপর এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। তাই এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
এর আগে গত ৪ মার্চ বিকেল ৪ টার সময় সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে আহত হন এবং একই কক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টারত অবস্থায় ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীরা দেখে। পরে উভয়কে হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে এই ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী একটি মামলা করেন। মামলায় দুই শিক্ষক, সাবেক কর্মকর্তা ও ওই বিভাগের সাবেক কর্মচারীকে আসামী করা হয়। বর্তমানে মামলার প্রধান আসামী ফজলুর রহমান জেল হেফাজত আছে। এছাড়া বাকি আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।