30592

05/22/2026 বৈছাআ'র নাম জড়িয়ে ছাত্রদল নেতার চাঁদা দাবি, প্রতিবাদ সংগঠনটির

বৈছাআ'র নাম জড়িয়ে ছাত্রদল নেতার চাঁদা দাবি, প্রতিবাদ সংগঠনটির

ইবি প্রতিনিধি:

২২ মে ২০২৬ ২১:০৮

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম জড়িয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতার কাছ থেকে চাঁদা দাবির ঘটনার প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (২২ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস. এম. সুইট ও সদস্য সচিব ইয়াশিরুল কবির সৌরভ এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে বলেন, একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত চাঁদাবাজি, তদবির বা মামলাবাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগের দায় এড়াতে কিংবা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নিন্দনীয়। ব্যক্তির অপরাধ বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সাংগঠনিক, আদর্শিক বা নৈতিক সম্পর্ক নেই।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই স্বৈরাচার, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এসেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

ফলে কোনো ব্যক্তি নিজের অপকর্ম আড়াল করার জন্য বা জনসমর্থন আদায়ের উদ্দেশ্যে আমাদের আন্দোলনের নাম ব্যবহার করলে তার দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো ব্যক্তির অপরাধকে বৈধতা দেয় না এবং কোনো চাঁদাবাজ, সুবিধাবাদী বা দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল নয়। যারা নিজেদের স্বার্থে আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে অপপ্রচার চালায়, তারা মূলত জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষাকেই অবমাননা করে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বৈছাআ'র নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্থাপিত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান ও অপপ্রচার থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অন্যায়, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অতীতের মতোই ভবিষ্যতেও আপসহীন থাকবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অপকর্মের দায় এই আন্দোলনের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা কখনোই সফল হবে না।

এর আগে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ পদ প্রত্যাশী এক নেতার বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একাধিক অডিও কলের রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। অডিওতে ওই ছাত্রদল নেতাকে এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার কাছ থেকে মামলা ‘হোল্ড’ রাখার কথা বলে লক্ষাধিক টাকা দাবি করতে শোনা যায়। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ রনি।

ফাঁস হওয়া অডিওতে আবু সাঈদ রনি ছাত্রলীগ নেতাকে বলেন, একটি মামলার তালিকায় কয়েকজনের নাম এসেছে, টাকা দিলে বিষয়টি ‘হোল্ড’ রাখা যেতে পারে। ছাত্রদল-ছাত্রলীগ একসাথেই ক্যাম্পাসে সব ঠিকঠাক করে, শিবিরের বিরুদ্ধে সবাই। এসময় ছাত্রলীগ নেতা রনিকে শিবির সমন্বয়করা মামলা দিচ্ছে কি-না এমন প্রশ্ন করলে রনি বলেন হুম, কিন্তু ছাত্রদল সেখানে ইন্টারফেয়ার না করলে সেটা ছাত্রদলেন জন্য নেতিবাচক।

এসময় ছাত্রলীগ নেতা রনিকে কাকে কত টাকা দিতে হবে জিজ্ঞেস করলে রনি উত্তরে বলেন তুই কত টাকা দিতে পারবি সেটা বল, আমি এডজাস্ট করে বলবো, এখন তাৎক্ষণিক কত দিতে পারবি? রাজনৈতিক জায়গা থেকেই তোর সবকিছু করেছে। তাছাড়া সরকার না পড়লে তো তোর এসব কিছুই হতো না বা নির্বাচন হয়ে গেলেও তোদের এসব কেস হতো না।

রনি বলেন- টাকা সবজায়গায় দেওয়া লাগবে, ‘সমন্বয়ক কও, শিবির কও, আমাদের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি কও সব জায়গায় টুকটাক যাবে। তুই কত দিতে পারবি তাৎক্ষণিক সেটা জানা, আমি তাহলে সেভাবেই স্যারের কাছে বলে আপাতত তোর বিষয়টি হোল্ডে রাখি। এসময় ছাত্রলীগ নেতা বলেন, তুই আপাতত হোল্ডে রাখ, বাড়িতেও তো একটু ঝামেলা। তখন রনি বলে, তোর ঝামেলা কিসের তোর বাপ প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার।

আরেকটি কথোপকথোনে রনি ছাত্রলীগ নেতাকে বলেন, কয়েকজনের নাম আপাতত হোল্ডে রাখা হয়েছে। এসময় ছাত্রলীগ নেতা টাকা কমানোর জন্য শিবির ও সমন্বয়কদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ চাইলে ও কাকে কত দিতে হবে জানতে চাইলে রনি উত্তরে বলেন- বিষয়গুলো ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি ওদের সাথে ঠিক করবে। কারও কারও কাছ থেকে ৫০/৩০/২০ হাজার টাকা দিয়েও বিষয়গুলো ম্যানেজ করার চেষ্টা চলছে। তবে তোর আর্থিক স্বচ্ছলতা বেশি থাকায় হয়তো বেশি চাওয়া হয়েছে।

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]