06/20/2026 রাজশাহীর সাহেব বাজার স্বর্ণপট্টিতে দুঃসাহসিক ডাকাতি
শাহ্ সুফি মহিব্বুল আরেফিন
২০ জুন ২০২৬ ১২:৩২
রাজশাহী নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার স্বর্ণপট্টিতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে স্বর্ণপট্টির দোকানপাট খোলার সময় প্রথম ঘটনাটি নজরে আসে। পরে দেখা যায়, আফিয়া জুয়েলার্স ও কারুশ্রী জুয়েলার্সের মধ্যবর্তী পার্টিশন ওয়াল কেটে দুর্বৃত্তরা দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতরা প্রথমে আফিয়া জুয়েলার্সের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর সেখান থেকে পার্টিশন ওয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে ঢুকে পড়ে। পরে দোকানের সিন্ধুকের তালা খুলে সেখানে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। বের হবার সময় তারা আফিয়া জুয়েলার্সে আবারও তালা মেরে দেয়।
জানাগেছে, কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তূর্য সরকার প্রতিদিনের মতো সকালে দোকান খুলতে এসে ভেতরের অবস্থা অস্বাভাবিক দেখতে পান। দোকানের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে দেয়ালে কাটা অংশ এবং সিন্ধুকের অবস্থা দেখে তিনি ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত হন। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বর্ণপট্টির অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এটি কোনো সাধারণ চুরি নয়; বরং দীর্ঘ পরিকল্পনা ও পূর্ব প্রস্তুতির মাধ্যমে সংঘবদ্ধ একটি চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা বলেন, দুর্বৃত্তরা দোকানের অবস্থান, ভেতরের কাঠামো এবং মূল্যবান সামগ্রী রাখার স্থান সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিল বলেই মনে হচ্ছে। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেয়াল কেটে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে তারা ডাকাতি করে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। অনেকের ধারণা, কারুশ্রী জুয়েলার্সের ওপরের আবাসিক হোটেলে অবস্থান নিয়ে দুর্বৃত্তরা আগে থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছিল। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, আশপাশের হলিডে মার্কেটে ব্যবসায়ীর পরিচয়ে অবস্থান করে ডাকাতচক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা সাজিয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বিষয় এখনও কেবল স্থানীয়দের ধারণা; তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঠিক কত পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ খোয়া গেছে, তা এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। দোকান কর্তৃপক্ষ হিসাব-নিকাশ শেষে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাবে। তবে প্রাথমিকভাবে কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার থাকা প্রয়োজন ছিল। নিরাপত্তার ঘাটতির সুযোগ নিয়েই সংঘবদ্ধ চক্রটি এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হয়েছে বলে তাদের দাবি।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন। জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত ডাকাতি কি না, কিংবা এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকায় এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত রহস্য উদঘাটন এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।
এঘটনার পরপরই দুপুর ১টার পর জুয়েলার্স সমিতির মালিক-কমচারীরা আসামীদের গ্রেফতার জানিয়ে মিছিল বের করেন।