31049

07/25/2026 জাককানইবিতে জনসংখ্যা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে সেমিনার

জাককানইবিতে জনসংখ্যা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে সেমিনার

স্বপ্না আক্তার, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

২৫ জুলাই ২০২৬ ২০:৩০

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) ‘সমসাময়িক জনসংখ্যা ইস্যু, টেকসই উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ও প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নজমুল হাসান।

সেমিনারে সমসাময়িক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে জনসংখ্যার ভূমিকা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনমিতিক লভ্যাংশের কার্যকর ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে আরও বেশি দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। জ্বালানি তেলের, বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়লে কৃষি, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাত কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়, তা দেশবাসী ইতোমধ্যেই দেখেছে।

 বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের বিকল্প নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উৎপাদনমুখী অর্থনীতির যে ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিত বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারতের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। সরকারের প্রথম দিকের সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে কৃষকদের ঋণের সুদ মওকুফ, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং নারীদের ক্ষমতায়নে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। এর মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে নারীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক—এই তিন ধরনের বার্ষিক ক্যালেন্ডার থাকা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করা যায়। বাংলাদেশ বর্তমানে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করছে। এটি মাথা নত করার নয়, বরং সম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষার নীতি। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত পতিত সরকার জনগণকে সম্ভাবনার সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে তাদের ওপর বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য দেশের জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে উন্নয়নের প্রধান শক্তিতে রূপান্তর করা।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, “জনসংখ্যা বিশ্বের জন্য একটি বড় সম্ভাবনার সম্পদ। কম্পিউটার ও রোবট আবিষ্কারের সময় অনেকেই মনে করেছিলেন মানুষের কাজের সুযোগ কমে যাবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জন্য নতুন দক্ষতা ও কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের শুধু পাঠ্যবই বা নির্দিষ্ট নোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশে কাজ করতে হবে।”

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতি একটি বড় সাফল্য। সরকারি উদ্যোগ, উপবৃত্তি এবং সামাজিক পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ছেলেদের তুলনায় ভালো ফলাফল করছে।”

তিনি বলেন, “তবে শিক্ষিত নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এর অন্যতম কারণ হলো -কেয়ার গিভিং রেসপোসসিবিলিটি, সন্তান ও পরিবারের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের ওপর বর্তায়। আগে যৌথ পরিবারে এই দায়িত্ব ভাগাভাগি হতো, কিন্তু বর্তমান নিউক্লিয়ার পরিবার ব্যবস্থায় নারীদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষিত নারীদের অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করতে হলে শুধু শিক্ষা নয়, কর্মক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ডে কেয়ার ও চাইল্ড কেয়ার সুবিধা, পার্ট-টাইম কাজ এবং রিমোট ওয়ার্কের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলেই শিক্ষিত নারীরা দেশের উন্নয়নে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারবেন।”

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে গবেষণাভিত্তিক নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকাশক ও সম্পাদক : মহিব্বুল আরেফিন
যোগাযোগ: ২৬৮, পূবালী মার্কেট, শিরোইল, ঘোড়ামারা, রাজশাহী-৬০০০
মোবাইল: ০৯৬৩৮ ১৭ ৩৩ ৮১; ০১৭২৮ ২২ ৩৩ ২৮
ইমেইল: [email protected]; [email protected]