ইন্দোনেশিয়ায় একসাথে তিনটি একাডেমিক সম্মাননা অর্জন রাবি শিক্ষার্থীর
রাবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৯:০৭; আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৫ ২৩:০৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মো. মাহদী হাসান সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ Universitas Islam Internasional Indonesia (UIII) থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তিনি একমাত্র শিক্ষার্থী যিনি একসাথে তিনটি অ্যাকাডেমিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।
সেগুলো হলো 3rd Best Graduate (Regular M.A. in Islamic Studies & Dual Degree Students with the University of Edinburgh এবং SOAS, London, UK), Best Productive (1st Ranked) in Publication এবং Best Thesis of the Year (UIII Overall)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি ফ্যাকাল্টি, আটটি ডিসিপ্লিন এবং ১৮টি দেশের মোট ১৬৪ জন গ্র্যাজুয়েটের মধ্যে মাহদী হাসানের থিসিসকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক বোর্ড কর্তৃক Best Thesis of the Year হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে মো. মাহদী হাসান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, Universitas Islam Internasional Indonesia (UIII)-এর ইতিহাসে একমাত্র স্টুডেন্ট হিসেবে একসাথে তিনটি একাডেমিক স্বীকৃতি অর্জন করা আমার জীবনের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
আমার ক্লাসমেটদের (৫৫ জনের) মধ্যে ১৪ জন (ইন্দোনেশিয়ান) ছিলেন ডুয়েল ডিগ্রি স্টুডেন্ট। ৮ জন University of Edinburgh এবং ৬ জন SOAS London-এ পড়াশোনা করেছে—অর্থাৎ এক বছর আমাদের সঙ্গে এখানে UIII-তে এবং আরেক বছর সেখানে। তাদের মতো প্রতিভাবান সহপাঠী, এবং একইসঙ্গে চারটি ফ্যাকাল্টির অধীনে আটটি ডিসিপ্লিন ও আঠারো দেশের মোট ১৬৪ জন গ্র্যাজুয়েটের মাঝে সেরা থিসিসের স্বীকৃতি পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
"UIII যেহেতু একটি গবেষণামুখী বিশ্ববিদ্যালয় (যেখানে কেবল মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু রয়েছে), এখানে প্রত্যেকেই গবেষণায় দক্ষ। তাদের মধ্যে নিজেকে এমন সম্মানের স্থানে দেখতে পারা আমার নিজের, আমার পরিবার এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল গর্ব। সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এখানে খুবই সীমিত। আমার ব্যাচে (২০২৩-২৪) আমি ছিলাম একমাত্র প্রতিনিধি। এত অল্প উপস্থিতিতেও বাংলাদেশকে মর্যাদার সঙ্গে উপস্থাপন করতে পারাটা আমার কাছে সত্যিই এক অনন্য অর্জন।" মাহদী যোগ করেন।
তিনি আরো বলেন, তবে এই আনন্দের মাঝেও আমার হৃদয়ে গভীর এক শূন্যতা রয়ে গেছে। আমার প্রিয় বাবা আজ আর বেঁচে নেই। তিনি সবসময় আমার পড়াশোনা ও ফলাফল নিয়ে চিন্তিত থাকতেন। আজ যদি তিনি জীবিত থাকতেন, হয়তো গর্ব করে বলতে পারতাম: “আব্বা, তোমার ছেলে জীবনে কিছু একটা করতে পেরেছে, আলহামদুলিল্লাহ।” এই অর্জন আমি তাঁর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করছি এবং তাঁর মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তা‘আলা যেন তাঁকে শান্তি দান করেন। আমিন।”
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: