প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য ববি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের
ববি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫১; আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২১:১৪
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে টাঙানো সব ধরনের ব্যানার ও বিলবোর্ড অপসারণের স্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও তা মানছেন না বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এখনো শোভা পাচ্ছে অভিনন্দন সংবলিত বিশাল ব্যানার।
সরেজমিনে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরের উপরে উপাচার্যের কার্যালয় সংলগ্ন দুটি ভিন্ন স্থানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী পরিষদের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি ব্যানার সাটানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ব্যানারগুলো অপসারণে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে অভিনন্দন জানিয়ে টাঙানো সব ধরনের ডিজিটাল বিলবোর্ড, ব্যানার ও বিজ্ঞাপনী প্রদর্শনী দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেদিন গুলশানের বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় নিজের ছবি সংবলিত ব্যানার দেখে তিনি তাৎক্ষণিক বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং তা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন বিলবোর্ডে তার ছবি ব্যবহার করে অভিনন্দন প্রদর্শনী না করেন। এর আগেও বিজয় সরণি এলাকায় এলইডি স্ক্রিনে অভিনন্দন বার্তা দেখে তিনি তা তৎক্ষণাৎ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
কেন্দ্রীয় কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের উপদেষ্টা হাসানুজ্জামানের পৃষ্ঠপোষকতায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক মামুন শেখ, সদস্য সচিব জাকির মির্জাসহ অন্যান্যরা ব্যানারটি সাটিয়েছেন বলে তারা শিকার করেছেন।
এই হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তিনি সাবেক সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহর নির্বাচনী প্রচার কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। অন্যদিকে, কর্মকর্তা পরিষদের ব্যানারটি নেপথ্যে থেকে কে বা কারা সাটিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাসানুজ্জামান বলেন,"প্রধামন্ত্রীর এমন নির্দেষনা আমার সামনে পড়েনি, এটা আমার অজ্ঞতা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যানারটি সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করবো।"
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ৮৫তম (বিশেষ) সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসকে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা করা হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকা বা রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এই নিষেধাজ্ঞা এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নির্দেশনা—উভয়কেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই ব্যানার প্রদর্শনকে শৃঙ্খলা পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: