৭১ দেশের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব

বিশ্বমঞ্চে তরুণ বিতার্কিক রাজশাহীর ত্বাকি

শাহ্ সুফি মহিব্বুল আরেফিন | প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬ ১১:১৩; আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১১:১৩

তরুণ বিতার্কিক রাজশাহীর সাঈদ ইবনেত্বাকি

ছোটবেলা থেকেই যুক্তি, বিশ্লেষণ আর আত্মবিশ্বাসের চর্চায় নিজেকে গড়ে তুলেছেন রাজশাহীর কিশোর সাঈদ ইবনে ত্বাকি। সেই পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে এবার তিনি পা রাখতে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বিশ্বের ৭১টি দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য International English Language Competition (IELC)-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি ১১ সদস্যের জাতীয় দলের নেতৃত্বও দেবেন তিনি।

আগামী ২১ থেকে ২৮ জুন লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্তিবাদ, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও যোগাযোগ সক্ষমতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন বাংলাদেশের তরুণ প্রতিনিধিরা।

রাজশাহী থেকে একমাত্র প্রতিনিধি

এবারের প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ১১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে রাজশাহী বিভাগের একমাত্র প্রতিনিধি সাঈদ ইবনে ত্বাকি। ফলে তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি রাজশাহী বিভাগের জন্যও এক বিশেষ গর্বের বিষয়।

রাজশাহী মহানগরীর হেতেম খাঁ শাহাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ত্বাকি বর্তমানে রাজশাহী মসজিদ মিশন একাডেমীর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তিনি বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান লাভ করেন। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি দলের নেতৃত্বের দায়িত্বও তার কাঁধে এসে পড়ে।

স্বপ্নের পথে নিরন্তর প্রস্তুতি

লন্ডনযাত্রার আগে অনুভূতি জানাতে গিয়ে ত্বাকি বলেন, বিতর্কের প্রতি তার আগ্রহের শুরু ছোটবেলা থেকেই। নিয়মিত চর্চা, বই পড়ার অভ্যাস এবং শিক্ষকদের অনুপ্রেরণাই তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। তিনি চান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এবং দেশের পতাকাকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে।

ত্বাকি মনে করেন, বিতর্ক কেবল প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর যুক্তিবোধ, নেতৃত্বগুণ, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার কার্যকর মাধ্যম। আন্তর্জাতিক এই আসরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জ্ঞান ও সংস্কৃতির বিনিময়ের সুযোগও তৈরি হবে।

সাফল্যের পেছনের গল্প

শিক্ষক ও সহপাঠীদের মতে, ত্বাকির সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা এবং শেখার অদম্য আগ্রহ। বিতর্ক চর্চার পাশাপাশি একাডেমিক ফলাফলেও তিনি ধারাবাহিকভাবে ভালো করছেন।

ত্বাকির ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক নাজমুস সাকিব বলেন, “ত্বাকি অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী ও আত্মবিশ্বাসী একজন শিক্ষার্থী। প্রতিটি প্রতিযোগিতার আগে সে নিজেকে কঠোরভাবে প্রস্তুত করে। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ এবং যুক্তি উপস্থাপনের দক্ষতাই তাকে আলাদা করেছে।”

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ত্বাকি বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে—এ ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

রাজশাহী মসজিদ মিশন একাডেমির অধ্যক্ষ শাহাদৎ হোসেন বলেন, ত্বাকির এই অর্জন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং পুরো অঞ্চলের সাফল্য। তার মতে, জেলা শহরের শিক্ষার্থীরাও যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারে, ত্বাকি তার উজ্জ্বল উদাহরণ।

অনুপ্রেরণার এক নাম

প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের এই যুগে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের তরুণদের উপস্থিতি দেশের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস। সাঈদ ইবনে ত্বাকির এই যাত্রা প্রমাণ করে, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনো প্রান্তিক অঞ্চল থেকেও বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানো সম্ভব।

এখন অপেক্ষা শুধু লন্ডনের মঞ্চে তার যুক্তির দীপ্তি ছড়িয়ে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল করার।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top