প্যারিস থেকে
দেশে ফিরছে শিক্ষার্থী মহাদেব ঘোষের মরদেহ
রোকনুজ্জামান, প্যারিস (ফ্রান্স) | প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬ ০৯:২৮; আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ০৪:৫৩
ফ্রান্সের প্যারিসে মারা যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মহাদেব ঘোষের মরদেহ শুক্রবার (১৫ মে) বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর স্থানীয় সময় সকালে মরদেহ ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়। গত ৪ মে বৃহত্তর প্যারিসের ৭৮ ডিপার্টমেন্টের আওতাধীন জো-অঁ-জোসা এলাকার একটি ছাত্রাবাসের কক্ষ থেকে ২৩ বছর বয়সী মহাদেব ঘোষের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
শুরুতে ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হলেও ১১ মে ফরাসি পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থলে কোনো ধরনের সহিংসতা বা জোরপূর্বক প্রবেশের আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মহাদেব ঘোষ ফ্রান্সের বিজনেস স্কুল এইচইসি প্যারিসে এমবিএ অধ্যয়ন করছিলেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডন থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি ইতালিতে একটি কোর্স শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্সে আসেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মহাদেব ঝিনাইদহ জেলার কাটালাগাড়ি বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি সাবেক কৃষি সচিব ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শ্যামল কান্তি ঘোষ এবং সাগরদীপা ঘোষ রায়ের সন্তান।
মরদেহ দেশে পাঠাতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন দিয়েছে। জো-অঁ-জোসা সিটি হল ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে। এছাড়া প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুত অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদানসহ সার্বিক সহায়তা করেছে।
পরে মরদেহ শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয় মরদেহ। আগামী রোববার (১৭ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মহাদেব ঘোষের মৃত্যুতে ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোক জানানো সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স-বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (এফবিজেএ), বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যান্ড অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক ইন ফ্রান্স এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্স (বিসিএফ)।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: