পদ্মার চরে ‘গুম’ হওয়া ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:২১; আপডেট: ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:৫৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘অপহরণ ও গুমের’ শিকার এক গরু ব্যবসায়ীর লাশ পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানা সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। মিডিল চর নামক এই স্থানটি পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ইউনিয়নে।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম আহাদ আলী ওরফে কাজল ওরফে গোলকাজল (৩৪)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চাকপাড়া গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন ওরফে ফিরোজের পুত্র। গত ২ জানুয়ারি রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন আহাদ আলী। ৮ জানুয়ারি আহাদের স্ত্রী লিসা বেগম (৩০) বাদী হয়ে স্বামীকে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও আটজনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ওমর আলী (৫২) ও জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম মেম্বার (৫০)।
এজাহারে বলা হয়, গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে চরবাগডাঙ্গা বাজারে আলম ও নাজমুল হুদার সঙ্গে আহাদের কথা কাটাকাটি হয়। পরদিন ২ জানুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে আহাদের মোবাইল নম্বরে একটি কল আসে। তাকে ডাকা হলে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে চাননি। পরে হাসেম আলী নামের এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে আহাদের বাড়ি যান। মঙ্গলবার দুপুরে গোদাগাড়ী থানার পাশে পদ্মা নদীতে আহাদের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ও গোদাগাড়ী থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে ঘটনাস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হওয়ায় সেই থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে নিহতের ভাই শওকত আলী দাবি করেন, তার ভাইকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে গুম করা হয়েছিল। তাকে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়, লাশের সুরতহাল প্রস্তুতের সময় শরীরের কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: