পবায় দুর্নীতি বিরোধী প্রতিযোগিতা অনু‌ষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬ ১৬:১৮; আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ১৭:২২

সংগৃহীত

কখনও তথ্যনির্ভর বক্তব্য, কখনও তীক্ষ্ণ প্রশ্ন, আবার কখনও প্রতিপক্ষের যুক্তি খণ্ডন করে পাল্টা মতামত। দুর্নীতির কারণ, প্রভাব এবং তা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের এমন প্রাণবন্ত যুক্তিতর্কে মুখর হয়ে ওঠে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন।

তর্কে-বিতর্কে উঠে আসে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়। দীর্ঘ যুক্তির লড়াই শেষে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৯টা থেকে পবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রাথমিক পর্বে প্রতিযোগী দলগুলোকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রতিটি দলে তিনজন করে শিক্ষার্থী নির্ধারিত বিষয়ের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহী এবং পবা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি যৌথভাবে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে পবা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা, তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্য এবং প্রতিপক্ষের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাবে জমে ওঠে আয়োজন। তাদের বক্তব্যে দুর্নীতির সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি, নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকার বিষয়টি উঠে আসে। শিক্ষার্থীরা যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে, শুধু আইন প্রয়োগ বা শাস্তির মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যক্তিগত সততা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাল্টা বক্তব্যে প্রতিপক্ষের যুক্তির দুর্বলতা তুলে ধরে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য ও উদাহরণ হাজির করে প্রতিযোগীরা। তাদের বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন, পাল্টা প্রশ্ন ও যুক্তি খণ্ডনের কৌশলে বারবার করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন। বাছাইপর্ব পেরিয়ে ফাইনালে মুখোমুখি হয় নওহাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসা। ফাইনাল রাউন্ডে প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে নওহাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিপক্ষে নিজেদের মতামত তুলে ধরে বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসা। দুই দলের প্রতিযোগীরা তথ্য, উদাহরণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিজ নিজ অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। দীর্ঘ যুক্তিতর্কের পর বিচারকদের মূল্যায়নে বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসা চ্যাম্পিয়ন এবং নওহাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রানার্সআপ হয়। প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো সততা, নৈতিকতা ও জনসচেতনতা। শিক্ষার্থীরা যুক্তির মাধ্যমে দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে সমাজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই প্রত্যেকের মধ্যে অন্যায়কে ‘না’ বলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

আজকের এই শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশকে নেতৃত্ব দেবে।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. তানভীর আহমেদ সিদ্দীক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম মাহমুদ হাসান। সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. আখতার ফারুক। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম এবং বিআরডিবি কর্মকর্তা শামসুন্নাহার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আয়েশা নাজনীন, সহকারী প্রোগ্রামার ইসমোতারা খাতুন। এ সময় পবা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী নাজমুল ইসলাম, সদস্য সাদিকুল ইসলাম, রহিমা বেগম, বশিরাবাদ দাওয়াতুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ ইয়াহিয়া সহ কমিটির অন্য সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top