কান উৎসবে বাংলাদেশের ‘রেহানা’ যেসব সিনেমার সঙ্গে লড়বে

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২১ ২১:২৪; আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২১ ০৪:৪৮

যেসব সিনেমার সাথে লড়বে বাংলাদেশি সিনেমা রেহানা মারিয়াম নুর

কান চলচ্চিত্র উৎসবের অফিশিয়াল শাখা ‘আঁ সার্তে রিগা’য় এ বছর ২০টি সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে। ৬ জুলাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরদিন সেখানে প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের ছবি ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘প্রেয়ারস ফর দ্য স্টোলেন’ ছবি দিয়ে শেষ হয় প্রদর্শনী। আজ বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় ঘোষণা করা হবে এই বিভাগের সেরা ছবির নাম ও পুরস্কার। চলচ্চিত্র সমালোচকদের বিশ্বাস, এখান থেকে খালি হাতে ফিরবে না ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। আঁ সার্তে রিগায় পুরস্কারের জন্য লড়বে যেসব ছবি, জেনে নেওয়া যাক সেগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

বাংদেশি সিনেমা রেহানা মারিয়াম নুর

ব্লু বায়ো
অভিনেতা ও নির্মাতা জাস্টিন চোয়ন পরিচালিত ‘ব্লু বায়ো’ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মনোনয়ন পেয়েছে। সিনেমাটি লুইসিয়ানা বায়োতে বেড়ে ওঠা এক কোরিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকানের গল্প, যিনি পরিবারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। হঠাৎ তার ভয়ংকর এক অতীত সামনে আসে। তিনি জানতে পারেন, সেই ঘটনায় তাকে নির্বাসনে দেওয়া হতে পারে। হঠাৎ তার জীবনের ছন্দ হারিয়ে যায়। এটি নির্মাতার চতুর্থ সিনেমা।

হাউস অ্যারেস্ট
এর আগে ছয়টি সিনেমা বানিয়েছেন এলেস্কে জার্মান জুনিয়র। সপ্তম সিনেমা ‘হাউস অ্যারেস্ট’ দিয়ে প্রথমবার আঁ সার্তে রিগায় মনোনয়ন পেয়েছেন। এর আগে তাঁর দুটি সিনেমা বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমা হিসেবে প্রতিযোগিতা করেছে। এ ছাড়া ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব ২০০৮ সালে সেরা নির্মাতা হিসেবে সিলভার লায়ন জিতেছিলেন তিনি। ‘হাউস অ্যারেস্ট’-এ দেখা যাবে এক রাশিয়ান প্রফেসরের গল্প, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় শহরের প্রশাসন নিয়ে সমালোচনা করে ক্ষমতাসীনদের রোষে গৃহবন্দী হন। সিনেমার মধ্য দিয়ে রাশিয়ার শাসনব্যবস্থাকে তুলে ধরা হয়েছে।

গুড মাদার
ফরাসী অভিনেত্রী, লেখক ও নির্মাতা হাফসিয়া হের্জি ‘গুড মাদার’ সিনেমায় তুলে ধরেছেন কিশোর অপরাধের কাহিনি। একটি গ্যাস স্টেশনে ডাকাতির পর নোরার ছেলে ধরা পড়ে। গৃহিণী নোরা ছেলেকে মুক্ত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। এ গল্পের আড়ালে অপেক্ষা করে এক ভয়ানক কাহিনি। ২০১৯ সালে প্রথম সিনেমা বানিয়েই হাফসিয়া হের্জি কানের অফিশিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নেন।

ল্যাম্ব
এ সিনেমায় নিঃসন্তান দম্পতি মারিয়া এবং ইংভার। তারা আইসল্যান্ডের একটি খামারে এক নবজাতককে পান। শিশুটিকে নিয়ে অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখোমুখি হন তারা। এ ছবি পরিচালনা করেছেন আইসল্যান্ডের তরুণ নির্মাতা ভ্লাদিমির জনসন। এটি তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা। তিনি এর আগে ‘হারমাসাগা’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা বানিয়েছেন।

কমিটমেন্ট হাসান
এটি নির্মাণ করেছেন তুরস্কের সেমিহ কাপলঙগু। তিনি এর আগে সাতটি সিনেমা বানিয়েছেন। তাঁর ‘এগ’ ছবিটি ২০০৭ সালে কানে জায়গা করে নেয়। পরের সিনেমার প্রদর্শনী হয় বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে। ১৩ বছর পর তিনি ‘কমিটমেন্ট হাসান’ নিয়ে ফিরেছেন কান চলচ্চিত্র উৎসবে। ছবির গল্পে দেখা যাবে, বাবার ফলের বাগানে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন হাসান। তাঁর সেই জমিতে হঠাৎ করেই শুরু হয় বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানোর কার্যক্রম। উর্বর জমিকে সিনেমায় রূপক অর্থে দেখানো হয়েছে।

প্লেগ্রাউন্ড
এটি নির্মাণ করেছেন লরা ওয়ান্ডেল। তিনি ছয় বছর আগে স্বল্পদৈর্ঘ্য একটি সিনেমা দিয়ে কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা সিনেমার পুরস্কার পেয়েছিলেন। প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘প্লেগ্রাউন্ড’ দিয়ে এবার আঁ সার্তে রিগায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। শিশুদের বুলিং নিয়ে সিনেমাটির গল্প।

লা সিভিল
বেলজিয়াম, মেক্সিকো ও রোমানিয়ার অর্থায়নে সিনেমা ‘লা সিভিল’। স্প্যানিশ ভাষার এই সিনেমা পরিচালনা করেছেন টেওডোরা মিহাই। এটি মেক্সিকোর একটি শহরের মা-মেয়ের গল্প। টিনএজ মেয়েটিকে একদিন অপহরণ করা হয়। সিলিয়ো মেয়েকে খুঁজে পেতে হন্য হয়ে ওঠেন।

 

ফ্রিডা
হাইতির সিনেমা ‘ফ্রিডা’। এটি পরিচালনা করেছেন গেসিকা গনুস। এতে ফ্রেডার পরিবারের সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। ফ্রেডা রাস্তায় খাবার বিক্রি করে। হঠাৎ একটি দুর্ঘটনায় সব বদলে যায়। এই সিনেমা কানের আঁ সাতে রিগা ও ক্যামেরা দর পুরস্কারের জন্য প্রতিযোগিতা করবে।

লেট ইট বি মর্নিং
ইসরায়েলের সিনেমা ‘লেট দেয়ার বি মর্নিং’। এটি পরিচালনা করেছেন এরয়ান কলিরিন। এর আগেও তাঁর দুটি সিনেমা আঁ সার্তে রিগা থেকে ছয়টি শাখায় মনোনয়ন পেয়েছিল। তিনটি শাখায় পুরস্কার জিতে নেয়। এবারও তিনি কানে পুরস্কার পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

এসব ছাড়া আরও ১০টি সিনেমা ওই প্রতিযোগিতায় লড়বে। কান চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর বিশ্বের প্রতিভাবান তরুণ নির্মাতাদের পরিচয় করিয়ে দেয় আঁ সার্তে রিগা বিভাগে। মূল প্রতিযোগিতার বাইরে এ বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সমসাময়িক ঘটনাগুলোর গল্পই সাধারণত এ শাখায় প্রাধান্য পায়।

‘আনক্লিনসিং দা ফিস্ট’স, পরিচালক কিরা। ‘ওমেন ডু ক্রাই’ যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন মিনা মেলেভা ও ভেসেলা কাজাকোভা। ‘গ্রেট ফ্রিডম’ পরিচালনা করেছেন অস্ট্রিয়ার নির্মাতা সেবাস্তিয়ান মিজ। ‘রিমাইন্ডার’ পরিচালনা করেছেন জিয়াজুয়া ন। ‘আফটার ইয়ানং’ কগোনাদা। ‘মাই ব্রাদার্স অ্যান্ড আই’ পরিচালনা করেছেন ইয়ান ম্যানকা। ‘প্রেয়ারস ফর দ্য স্টোলেন’ পরিচালনা করেছেন তাতিয়ানা হুজো। ‘আনক্লেচিং দ্য ফিস্টস’ পরিচালনা করেছেন কিরা কোভালেনকো। ‘অনোদা: টেন থাউজ্যান্ড নাইট ইন দ্য জঙ্গল’ নির্মাণ করেছেন আর্থার হারারি।

 

 

সূত্র: প্রথম আলো

 



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top