উজানের ঢলে বার বার কেন ডুবে যায় সিলেট?

রাজটাইমস ডেস্ক: | প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৪ ১০:১৯; আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৪ ২৩:৪৬

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট ডুবছে। বার বারই ডুবছে। এতে হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি। প্রাণ বাঁচাতে ছুটে মানুষ। বন্যা শেষে যখন বাড়ি ফিরে তখন তারা নিঃস্ব। গ্রামই শুধু নয়, নগরকেও তছনছ করে দেয় উজানের ঢল। এর থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় নেই? এ প্রশ্ন এখন সিলেটের সবার। ৬-৭ বছর ধরে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে সিলেট নগর। জেলার উজানের জনপদগুলো তলিয়ে যায় চোখের নিমিষেই। উজানের পানি রাতারাতি আসে আর নেমে যেতে সময়ও লাগে।

বোদ্ধাদের মতে, সিলেট নগর ডুবছে, ডুববে এবং আরও ডুববে। এর কারণ; সিলেট দাঁড়িয়ে আছে পানি নিষ্কাশনের এক উল্লেখযোগ্য বেসিনে। সিলেটের উজানে ভারতের মেঘালয় ও আসামের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে। এই দুই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ হচ্ছে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গত ৫-৬ বছর ধরে সিলেট অঞ্চল ও তার উজানে অতি বৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে আগে কখনো বৃষ্টি হয়নি। আবহাওয়ার তথ্য বলছে, চলতি জুন মাসের এ পর্যন্ত সিলেটের উজানের মেঘালয় বেসিনে ১৬৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা অতিবৃষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সিলেটে ১৭ই জুন পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১৭০৮ মিলিমিটার।

২০২২ সালের ভয়ঙ্কর বন্যার সময়ও সিলেটে এত বৃষ্টিপাত হয়নি। তখন জুন মাসে সিলেটে বৃষ্টি হয়েছিল ১৪৫৬ মিলিমিটার। ফলে ভারতের মেঘালয় ও বাংলাদেশে সিলেট অঞ্চলে অতিবৃষ্টি হওয়ার কারণেই বন্যার অন্যতম কারণ। প্রতি বছর উজানের ঢলে মেঘালয় থেকে বিপুল পরিমাণ পলিমাটি সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারাসহ সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে চলে আসে। অনেক আগে থেকেই পলিমাটি আসার কারণে প্রধান দুটি নদীসহ সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবেশ করা নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। এতে নদীগুলোর পানিধারণের সক্ষমতা কমে এসেছে। হাওর, খাল ও পুকুর ভরাট করে সিলেটে উন্নয়ন হচ্ছে।

সিলেট নগরের যে উপশহর প্রতি বছরই বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় সেটি আগে ছিল ডুবরীর হাওর। এখানে আবাসন করা হয়েছে। সুতরাং যে পানি এই হাওর ধারণ করতো সেই পানি এখন সিলেট নগরে চলে আসে। একইসঙ্গে হাওরে আরও কয়েকটি বড় বড় স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। নগরে পুকুর ও খাল ছিল পানির জলাধার বা বেসিন। কিন্তু এখন নগরেও আর পানির বেসিন বলতে কিছুই নেই। ফলে পানি মানুষের বাসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটে চলে আসে। তাণ্ডব চালাচ্ছে সিলেট নগরেও।

এটা ২০২২ সাল থেকে ঘন ঘন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ্ণরা। তারা জানিয়েছেন, পানিধারণের জায়গা বন্ধ থাকার কারণে এখন নগরের লোকালয়ে পানি চলে এসেছে। এর জন্য দায়ী অপরিকল্পিত উন্নয়ন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আজিজুর রহমানের মতে, সিলেট জেলায় এখন দু’দিক থেকে মেঘালয় ও আসামের পানি ঢুকছে। এতে করে সবচে বেশি এফেক্ট হচ্ছে মহানগর। বাস্তব অবস্থা হচ্ছে; মেঘালয় বেসিনে যে বন্যা হয় সে বন্যার পানি বিছনাকান্দি, সাদাপাথর, জাফলংসহ কয়েকটি এলাকা দিয়ে ঢুকে সিলেটের উজানের অংশে চলে আসে। এতে সিলেট নগরও বন্যাকবলিত হয়। আর অমলসিদ হয়ে সুরমা, কুশিয়ারা এবং সারি নদীর পানি ঢুকে জেলার দক্ষিণ অংশ ডুবিয়ে দেয়। এজন্য কানাইঘাটের পানি এসে প্রথমেই আঘাত করে সিলেট নগরে। তার মতে, আগে সিলেটের অবস্থা এ রকম ছিল না।

গত কয়েক বছর ধরে এ সমস্যা প্রকট হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সিলেটের বেশির ভাগ পানি অপসারণের জায়গা হচ্ছে সুরমা নদী। কিন্তু জকিগঞ্জের অমলসিদ থেকে সুনামগঞ্জের ভাটিতে মেঘনা নদী পর্যন্ত এলাকা সুরমা কখনো খনন হয়নি। এ কারণে পানি দ্রুত নামছে না। এর বাইরে কিশোরগঞ্জে হাওরের মধ্যখান দখল থেকে মিঠামইন-অষ্টগ্রাম রাস্তা করা হয়েছে সেটিও সিলেটে জলমগ্ন হওয়ার কারণ। সব মিলিয়ে সিলেট এখন দুর্যোগে পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা- সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশবিদ আব্দুল করিম কীম নগরের জলাবদ্ধতা হওয়ার কারণ উল্লেখ করে বলেন, অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করার কারণে বর্তমানে সিলেট নগরের এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট অঞ্চলে বন্যার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলের উপর যেসব সীমান্ত নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে সেসব নদীর উজানে ভারত বাঁধ বা ড্যাম দিয়েছে। যখন উজানে অতিবৃষ্টি হয় তখন বাঁধ বা ড্যাম খুলে দেয়া হয়। এতে এক রাতেই তলিয়ে যায় সিলেট।

বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণ উল্লেখ করে কীম বলেন; পানি নামার জায়গা নেই। নদী খনন হয় না। আর যে উদ্দেশ্যে নদী খননের প্রকল্প নেয়া হয় সেটিও বাস্তবায়িত হয় না। এর জন্য দায়ী প্রশাসনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বের ব্যর্থতা বলে জানান তিনি।

এদিকে, সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ সিলেটের বর্তমান বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করেছেন ভারতের মেঘালয় বেসিনে অতিবৃষ্টি। গেল কয়েক বছর ধরে অতিবৃষ্টির কারণে সিলেট অঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। এর থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে সিলেট সিটি করপোরেশনসহ সব দপ্তরকে একসঙ্গে বসে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। কোনো একটি, দুটি দপ্তর দিয়ে এ সমাধানের পথ বের করা সম্ভব নয়। এরপর সমাধানের জন্য যে কাজটিই শুরু করা হোক সেটি সবাইকে আন্তরিকভাবে করতে হবে বলে জানান তিনি।

ঈদের খুশি ভেসে গেল উজানের ঢলে

ঈদের দু’দিন আগে থেকেই টানা বৃষ্টি। এতে সিলেটের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। ঈদের সকাল থেকে নামতে থাকে উজানের প্রবল ঢল। রাতের মধ্যে ডুবে যায় সিলেট। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে হাহাকার শুরু হয়। গতকাল বিকাল পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। তারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিনযাপন করছেন। হচ্ছে অঝোরে বৃষ্টি। দু’য়ে মিলে ১৫ দিনের ব্যবধানে ফের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সিলেট।

প্রশাসনের তথ্য মতে; সিলেট জেলায় ৮ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ঈদের খুশি সিলেটের মানুষের ভেসে গেল উজানের ঢলে। এমন পরিস্থিতি কেবল ২০২২ সালে হয়েছিল। এবার বৃষ্টিপাত সিলেটে ও ভারতের মেঘালয়ে রেকর্ড করেছে। দুই জায়গায় প্রায় ৩ হাজার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এখনো প্রবল বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া বার্তা বলছে; সিলেটে আরও কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। শুধু সিলেটে নয়, উজানে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত হওয়ার আভাস মিলেছে। ফলে সহসাই স্বস্তি কাটছে না। সিলেট নগরের দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সুরমার পানি উপচে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ডাকেন সেনাবাহিনীকে।

মেয়র জানিয়েছেন- সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদস্যরা মিলে বরইকান্দি বিদ্যুতের সাব-স্টেশনটি পানি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। তারা নদীর তীরবর্তী স্থানে বালির বস্তা দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন।

এছাড়া কুমার গাঁওয়ে বড় যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে সেটিও ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রয়োজনে সেনাসদস্যরা সেখানেও কাজ করবেন। তিনি বলেন; এই মুহূর্তে সিলেট নগরে জরুরি সেবা চালু রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সহ মোবাইল নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক রাখতে কাজ করা হচ্ছে। এদিকে নগরের তালতলা ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে পানি ঢুকেছে। বুক সমান পানিতে তলিয়ে গেছে ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয়। এ কারণে সেটি এখন স্থানান্তর করে অন্যত্র নেয়া হয়েছে। পাশের ছড়া উপচে পানি ঢুকেছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নিচ তলার কয়েকটি ওয়ার্ডে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগ দেখা দেয়।

তবে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় সহ কয়েকটি স্থানে পানি ঢুকে পড়েছে। নগরের উপশহরের অবস্থা করুণ। গত তিন দিন ধরে পানিতে ভাসছে গোটা উপশহরই।

পানিবন্দি হয়ে পড়ায় অনেকেই কোরবানি দিতে পারেননি। পরে অবশ্য শহরের উঁচু স্থানে পশু নিয়ে গিয়ে কোরবানি দিয়েছেন। নগরের শাহজালাল উপশহর, যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মদিনা মার্কেট, আখালিয়া, মেজরটিলা ও দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই, বরইকান্দি, আলমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেকের বাসাবাড়িতে গলা পর্যন্ত পানি। নিচু এলাকাগুলোর কলোনি বা বাসা-বাড়ি প্রায় পুরোটাই তলিয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে এসব এলাকার মানুষ।

অনেকে গেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে, আবার অনেকে নিজের বাসা-বাড়ি ছেড়ে যেতে চাচ্ছেন না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন- আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজনকে রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন ছাড়াও অনেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার দিচ্ছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে- এ সময় পর্যন্ত মহানগরের ২৩টি ওয়ার্ড ও জেলার ১০৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে ৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৬ জন মানুষ বন্যা আক্রান্ত। এর মধ্যে সিলেট মহানগরে অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে ৮০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯ হাজার ৯৫৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় সূত্র বুধবার বিকাল ৩টায় জানিয়েছে, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি বইছে বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। কুশিয়ারা নদীর আমলশীদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৯৯ ও শেরপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি বইছে।

দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রীর সিলেট সফর: সিলেট নগরীর বিভিন্ন বন্যাকবলিত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান, এমপি। বুধবার নগরীর মিরাবাজার কিশোরী মোহন বালক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি। এর আগে তিনি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়ও ত্রাণ বিতরণ করেছেন। এ সময় বন্যাদুর্গত মানুষের সঙ্গে তিনি কথাও বলেন। সিলেট নগরীর বন্যা পরিস্থিতি দেখে তাৎক্ষণিক নগদ ১০ লাখ টাকা, ১ শ’ টন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগ প্রবণ এলাকা। এরমধ্যে সিলেট অঞ্চল অন্যতম। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রতিনিয়ত তিনি এর খোঁজখবর রাখছেন। এ সময় সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ও সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল ইসলাম, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ ছিদ্দিকী, এনডিসি, সিলেট জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক মানবজমিন 




বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top