ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত কত ক্ষয়ক্ষতি হলো?
রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬ ২০:৫৩; আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ২২:৪১
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। চলমান সংঘাতে এরই মধ্যে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে রাডার, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একঝাঁক প্লেন, যুদ্ধবিমান, এমনকি রণতরীও।
শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর পাঁচটি ট্যাংকার বা রিফুয়েলিং প্লেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ট্যাংকার প্লেন মাটিতে থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হয়। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, প্লেনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ধ্বংস হয়নি। সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
এই হামলার ফলে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত সাতটি মার্কিন রিফুয়েলিং প্লেন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এর আগে, গত ১ মার্চ সৌদি আরবের ওই ঘাঁটিতে হামলায় গুরুতর আহত হয়ে একজন মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়।
ইরাকে কেসি-১৩৫ প্লেন বিধ্বস্ত, নিহত ৬
গত শুক্রবার পশ্চিম ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন। এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সেন্টকম।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে এটি শত্রুপক্ষের হামলা বা নিজেদের গোলাবর্ষণের কারণে ঘটেনি বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ঘটনার সময় দুটি কেসি-১৩৫ প্লেন আকাশে ছিল। এর মধ্যে একটি পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হয়, আর অন্যটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। প্লেন দুটির মধ্যে সংঘর্ষের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ বিষয়ে বলেন, যুদ্ধের সময় নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। আর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন বলেছেন, এমন দুর্ঘটনার খবর পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
এই দুর্ঘটনার ফলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক ক্ষতি
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর প্রথম দুই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার যন্ত্রাংশে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও সৌদি আরবে থাকা চারটি এএন/টিপিওয়াই২ রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে। এসব ক্ষতির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০০ কোটি ডলার।
এ ছাড়া কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে থাকা একটি এএন/এফপিএস-১৩২ রাডার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মূল্য প্রায় ১১০ কোটি ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস
মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১১টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। প্রতিটির মূল্য প্রায় তিন কোটি ডলার।
এ ছাড়া কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুল গোলাবর্ষণে তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। তবে এতে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্য বেঁচে যান।
ইরানের হামলায় বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরেও ক্ষতি হয়েছে। সেখানে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও কয়েকটি ভবন ধ্বংস হয়েছে।
রণতরীতে আগুন
গত ১২ মার্চ মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডে দুই নাবিক আহত হন। তবে এই আগুন কোনো হামলা বা যুদ্ধজনিত কারণে লাগেনি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, জাহাজটির প্রধান লন্ড্রি বা কাপড় ধোয়ার অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় রণতরীর ইঞ্জিন বা চালনাব্যবস্থার কোনো ক্ষতি হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের পরও বিমানবাহী রণতরীটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করে। ওই হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে ১ হাজার ৩৪৮ জন নিহত এবং ১৭ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, তুর্কিয়ে টুডে, আল-জাজিরা

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: