আজ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয়, ৬.৭ ডিগ্রি
রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:৪৩; আপডেট: ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১২:০৫
ঝরঝর ঝরছে শিশির। কুয়াশায় অনেক কাছের জিনিসও চোখে দেখা যায় না। মেঘলা আকাশ। দেখা নেই সূর্যের। ঘন কুয়াশার সাথে উত্তর থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নওগাঁর জনজীবন। গত দু’সপ্তাহ থেকে হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু এ অঞ্চলের মানুষ।
কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করছে ৮ থেকে ১১ ডিগ্রির ঘরে। এবার উত্তরের জেলা নওগাঁয় ৬-এর ঘরে নেমেছে তাপমাত্রা।
আজ বুধবার সকালে বদলগাছী উপজেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটিই চলতি শীত মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
গতকাল মঙ্গলবার এখানে তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।
বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন, আজ সকালে নওগাঁয় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে নওগাঁর ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আরো কয়েকদিন একইরকম শীত থাকতে পারে।
শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সাথে ঠান্ডা বাতাস থাকায় শীতের প্রকোপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। কনকনে শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। নেমে এসেছে তীব্র শীতের ভয়। খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছে বেকায়দায়। সাধারণ মানুষ শীতের কারণে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। আর যারা জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন তাদেরও দুর্ভোগের শেষ নেই।
আজ ভোর থেকেই কুয়াশায় ঢাকা পড়ে আছে পথঘাট। দশ হাত সীমানার মধ্যেও কোনো কিছু দেখা যাচ্ছে না। সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। শহরে লোক ও যানবাহন চলাচল অনেক কম। মাঠে কৃষিকাজ প্রায় হচ্ছেই না। শীতার্ত ও ছিন্নমূল মানুষেরা কনকনে শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষার জন্য অনেকেই বাড়ির আঙিনা, ফুটপাত ও চায়ের দোকানের চুলায় বসে আগুন পোহাচ্ছেন।
নওগাঁ সদরের বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক সামিউল ইসলাম বলেন, অনেক ঠান্ডা পড়েছে। এই ঠান্ডায় জমিতে যেতেই ভয় লাগে। তারপরও যেতে হয়।
শহরের তাজের মোড়ের অটোরিকশাচালক সালাম ও বক্কর বলেন, মাঝে মাঝে ভাবি এই ঠান্ডায় গাড়ি নিয়ে বের হবো না। ঠান্ডার কারণে যাত্রীরাও বের হতে চায় না। তারপরও জীবিকার তাগিদে আমাদের বের হতে হয়।
হাপানিয়া এলাকার বাসিন্দা স্বপন আহমেদ বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই শীতের প্রকোপ আরো বেড়ে যায়। সেই সাথে কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ভোর থেকে এখনো পর্যন্ত কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে চারপাশ।
সূত্র : বাসস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: