জুলাই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে শেখ হাসিনা প্রাণহানিকে বৈধ দাবি করতেন: ড. নকীব
রাবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬ ২২:৫৬; আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ ২৩:৪৪
দেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান যদি ব্যর্থ হয়ে যেত, তাহলে শেখ হাসিনা দাবি করতেন যে দেড় হাজার মানুষের হত্যাকাণ্ড সংবিধান রক্ষার জন্য হয়েছে। তিনি আইনের বাইরে কোনো কাজ করেননি। আইনের কাঠামো ব্যবহার করেই এসব কর্মকাণ্ডকে বৈধ প্রমাণের চেষ্টা করা হতো। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি যাতে আর সৃষ্টি না হয়, সেজন্য রাষ্ট্র ও আইনের সংস্কার অপরিহার্য।”
মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা' শীর্ষক সেমিনারে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব।
তিনি বলেন, মানুষ একসময় কথা বলতে ভয় পেতেন, কিন্তু জুলাই আন্দোলন সেই ভয় ভেঙে দিয়েছে। এ বিপ্লবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো, ভাষাহীন মানুষ ভাষা খুঁজে পেয়েছে। মানুষ এখন প্রতিবাদ করতে শিখেছে। ‘রাজাকার’ বলার যেমন পরিণতি মানুষ দেখেছে, তেমনি ‘ফার্মের মুরগি’ বলে অবজ্ঞা করারও পরিণতি আজ সবাই বুঝতে পেরেছে।”
তিনি আরোও বলেন, “আবারও ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটানোর চেষ্টা চলছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, সেই চেষ্টা সফল হবে না। কারণ আজ মানুষ সচেতন হয়েছে। আমরা ভাষা দিয়ে একে অপরকে যতই আঘাত করি না কেন, আওয়ামী লীগ তার আগের চেহারায় আর ফিরে আসার সুযোগ নেই।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সেতাউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেশের জেন-জি প্রজন্মের তরুণরা যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা থেকে দেশের প্রবীণ নাগরিকদেরও শিক্ষা নেওয়া উচিত।"
গুম ও খুনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তদন্তের সময় সাক্ষীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে যে ভয়াবহতার চিত্র উঠে এসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অনেক মানুষকে কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই তুলে নিয়ে যাওয়া হতো; পরিবারের সদস্যরা বুঝে ওঠার আগেই তারা নিখোঁজ হয়ে যেতেন।”
আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. শাহ্ হোসাইন আহমদ মেহেদী বলেন, “সাধারণত কোনো গণঅভ্যুত্থানের হলে সরকারপ্রধান পদত্যাগ করেন এবং আবার নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু জনগণের বিপ্লব হিসেবে সরকার যখন দমন-পীড়ন, হত্যা ও সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তারা পদত্যাগ শুরু করেন না তখন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। জুলাই বিপ্লবের ৫ আগস্টের পর আমরা শুধু সরকারপ্রধানই নয়, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, এমনকি বিভিন্ন জেলার স্থানীয় পর্যায়ের কমিটির লোকজনকেও পালিয়ে যেতে দেখেছি।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের শাসনামলে গুম, খুন, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে এদেশকে একটি জেলখানায় পরিণত করা হয়েছিল। অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে ‘রাজাকার’ তকমা দেওয়া হতো। তাই আমাদের সেই দুঃশাসন ভুলে গেলে চলবে না।"
এ সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামিক ইতিহাস এবং সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহফুজুর রহমান আখন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাসেম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, লেখক, গবেষক এবং অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: