সম্পদ বাড়বে না বরং কমে যাবে-ডা. জাহাঙ্গীর
নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪১; আপডেট: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:১৮
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেছেন, জনগণ ও আল্লাহ যদি চান আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই, তাহলে আমার সম্পদ বাড়বে না বরং কমে যাবে। জামায়াতে ইসলামী থেকে যারা দায়িত্বশীল পদে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের সম্পদ কখনো বাড়েনি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগরীর পশ্চিম বুধপাড়া, কড়ইতলা মোড়, মেহেরচন্ডী পূর্ব ও উত্তর পাড়া এবং হাজীর মোড় এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভার প্রস্তুতি ও সার্বিক পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেন।
গণসংযোগকালে ডা. জাহাঙ্গীর রাজশাহীর ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে শিক্ষানগরীকে একটি শিল্পসমৃদ্ধ কর্মসংস্থান নগরীতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, রাজশাহী কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার ও শিল্পকারখানা না থাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে রাজশাহীতে আধুনিক কৃষিভিত্তিক এগ্রোবেস ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতের ব্যবস্থা করতে পারলে কৃষক যেমন ন্যায্যমূল্য পাবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজশাহী এখন শিক্ষানগরী থেকে বেকার নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলেও কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশ হয়ে পড়ছে। এ সংকট উত্তরণে রাজশাহীতে একটি পূর্ণাঙ্গ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে শতাধিক ইপিজেড থাকলেও রাজশাহী অঞ্চলে এখনো কোনো ইপিজেড নেই। এখানে ইপিজেড স্থাপন করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বিসিক শিল্পনগরীর দ্বিতীয় প্রকল্পে প্রকৃত শিল্প উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্লট বরাদ্দ নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
হাইটেক পার্ক প্রসঙ্গে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, রাজশাহীর হাইটেক পার্কের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা এখনো অব্যবহৃত পড়ে আছে। এটিকে কার্যকর করা গেলে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে তরুণদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কারিগরি শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য ভাষা দক্ষতা ও ট্রেডভিত্তিক কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। বিদ্যমান টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটগুলোর মানোন্নয়ন এবং নতুন ট্রেড সংযোজনের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা হবে।
স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, প্রতি জেলায় একটি করে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসার জন্য আর ঢাকা বা বিদেশে যেতে হবে না। তিনি বলেন, রাজশাহীতে শিশু হাসপাতালের ভবন নির্মাণ হলেও জনবল সংকটে সেটি এখনো চালু হয়নি। প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর চিকিৎসকরা বিনা পারিশ্রমিকে সেখানে সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন এলাকায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নামে থাকা প্রায় নয় বিঘা জমিতে নতুন একটি সদর হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।
পাশাপাশি নির্মাণাধীন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ দ্রুত শেষ করে তা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত বাজেট বর্তমানের তুলনায় ছয় থেকে আট গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। গণসংযোগে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: