কুষ্টিয়ায় ঈদের নামাজ ঘিরে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১৩
রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ মার্চ ২০২৬ ২১:৩৩; আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ২৩:৪৯
মসজিদ নাকি ঈদগাহ— ঈদের নামাজ কোথায় হবে এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে গ্রামের অধিকাংশ মানুষই এবারের ঈদের জামাতে অংশ নিতে পারেননি।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের চর এলঙ্গী আচার্য গ্রামে এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে বেশীরভাগ কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে বৈরী আবহাওয়া ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ঈদগাহ কমিটি নির্ধারিত সময় পরিবর্তন করে সাড়ে ৯টায় জামাত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে মন্টু প্রামাণিকের নেতৃত্বে একাংশ মসজিদে নামাজ শুরু করে দেয়।
এ নিয়ে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরে ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে অন্যদের মাঠে আসার আহ্বান জানালে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের কারণে গ্রামের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ মানুষই এবার ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি।
আহত রুবেল হোসেন অভিযোগ করেন, বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। অন্যদিকে, জুয়েল নামে অপর পক্ষের একজন দাবি করেন, তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আবহাওয়াজনিত কারণে নামাজের স্থান নিয়ে বিভ্রান্তি থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত নামাজ আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, প্রায় ৫০০ জনের গ্রামটিতে সংঘর্ষের কারণে অন্তত ৪৫০ জন মানুষ নামাজ পড়তে পারেননি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: