মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশে বাড়লো ডলারের দাম

রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬ ২০:০৬; আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ২১:৫২

- ছবি - ইন্টারনেট

প্রায় দেড় বছর স্থিতিশীল থাকার পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মার্কিন ডলারের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি, আগাম এলসির দায় পরিশোধের চাপ এবং প্রবাসী আয় সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বাড়ায় ডলারের দামে এই উত্থান দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দামে প্রবাসী আয় কিনছে ব্যাংকগুলো। ফলে আমদানিতে ডলারের দাম ১২৩ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে।

এক সপ্তাহ আগেও আমদানিতে ১২২ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দাম নিয়েছিল ব্যাংকগুলো। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে আজ সকালে এক আমদানিকারক বলেন, ব্যাংকগুলো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সুযোগ নিচ্ছে। হঠাৎ করে আমদানিতে ডলারের দাম ৫০ পয়সা বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এখন ভোক্তাপর্যায়ে দাম বেড়ে যাবে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রবাসী আয় কিনতে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দাম দিচ্ছে। এর ফলে আমদানিতে ডলারের দর বেড়ে প্রায় ১২৩ টাকায় পৌঁছেছে। এক সপ্তাহ আগেও আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত ছিল। যুদ্ধের কারণে অনিশ্চয়তা সৃস্টি হওয়ায় বিদেশি রেমিট্যান্স হাউসগুলো ডলারের দাম বেশি প্রস্তাব করছে।

আগে ১২২ টাকা দরে ডলার প্রবাসী আয়ের ডলার কেনা যেত। সেটা বেড়ে এখন ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এতে আমদানিতে ডলারের দাম বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের গড় দরও বেড়েছে। গত ৩ মার্চ ডলারের গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৮ পয়সায়।

একজন আমদানিকারক জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কেন্দ্র করে ব্যাংকগুলো হঠাৎ আমদানিতে ডলারের দাম প্রায় ৫০ পয়সা বাড়িয়েছে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামে পড়বে।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, ডলারের দাম ১২৩ টাকার বেশি বাড়বে না, এমন বার্তা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দাম এখনো ১২৩ টাকার ওপরে ওঠেনি। তবে আমদানি দায় মেটানোর চাপ ও সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়বেই। তখন রিজার্ভ থেকেও ডলার-সহায়তা দিতে হবে। তাই ভালো হয় ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করে দিয়ে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top