কঠোর হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

রাজ টাইমস | প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২২ ১৯:০২; আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ১১:১৫

ছবি: প্রতীকী

দেশের শীর্ষ আদালতের চৌহদ্দিতে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, মারামারির পর নড়েচড়ে বসেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। বিচারক, বিচারপ্রার্থী, আইনজীবীদের নিরাপত্তায় আদালত অঙ্গনে চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে তারা। আগামী রবিবার থেকে সে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।

নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বৈঠক করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতাদের সঙ্গে প্রয়োজনে সমন্বিত বৈঠক করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্যের জেরে ছাত্রদলের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। ঘোষিত কর্মসূচিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট, প্রেস ক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদলের কয়েক শ নেতাকর্মীকে সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে অবস্থান নিতে দেখা যায়। দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের মাজারের সামনে থেকে ছাত্রদলের একটি মিছিল মাজার গেট দিয়ে বের হয়ে দোয়েল চত্বরের দিকে যেতে চাইলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।

উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক ও রড দেখা যায়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার এক পর্যায়ে ছাত্রদলের একটি গ্রুপ পিছু হটে সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে ঢুকে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। এর কিছুক্ষণ পর আইনজীবী সামতি ভবনের গ্যাংওয়ের কাছে কয়েকজনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে সবেচেয়ে গুরুতর আহত হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কর্মী নাহিদ চৌধুরী। পরে আহতদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আহত অন্যরা হলেন মিরপুর বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি নাজমুল ইসলাম বাহার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের কর্মী এইচ এম শামীম হোসেন, সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক লাবু ব্যাপারী, ইডেন কলেজের ছাত্রদলের কর্মী জান্নাত।

ঘটনার পরপরই সুপ্রিম কোর্ট, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. বজলুর রহমান, রমনা অঞ্চলের ডিসি, আপিল ও হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে এ বৈঠক হয়।

আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বেলা সাড়ে ১২টায় এ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী রবিবার থেকে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের গেটগুলোতে আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিচারপ্রার্থী, আইনজীবীরা যাতে সুপ্রিম কোর্টে নির্বিঘ্নে, স্বচ্ছন্দে থাকতে পারেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদালত অঙ্গনে যাতে কোনো বহিরাগত লোক ঢুকতে না পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। '

সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আরো সমন্বিত বৈঠক করা হবে বলেও জানান সুপ্রিম কোর্টের এই রেজিস্ট্রার।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ফকির কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে এ ধরনের ঘটনায় আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সিমিতির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানাই। এই সংঘর্ষে যারাই জড়িত থাক না কেন তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। '

তিনি বলেন, 'ঘটনার পরপরই মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছি। পরে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকও করেছি। আগামী রবিবার থেকে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে। মানুষের ভরসার আশ্রয়স্থল সুপ্রিম কোর্টে এসে বিচারপ্রার্থী কোনো মানুষ অনিরাপদ থাকতে পারে না। '

বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও আইনজীবী নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে সমিতির সভাপতি বলেন, 'বিচারপ্রার্থীদের সহজ-স্বাভাবিক চলাফেরার সুযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সুযোগ কেউ বা কোনো পক্ষ না নিতে পারে তার জন্য সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক নিরাপত্তা আরো জোরদার করতে হবে। ' সে কাজে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি সহযোগিতা দেবে বলেও জানান সংগঠনটির সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ফকির।



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top