বালুদস্যুরা তীব্র করছে নদীভাঙ্গন

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৭:৪২; আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০২২ ০৭:৫৫

ফাইল ছবি

দেশের অন্যতম বড় সমস্যা নদীভাঙ্গন। দেশে বাড়ছে সর্বহারা মানুষের সংখ্যা। এই নদী ভাঙ্গনের অনত্যম কারণ বালুদস্যুতা। দেশের বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-জলাশয় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদী ভাঙন তীব্র হয়েছে। খবর যুগান্তরের।

নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি। হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন সড়ক, ব্রিজ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া বৈধ মহাল থেকেও রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো। স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে নামমাত্র অভিযান চালিয়েই দায়িত্ব শেষ করছে। ফলে বন্ধ হচ্ছে না বালুদস্যুদের উৎপাত।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মহিশবাথান, কালনা, কুমিরদহ গিয়ে দেখা গেছে, আত্রাই নদীতে কোনো চর না থাকলেও ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দেদার বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে মহিশবাথান ঘাটের পশ্চিম পাড়ের ৫০০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ আশপাশের কৃষি জমি।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর অববাহিকায় মানিকপুর,কাকারা, ঘুনিয়া, শিকলঘাট, আমানপাড়া, বেতুয়া বাজার, বাটাখালী, করাইয়াঘোনা, রামপুর, পালাকাটা, বাঘগুজারা, কোনাখালী এবং হারবাং ছড়া খাল, ডুলাহাজারা বগাছড়ি খাল, খুটাখালীর ছড়া খাল, ফাঁসিয়াখালী ছড়া খালসহ অন্তত ২৭টি স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙন তীব্র হয়েছে। এছাড়া রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

ভোলায় ভেদুরিয়া থেকে বাঘমারা হয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর গঙ্গাপুর ও লালমোহনের নাজিরপুর, গজারিয়া, চরফ্যাশনের নীলকমল ও ঘোষেরহাট পর্যন্ত ১৫টি পয়েন্টে ড্রেজিং করে বালু তোলা হচ্ছে। এছাড়া মেঘনা নদীর তজুমদ্দিন, মনপুরা ও চরফ্যাশন বেতুয়া পর্যন্ত ১০ পয়েন্টে বালু তোলা হয়।

কুষ্টিয়ার ৫ বালুমহাল থেকে অর্ধশত কোটি টাকার বালু হরিলুট করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। ইজারাবিহীন এসব বালুমহাল থেকে প্রতিদিন প্রকাশ্যে শত শত ট্রাক বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে চলতি অর্থবছরে কুষ্টিয়ার বালুমহাল ইজারা খাত থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ ১৩ হাজার টাকার রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।

বাগেরহাটের আন্ধারিয়া ও ছবাকী নদীসহ খাল ও জলাশয় থেকে অবৈধভাবে ভ‚গর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকার প্রভাবশালীরা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ডিজেল ইঞ্জিনকে স্থানীয় প্রযুক্তিতে ড্রেজার মেশিন বানিয়ে তা দিয়ে রাত-দিন নিরবচ্ছিন্ন বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি নদী, খাল পার্শ্ববর্তী সরকারি সড়ক ও জমিতে ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় প্রযুক্তির ওই ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দে পরিবেশ-প্রতিবেশের মারাÍক ক্ষতি হচ্ছে।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কাজিরখিল এলাকায় খোয়াই নদী থেকে ব্রিজের ৫শ মিটারের মধ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীরক্ষা বাঁধ।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে কাঁঠাল ইউনিয়নের কালির বাজার সংলগ্ন ধলাইমান এলাকার একটি নতুন ঘাট দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু বিক্রি হচ্ছে ওই ঘাট থেকে।

জামালপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রেজার মেশিনে বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় বালুদস্যুরা। নদ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে নদের দুইপাড়ের ফসলি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জামালপুর-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌলি নদীতে অবৈধভাবে তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং করা হচ্ছে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের পৌলি সেতু, আশ্রয়ণ প্রকল্প, বসতবাড়ি ও কাঠ বাগান হুমকির মুখে পড়েছে।

হবিগঞ্জের বাহুবলে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে ছড়া, পাহাড় ও কৃষিজমি কেটে বালু উত্তোলন করে আসছে। উপজেলা প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন, এক্সেভেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করলেও অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা দমছে না।

মূল খবরের লিঙ্ক



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top