জামায়াতের প্রতিশ্রুতি: ৫ লাখ বেকার মাসে ঋণ পাবে ১০ হাজার
রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ২১:০৫; আপডেট: ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ২৩:৩৭
ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাজীবন শেষে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ে ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদে মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে ট্যাক্স ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) বর্তমান হার থেকে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে জামায়াত আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে দলটির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেয় দলটির নীতিনির্ধারক ও প্যানেলিস্ট বক্তারা।
পলিসি সামিটে বিভিন্ন প্যানেল ডিসকাশনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পলিসি ঘোষণা করা হয়। ‘পলিসি সামিট-২০২৬’ এর ঘোষিত পয়েন্টসমূহের অন্যতম হচ্ছে—
১. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
২. ট্যাক্স ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) বর্তমান হার থেকে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে।
৩. স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু করা হবে (এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা এক কার্ডে)।
৪. আগামী ৩ বছরে সব শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ বাড়ানো হবে না।
৫. বন্ধ কলকারখানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে চালু এবং ১০% মালিকানা শ্রমিকদের দেওয়া হবে।
৬. ব্যবসাবান্ধব পলিসি তৈরি করা হবে। সহজ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৭. ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে।
শিক্ষা সংক্রান্ত
৮. গ্র্যাজুয়েশন শেষে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ে ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে সর্বোচ্চ ২ বছর মেয়াদি মাসিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) প্রদান করা হবে।
৯. মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে ১ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়া হবে।
১০. প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়া হবে। গরীবের মেধাবী সন্তানও যেন হার্ভার্ড, এমআইটি, অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজে পড়তে পারে।
১১. ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনোমিক্স কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।
১২. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত বড় কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে।
১৩. সব নিয়োগ হবে মেধাভিত্তিক।স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত
১৪. ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হবে।
১৫. ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে।
১৬. ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভধারণ থেকে শুরু করে শিশুর বয়স দুই বছর বয়স পর্যন্ত মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
তরুণদের জন্য পরিকল্পনা
১৭. দক্ষ জনশক্তি ও জব প্লেসমেন্টের জন্য নতুন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।
১৮. ৫ বছরে ১ কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
১৯. প্রতিটি উপজেলায় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন করা হবে।
২০. প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে ৫ বছরে ৫০ লাখ জব এক্সেস নিশ্চিত করা হবে।
২১. নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ লক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে।
২২. ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে।
২৩. স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু হবে।
আইসিটি ও ভিশন ২০৪০
২৪. আইসিটি সেক্টর উন্নয়নে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করা হবে।
২৫. ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি জব সৃষ্টি ও প্লেসমেন্ট করা হবে।
২৬. ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন করা হবে।
২৭. আইসিটি সেক্টর থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় করার লক্ষমাত্রা গ্রহণ করা হবে।
২৮. আইসিটি খাতে সরকারের ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় সাশ্রয় লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হবে।
২৯. শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে।
রেমিট্যান্স সংক্রান্ত
৩০. দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে ৫-৭ বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি করা হবে।
৩১. অর্থনৈতিক রেমিট্যান্সের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশী প্রফেশনাল, গবেষক, শিক্ষকদের দেশে নিয়ে আসা হবে ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ হিসেবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: