ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে হুমকি

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২১ ১০:২৭; আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২১ ০৪:৫৩

প্রেস ক্লাবে সমাবেশ, কাকরাইলে পুলিশ-ছাত্রদল সংঘর্ষ, নাটোরে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত, আগামীকাল বুধবার সারা দেশে বিএনপির স্মারকলিপি কর্মসূচি। চলতি সপ্তাহে দোয়া, অনশন, মানবন্ধন কর্মসূচি পালন। চিকিৎসকের ভাষ্য, উন্নতি হয়নি— ক্রিটিক্যাল অবস্থায় খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া মনে হয় আর বাঁচবেন না, কালকেও এমপিরা সংসদের সামনে আন্দোলন করেছেন, আজকেও নাকি প্রেস ক্লাবে আন্দোলন আছে, আহারে! সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মনে হয় চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন না, আইনমন্ত্রী তো বলেই দিয়েছেন— যেতে দেবেন না।

আগে বিএনপি কত কিছু নিয়ে হরতাল অবরোধ দিত অথচ দলের নেত্রী মৃত্যুশয্যায়, এখনো এরা শুধু বক্তৃতা’— এমন আলোচনা গতকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড়ে চায়ের দোকানের দুই শ্রমিকের।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে গণমাধ্যমে সবাই চোখ রাখছেন। রাজনীতি থেকে কূটনীতিপাড়া সবারই দৃষ্টি রয়েছে সাবেক এই সেনাপ্রধানের স্ত্রী তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার দিকে। বিএনপিও ব্যানার-ফেস্টুুন নিয়ে কথা বলছে। দলটির দলীয় কার্যালয়ে অনশন ও দোয়ার অনুষ্ঠান করা হয়েছে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য।

খালেদা জিয়াকে বন্দি অবস্থায় রেখে সংসদে যাওয়া সদস্যরাও গত রোববার ফেস্টুুন নিয়ে আলাদাভাবে মুক্তির জন্য দাবি জানিয়েছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের পাঁচটি শরিক দল সরকারের প্রতিনিধির সাথে দেখা করে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছেন।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে করা হয়েছে সমাবেশ। সেখান থেকে আগামীকাল বুধবার সকল জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল দুটি জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

ঢাকায় ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশি হামলায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, অন্যদিকে নাটোরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে এ সমস্ত কিছুতেও ক্ষমতাসীন দল চিন্তিত নয় বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলছেন, ‘খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে সুযোগ দেয়া যায় না, বিএনপি অসন্তুষ্ট হলেও কিছু করার নেই।’

আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি নেতারা সবাই ডাক্তার হয়ে গেছেন, খালেদা জিয়াকে নিয়ে রাজনীতি করছেন।’ আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি এক দফা অথবা ১০ দফা আন্দোলন করুক, তাতে আওয়ামী লীগের কিছু যায়-আসে না। কারণ আওয়ামী লীগ আন্দোলনে ভয় পায় না।’

এদিকে অসুস্থতার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার ১১ মামলার হাজিরার জন্য গতকাল আদালতে যেতে পারেননি। তাই আইনজীবীদের আবেদনে আগামী ১৫ মার্চ ফের দিন ধার্য করা হয়েছে। ৭৬ বছর বয়সি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

গত ১৩ নভেম্বর থেকে তিনি বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই দলটি একাদশ সংসদে নির্বাচনে যায় ড. কামাল হোসেনকে প্রধান নেতা স্বীকৃতি দিয়ে। বসা হয় শেখ হাসিনার সাথে আলোচনায়।

ভরাডুবির পর ছয় সংসদ সদস্যকে পাঠানো হয় সংসদে। এ নিয়ে এখনো দলে বিতর্ক কাটেনি। খালেদা জিয়ার ইস্যুতে বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে এখনো দলে প্রশ্ন। ব্যানার-ফেস্টুুনের অনুষ্ঠানে শুধু হুমকিই দেয়া হয়। কোনো কার্যকর ব্যবস্থায় না নেয়ায় সন্তুষ্ট হতে পারছেন না দলটির নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষও।

ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতা রক্তাক্ত : গতকাল ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাকরাইল রাজমনি হোটেলের সামনে ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশি হামলায় অর্ধশতাধিক নেতা রক্তাক্ত হন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তানজিল হাসান জানান, মিছিল নিয়ে দলটি নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হলে কাকরাইল মসজিদ হয়ে রাজমনি হোটেলের সামনে পৌঁছালে পুলিশ সামনে ও পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বিভিন্ন ইউনিটের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন।

আহত ও রক্তাক্তদের মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা মহানগর পূর্বের আহ্বায়ক খালিদ হাসান জ্যাকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন নাসির, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান মামুন, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাজী সাইফুল ইসলাম, ছাত্রদল কর্মী মো. শামিম হোসেন, রবিউল ইসলাম, মাহাবুবর রহমান, আবদুস সবুরসহ অর্ধশত নেতাকর্মী।

নাটোরে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত : এছাড়া নাটোরে পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সোয়া ১০টার দিকে শহরের আলাইপুর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

বিএনপির আন্তর্জাতিক-বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘আমরা আমাদের নেত্রীর সুচিকিৎসার জন্য যে আন্দোলন করছি সেটার ফল পেতে চাই। আপনারা আপনাদের কাঁথা-বালিশ নিয়ে তৈরি হোন, বাড়ির কথা ভুলে যান, রাস্তায় স্থায়ীভাবে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিন। তাহলে আন্দোলনে সফল হবো। আপনারা সবাই জানেন, এগুলো কিছুই নয়, শুধু অজুহাত। শীর্ষ সন্ত্রাসী, বহু খুনের ফাঁসির আসামিকে রাতের আধারে ঢাকা সেন্ট্রাল জেল থেকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। যখন শীর্ষ সন্ত্রাসী, ফাঁসির আসামির দণ্ড মওকুফ করে দেন, তখন বর্তমান প্রেসিডেন্ট কোনো আইন দেখান না।

সরকারের উদ্দেশে ইশরাক বলেন, ‘আপনারা দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েন না। এখনো সময় আছে দয়া করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দিন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘বিদেশে চিকিৎসা করানোর সুযোগ না দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

তিনি সরকারকে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে প্রমাণ করুন, তার প্রতি আপনাদের কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের আর কোনো কথা নেই। কথা একটাই, নেত্রীকে মুক্তি দিয়ে বাইরে চিকিৎসার অনুমতি দিতে হবে। মুক্তি পেলেই আমরা তার চিকিৎসা করাতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বাধা অনৈতিক। এটি একটি সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সরকারের চক্রান্ত।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে দ্রুত মুক্তি না দিলে কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি দেবেন তারা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন আর কোনো পথ খোলা নেই। আমাদের সামনে একটাই পথ— আন্দোলন, আন্দোলন আর আন্দোলন। এ আন্দোলনকে তীব্র করে সামনের দিকে আরও বেগবান করতে হবে।’

এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপির আন্দোলনে কিছু যায়-আসে না। বিএনপি এক দফা অথবা ১০ দফা আন্দোলন করুক, তাতে আওয়ামী লীগের কিছুই যায়-আসে না। কারণ আওয়ামী লীগ আন্দোলনে ভয় পায় না।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বিস্তারিত বলতে পারবেন, তাকে ফোন দিতে পারেন। আমি শুধু এইটুকু বলব, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা মনে হয় কোনো উন্নতি হয়নি। তিনি এখনো ক্রিটিক্যাল অবস্থার মধ্যেই আছেন।’




বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top