জামায়াতের উত্থান ॥ রায় তরুণদের হাতে

রাজশাহীর ৬টি আসনেই বিএনপির বিভাজন

শাহ্ সুফি মহিব্বুল আরেফিন | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:১০; আপডেট: ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:১১

ফাইল ফটো

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিটি আসনেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে সামগ্রিকভাবে ছয়টি আসনেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, মনোনয়ন বিতর্ক ও তৃণমূল অসন্তোষে জর্জরিত। অপরদিকে একক প্রার্থী, সংগঠিত কাঠামো এবং আগাম মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির কারণে জামায়াতে ইসলামী তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু আসন পুনরুদ্ধারের লড়াই নয়; বরং রাজশাহীর রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের পরীক্ষা। দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ভোটারদের অংশগ্রহণ ও মনোভাবেও পরিবর্তনের আভাস মিলছে। বিশেষ করে নতুন ও তরুণ ভোটাররা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠছেন।

রাজশাহী-১: দলীয় অন্তর্কলহে বিপর্যস্ত বিএনপি
গোদাগাড়ী-তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-১ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ১২টি নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পাঁচবার করে জয়ী হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী একবার এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একবার বিজয়ী হন। তবে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী জয়ী হন। ২০২৩-২৪ সালে ভোটার ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ২১৮ জন। এবছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩৬২ জন। এক বছরে ২৮ হাজার ১শ ৪৪ জন নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় তরুণ ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবার এসব ভোটারা আগামী নির্বাচনে যথেষ্ট প্রভাব রাখবে।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন। তবে মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই দলটির ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক নেতার মধ্যে বিশেষ করে শরিফ উদ্দিন ও গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সদস্য সুলতানুল ইসলাম তারেকের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। কয়েক দফা সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনাও ঘটে। মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই কয়েকটি ইউনিয়নে শরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না এবং এলাকায় তেমন পরিচিত নন। স্থানীয় যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও ওঠে।

অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। ১৯৮৬ সালে তিনি এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাকে কেন্দ্র করেই দলটি ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছে। গোদাগাড়ী-তানোর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও কর্মীসভা করছে জামায়াত। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চেয়ে তারা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। উন্নয়ন ঘাটতির অভিযোগ ও তরুণ ভোটারদের ‘পরিচ্ছন্ন ইমেজ’ চাওয়ার প্রবণতা জামায়াতের পক্ষে জনমত বাড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিতর্কিত মেয়াদের শাসনে উন্নয়ন ঘাটতির অভিযোগ ও তরুণ ভোটারদের ‘ক্লিন ইমেজ’ চাওয়ার প্রবণতা জামায়াতের পক্ষে জনমত বাড়াচ্ছে।

রাজশাহী-২ (সদর): হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
রাজশাহী সিটি করর্পোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-২ আসনটি ছয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৩ জন। শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত, তরুণ, চাকরিজীবী ও নারী ভোটারের অংশগ্রহণ এখানে তুলনামূলক বেশি।
আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে সুবিধা দিলেও দলের ভেতরে চাপা বিরোধিতা রয়েছে। অভিযোগ আছে, তিনি দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন না এবং জুলাই বিপ্লবসহ সাম্প্রতিক আন্দোলনে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এখানকার বিএনপির জন্য বড় দুর্বলতা। ২০২১ সালে মহানগর বিএনপির বুলবুল-মিলন কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর রিজভী অনুসারীদের নিয়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। এতে মিনু অনুসারীদের কাউকে রাখা হয়নি। ফলে মহানগর বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভক্তি বিরাজ করছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। সংগঠনের শক্ত অবস্থান, নিয়মিত প্রচারণা এবং সাম্প্রতিক জনমতের কারণে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাগরিক ইস্যু, দলীয় কোন্দল ও আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের অবস্থান সব মিলিয়ে এই আসনে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল।

এদিকে রাজশাহী-২ আসনে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)র মনোনয়ন পেয়েছেন রাজশাহী মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মোবাশ্বরে আলী। এছাড়া খেলাফত মজলিস, বাসদ, গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীদের নাম সামনে আসলেও তাদের কোন প্রচার-প্রচারণা নেই।

রাজশাহী-৩: একক প্রার্থীতে এগিয়ে জামায়াত
পবা-মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৬ হাজার ৯০৯ জন। নগর ও গ্রামীণ ভোটারের সমন্বয়ে এখানে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিএনপির এক সময়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে এবার ভিন্ন চিত্র। একক প্রার্থী নিয়ে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে জামায়াতে। অপর দিকে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা-কর্মীদের অসন্তোষ আর অসহযোগীতায় বেকায়দায় বিএনপি। বিএনপির প্রার্থী নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন। তার মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলে তীব্র বিরোধিতা রয়েছে। মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাকর্মীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ, মিছিল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের অভিযোগ শফিকুল হক মিলন দীর্ঘদিন স্থানীয় রাজনীতিতে অনুপস্থিত ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে মনোনয়ন আদায় করেছেন। ফলে তৃণমূলে তার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। তিনি টানা ২৭ বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় সরকারের সময়েই তিনি জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হন। একক প্রার্থী ও সংগঠিত কাঠামোর কারণে জামায়াত এখানে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে।

রাজশাহী-৪: বিএনপির ভাঙনে সুবিধায় জামায়াত
বাগমারা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে বিএনপির তৃণমূল বিভক্তি প্রকট। মনোনয়নপ্রাপ্ত ডিএম জিয়াউর রহমানকে ঘিরে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও দলীয় বিরোধীদের ওপর হামলার অভিযোগ দলটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ঐক্য ফিরাতে ব্যর্থ হলে জামায়াত এখানে এগিয়ে যাবে। তবে নাগরিক কমিটি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, বাসদ, গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীদের নাম সামনে আসলেও তাদের কোন প্রার্থী বা দলের প্রচার-প্রচারণা নেই। নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।
এক সময় ‘রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত বাগমারা আসনটি ২০০৮ সালে গঠিত হয়। এর আগে মোহনপুর-বাগমারা উপজেলা নিয়ে ছিল রাজশাহী-৩ আসন। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌর এলাকা নিয়ে গঠিত। ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬ শ ৬৪। বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় তৃণমূলে বিভক্তি স্পষ্ট। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সমর্থকদের মধ্যে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য গ্রুপিং তৈরি হয়েছে। যা দলীয় ঐক্যের ঘাটতির পাশাপাশি নির্বাচনী কৌশলে বিএনপিকে যথেষ্ট চাপে ফেলেছে। জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিরা একাট্টা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন ১৯৯০ দশকের মতো বাগমারা যেমন চরমপন্থী, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, সর্বহারার ঘাঁটি ছিল তেমনি আবার ফিরে আসে কিনা?

অপর দিকে একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে সক্রিয় জামায়াতে ইসলামী। দলটি দীর্ঘদিন ধরেই বাগমারা এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করে আসছে। উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ভবানীগঞ্জ ক্লিনিকের পরিচালক ডাঃ আব্দুল বারী। তিনি ইতোমধ্যে চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এই আসনটি জামায়াতের দখলে রইবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট দলের নেতৃবৃন্দর।

রাজশাহী-৫: একাট্টা জামায়াতে বাড়ছে জনসমর্থন
পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৫ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৩ জন। বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল। মনোনয়ন ঘোষণার পর জনগণ থেকে ‘বিচ্ছিন্ন’ আখ্যা দিয়ে দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মীরা রাজপথে বিক্ষোভ করেছেন। ফলে আসনটিতে বিএনপির রাজনীতি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে দলীয় ঐক্য ও সংগঠিত কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী এই পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষনে দেখা যায়, অনৈক্যে ভেঙ্গে পড়ছে বিএনপির এক সময়ের শক্ত ঘাঁটি। আর একাট্টা জামায়াতে জনসমর্থন বেড়েই চলেছে। দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হওয়ায় তরুণ ভোটাররা এখানে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছেন।

১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রয়াত নেতা অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা টানা দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৮ ও ২০১৮ সাল ও এবার মনোনয়ন পান পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। অপর দিকে বিএনপির মনোনয়ন পেতে মাঠে নামেন অন্তত হাফ ডজন প্রার্থী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন আবারও নজরুল ইসলাম মণ্ডলকে দেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। গত ২০ ডিসেম্বর দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে নাঈম মোস্তফার পক্ষে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান বহু নেতা-কর্মী। এতে স্পষ্ট হয়, মাঠপর্যায়ে নজরুল ইসলাম দলীয় সহযোগিতা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে। অপর দিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে পুঠিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মনজুর রহমান নিয়মিত গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি চালাচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচারণা চালানোয় দলটির জনসমর্থন বাড়ছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

রাজশাহী-৬: নীরব বিভক্তিতে বিএনপি, শক্ত অবস্থানে জামায়াত
সংসদীয় ছয়টি আসনের মধ্যে সীমান্তঘেঁষা চারঘাট-বাঘা উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৬। ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখের কাছাকাছি। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে আম, পান, ধান ও সবজি উৎপাদনই অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। ভোটের রাজনীতিতে এখানে ব্যক্তি-ইমেজ, সাংগঠনিক শক্তি এবং দলীয় ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই আসনে বিএনপির মধ্যে এখনো প্রকাশ্য সংঘাত বা বড় ধরনের উত্তেজনা দেখা যায়নি। তবে ভেতরে নীরব অসন্তোষ ও বিভক্তি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আর নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতের উভয় প্রার্থী সমানভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন আবু সাঈদ চাঁদ। দলীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তার পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় রয়েছে। তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয় গত ১৭ ডিসেম্বর। ওইদিন চারঘাট উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল। এতে করে আসনটিতে বিএনপির ভেতরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। উজ্জল ছাড়াও আসনে আরও কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। জেলা বিএনপির কতিপয় নেতার দখলবাজী- চাঁদাবাজীর কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আবু সাঈদ চাঁদের বিরুদ্ধে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হক। যিনি রাজশাহী পূর্ব জেলার সহকারী সেক্রেটারি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিত মুখ। জামায়াত এখানে তুলনামূলকভাবে সংগঠিত ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভর করে এগোচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির ভেতরের বিভক্তি বাড়লে জামায়াতের ভোট এককভাবে কেন্দ্রীভূত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে সাধারণত বিজয়ের ব্যবধান খুব বেশি নয়, ফলে সামান্য ভোট স্থানান্তরই ফলাফল বদলে দিতে পারে।

রাজশাহীর ছয়টি আসনেই নতুন-তরুণ ভোটার, আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের অবস্থান এবং ভোটার উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি দ্রুত অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারে, তবে একক প্রার্থীর সুবিধা নিয়ে জামায়াত ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারে। আর শেষ পর্যন্ত বিএনপি দ্রুত কোন্দল নিরসন করে ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে লড়াই হবে হাড্ডা-হাড্ডি। এদিকে দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন ভোটাররা। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা। তারা দলীয় কোন্দলের রাজনীতি নয়, বরং এমন একজন প্রার্থী চান যিনি নির্বাচিত হয়ে দল বা গোষ্ঠীর নয় বরং সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন।

 



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top