জঙ্গি শব্দটি এখন আর নেই, ওটা রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজটাইমস ডেস্ক: | প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০০; আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৪৪
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমানে দেশে জঙ্গিবাদের কোনো বাস্তব পরিস্থিতি নেই। অতীতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য জঙ্গি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে বর্তমান কালচারে এমন শব্দ (জঙ্গি) নাই। আগে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে জঙ্গি শব্দটা ব্যবহার করা হতো। ফ্যাসিবাদী আমলে এ শব্দের নানা ব্যবহার চলতো। কিছু উগ্রবাদী মানুষ সবখানেই থাকে, তবে ওই শব্দটা এখন আর নাই। আমরা ওটা আর বলতে চাই না।
তিনি আরো বলেন, আমি ওই শব্দকে এখন আর স্বীকৃতি দেই না। আমাদের দেশে বর্তমানে এ ধরনের কোনো তৎপরতা নেই। পৃথিবীর সব দেশেই কিছু চরমপন্থি বা র্যাডিক্যাল গ্রুপ থাকতে পারে, তবে সেটাকে জঙ্গিবাদ বলা যাবে না।
সব বাহিনীতেই নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স বা গোয়েন্দা শাখা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, কেউ যদি কোনো ধরনের উগ্রবাদী কার্যক্রম করার চেষ্টা করে, তবে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এ সময় পুলিশ সদর দফতর থেকে নিরাপত্তা জোরদার সংক্রান্ত কোনো চিঠির বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। তবে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় স্বাভাবিক নিয়মেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয় বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
এর আগে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়নের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই বাহিনীতে হেলিকপ্টার, মেরিটাইম সার্ভেইলেন্স সিস্টেম ও অত্যাধুনিক ড্রোন যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ছাড়া বাহিনীর সদস্য সংখ্যা পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি সরকারের আমলে বেগম খালেদা জিয়া কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই বাহিনী এখন জনগণের আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে। গত এক বছরে সুন্দরবন এলাকায় ৩৫টি সফল অভিযান চালিয়ে ৩০ জন জিম্মিকে উদ্ধার করাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই বাহিনীর অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, দেশের স্বার্থে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এ পর্যন্ত বাহিনীর ১৬ জন সদস্য প্রাণ দিয়েছেন। জনবল সংকট দূর হলে এই বাহিনী আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে সেনাবাহিনীর মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে তাদের প্রত্যাহার করা হচ্ছে। শিগগির এ মোতায়েন আরো সীমিত হয়ে আসবে।
তিনি আরো জানান, জাতীয় দিবস বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। দেশের উপকূলীয় ও দুর্গম জলপথ এলাকায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: