প্রতিশোধ নিতেই খুন শিশু আদিবকে
রাজশাহীতে 'ক্লু-লেস' হত্যার রহস্য উন্মোচন
নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২৬ ১৮:৪০; আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ২১:১৮
রাজশাহী মহানগরীর কর্ণহার থানা এলাকার বহুল আলোচিত 'ক্লু-লেস' শিশু আদিব আহনাফ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। একটি অনৈতিক সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেওয়ার জের ধরে আক্রোশ ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ১১ বছরের শিশু আদিবকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এক কিশোর।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১ মার্চ তারাবির নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় শিশু আদিব আহনাফ। পরদিন সকালে কর্ণহার থানাধীন বিলধর্মপুর গ্রামের কৈচাপুকুর এলাকার ঘাসক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় প্যান্টের বেল্ট পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শুরুতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কর্ণহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুন অভিযানে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও জড়িত এক ১৪ বছরের কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২২ জুন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে, সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই কিশোর জানায়, এক মেয়ের সাথে তার শারীরিক সম্পর্কের কথা ভিকটিম শিশু আদিব জেনে যায় এবং তা ওই মেয়ের মাকে জানিয়ে দেয়। পরে মেয়ের মা বিষয়টি অভিযুক্ত কিশোরের মাকে জানালে, তার মা তাকে ব্যাপক মারধর করে। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই সে হত্যার পরিকল্পনা করে। রমজান মাসে আদিব তারাবির নামাজ পড়তে বের হলে, অভিযুক্ত কিশোর কৌশলে তাকে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে আদিবের মাথায় আঘাত করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় সে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোমরের বেল্টটি উদ্ধার করা হয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: