বাঘায় খাল খননের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৮:৪৮; আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৫:৪৪

খাল খননের দাবিতে বাঘায় মানববন্ধন

“কৃষক বাঁচাও-দেশ বাঁচাও’’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর বাঘায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল খননের দাবিতে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় উপজেলা কৃষকলীগের আয়োজনে খাল খনন এলাকার শত-শত নারী,পুরুষ এই মানব বন্ধনে অংশ গ্রহন করেন।

বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত আ’লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন নওটিকা, আরিপপুর, বেলগাছি, বারখাদিয়া, হিজোল পল্লী ও তেপুখুরিয়া-সহ ৬ টি বিল এলাকার শত-শত কৃষক ও নারী পুরুষ।

সভায় শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি প্রভাবশালী মহলের দায়ের করা মামলা ও বাধার মুখে প্রায় আড়াই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে দুই কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত (বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের) খাল খনন প্রকল্প। এর ফলে জলাবদ্ধতায় তলিয়ে রয়েছে প্রায় ৩ শ’ বিঘা জমির ধান সহ অন্যন্য ফসল। অথচ এই প্রকল্পটির ফলক উন্মোচন করেছিলেন স্থানীয় সাংসদ ও বর্তমান সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শাহরিয়ার আলম।

সভায় খাল খনন প্রকল্প এলাকা বাজুবাঘা ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, উপজেলার মশিদপুর পদ্মা নদীর মুখে রয়েছে একটি সুইচ গেট। সেখান থেকে শুকনো মৌসুমে বিলে পানি রাখা এবং বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি নিস্কাশনের জন্য স্থানীয় সাংসদের কাছ থেকে সুপারিশ নিয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি প্রকল্প অনুমোদন নিয়ে গত প্রায় আড়াই বছর পূর্বে ৭ টি ভাগে জায়গা ভাগ করে খাল খনন কাজ শুরু করা হয়। এ প্রকল্পে ১০০ ভাগ কাজের মধ্যে ৮০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্য করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং কতিপয় ব্যক্তির বাধা ও আদালতে ডোবাকে ধানী জমি উল্লেখ করে মামলা করায় এ কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। তিনি এ বিষয়ে সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

আয়োজিত মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, বাঘা পৌর কৃষক লীগের সভাপতি বাদশা আলম ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান মিলন সহ অত্র এলাকার শত-শত কৃষক ও নারী পুরুষ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, এই এলাকায় নদীর সাথে বিলকে সম্পৃক্ত করে গত আড়াই বছর পূর্বে সরকারিভাবে খাল খনন শুরু করা হয়েছিল। মোট ৮ কিলোর মধ্যে ৬ কিলো খনন শেষে হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু সংক্ষক মানুষ খাল খননে বাধা দেয়া সহ আদালতে মামলা করায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যাই।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, আমি সরেজমিন জলাবদ্ধতায় নিমর্জিত বিলগুলো পরিদর্শন করেছি। একদিকে খাল খনন বন্ধ, অন্য দিকে অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন করায় কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা নিয়েছে। তাঁর মতে, জনস্বার্থে এই খালটি সম্পন্ন করা খুবই জরুরী।

 



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top