কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে শীতের আগমনী দিচ্ছে রাবি ক্যাম্পাস

রাবি প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২২ ১১:০২; আপডেট: ২৮ জানুয়ারী ২০২৩ ১৮:২২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড

হেমন্তের ভোরে শিশির সিক্ত দূর্বা ঘাস ও পথঘাট। সূর্যের আলোতে শিশিরদানাগুলো মুক্তার মতো জ্বল জ্বল করে জানান দিচ্ছে, শীত এসেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ঘাসের উপর চাদর বিছিয়ে আছে ভোরের শিশিরকণা।

উঁচু উঁচু গগনচুম্বী গগণশিরিষ গাছের ডাল-পাতা ভেদ করে চলছে সূর্যকিরণের উঁকিঝুঁকি। ঠিক এমন চিত্রের দেখা মিলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আনাচে-কানাচে। গাছে গাছে পাতা ঝড়ার উৎসব, ঘাসের ডগায় ডগায় শিশিরের আঁকিবুঁকিতে যেন শীতের চরম মুগ্ধতা অনুভূত হয়।

হেমন্তের স্নিগ্ধতা পেরিয়ে শীতের এই মৌসুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেতেছে শীতের আমেজে। এ সময়ে শিক্ষার্থীরা মিলে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে কাঠ পোড়ানো আগুনকে ঘিরে বসে গানের আসর, অন্ধকারে আলো জ্বালিয়ে নেমে যায় শাটলের প্রতিযোগিতায়, কুয়াশায় চাঁদর মুড়িয়ে মধ্যরাতে ঘুরে বেড়ানোসহ তাদের পাওয়া যায় বিভিন্ন আঙ্গিকে। চলতে থাকে ভার্সিটির লোগো ও নাম সংবলিত হুডি বানানোর ধুম, চলে ভ্রমণের নানা পরিকল্পনা। কুয়াশার আবরণে ঢাকা ক্যাম্পাসের তরুলতা, শিশির ভেজা পথঘাট আর পাখির কলতানে মুখর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রান্তর।

৭৫৩ একরের সবুজে ঘেরা এই ক্যাম্পাসের টুকিটাকি চত্বর, প্যারিস রোড, বুদ্ধিজীবী চত্বর, আমতলাসহ পুরো ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা দেখে মনে হতে পারে এ শহর যেন এক স্বর্গ। প্রকৃতির প্রাচুর্যতায় ভরপুর এ ক্যাম্পাসটিতে রূপ লাবণ্যের কোনো ঘাটতি হয় না কখনোই। শীতে ক্যাম্পাসটির প্রকৃতি ও পরিবেশ সেঁজে ওঠে অন্যরকম সাঁজে।

এ ঋতুতে ক্যাম্পাসের রঙ-বেরঙের ফুল যেন সবার মন কাঁড়ে। গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, অ্যাস্টার, সিলভিয়া, জিনিয়া, গাঁদাসহ নানান প্রজাতির ফুলের সৌরভে মুখরিত হয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি অঙ্গন।

শিক্ষার্থীরাও বেশ আনন্দ ও উচ্ছ্বাস নিয়েই উপভোগ করে প্রকৃতির এই শীত শীত অনুভূতি। টুকিটাকিতে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মিশন কুমার মহান্ত বললেন, ‘ শীতের সকালের এক কাপ চা অতৃপ্ত মনকে নিমিষেই তৃপ্ত করে সজীবতা ফিরিয়ে মৃদু আনন্দ ডেকে আনে। শীত যদিও সবার জন্য একটু কষ্টকর। তবুও ক্যাম্পাসে শীতের আমেজ ভালোই লাগছে। সবাই মিলে যখন শীতের সন্ধ্যা ভাগাভাগি করে নেয় তখন আনন্দের ঘনঘটা বেড়ে যায় আরো এক ধাপ।

এদিকে আবার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেই বাহারি পিঠার গন্ধে মৌ মৌ করে ওঠে পশ্চিমপাড়া। বিকেলে বিকেলে বসে বাহারি পিঠার মন মাতানো সব উৎসব। আর শীতের এই পিঠার স্বাদ নিতে সারাক্ষণ দোকানগুলোতে ভিড় করে থাকে শিক্ষার্থীরা। কেউবা দাঁড়িয়ে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পিঠা খাওয়া নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খুঁনসুঁটি শুরু হয়ে যায়। কে কয়টা পিঠা খেতে পারবে, তা নিয়েও হয়ে যায় অপরিকল্পিত ছোট-খাটো প্রতিযোগিতা। তখন পরিবার ছেড়ে শত শত মাইল দূরের ক্যাম্পাসই যেন হয়ে ওঠে আরেকটা পরিবার।

পিঠা খেতে খেতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম বলেন, নানা ধরনের পিঠার আমেজে মনকে বাঁধা দিতে না পেরে পশ্চিমপাড়ায় আসলাম পিঠা খেতে। সন্ধ্যায় কুয়াশায় মোড়ানো এই শীতে উষ্ণ কাপড় জড়িয়ে বন্ধুদের সঙ্গে পিঠা খাওয়ার মজায় আলাদা। যদিও পিঠা পেতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। তবুও এটা আমার কাছে বেশ উপভোগ্য।
 
এভাবেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের কাছে শীত হয়ে উঠেছে চরম উপভোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে একটা সময় প্রচণ্ড শীতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটে। হাড় কাঁপানো শীতের মাঝে উষ্ণ বেড ছেড়ে যেতে হয় ক্লাস করতে, কারো বা থাকে পরীক্ষা।

এনএ



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top