ইবি শিক্ষিকা হত্যার বিচার দাবিতে ফটকে তালা
ইবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২১:১৫; আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৫৫
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচার দাবিতে প্রশাসন ভবন ও প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রশাসন ভবন প্রাঙ্গণে সমবেত হয় শিক্ষার্থীরা।
এসময় শিক্ষার্থীরা ‘রাশি লাগলে রশি নে, খুনিদের ফাঁসি দে, প্রশাসনের অনেক গুন দিন-দুপুরে মানুষ খুন, দিন দুপুরে মানুষ মরে প্রশাসন কী করে, আমার ম্যাম কবরে খুনি কেন বাহিরে, দিয়েছি তো রক্ত আরও দেব রক্ত, প্রশাসন ভূয়া ভূয়া শ্লোগান দেয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে তালা লাগিয়ে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে। একইসাথে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকেও তালা দেয়। এসময় শিক্ষার্থীরা রুনা হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত বিচার, রুনার পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন একটি হল রুনার নামে নামকরণ এবং বিভাগের চলমান সকল সংকট নিরসনের দাবি জানায়।
পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ও ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা আন্দোলনস্থলে এসে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানালে ও শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে ফটকের তালা খুলে দেয় শিক্ষার্থীরা।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফজলু এখনো কথা বলতে না পারায় আমরা তার জবানবন্দি নিতে পারিনি। এছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামীকে ধরতে আমরা একাধিকবার বিভিন্ন লোকেশনে অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু তাদের পাওয়া যায়নি, ফোনগুলোও বন্ধ। তারা যাতে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য আমরা প্রতিটি ইমিগ্রেশনে মামলার রেফারেন্সসহ চিঠি দিয়েছি। পাশাপাশি র্যাবের মাধ্যমেও তাদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। তবে তদন্তে যদি কোনো ত্রুটি থাকে, বাদী চাইলে স্পেশালাইজড টিমের কাছে মামলা হস্তান্তরের আবেদন করতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি খুব দ্রুতই তাদের রিপোর্ট পেশ করবে, বিভাগের শিক্ষক সংকট নিরসনের জন্য খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, আসমা সাদিয়া রুনার নামে একটি হলের নামকরণের প্রস্তাব আমি নিজেই করবো, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক মৃত্যুবরণ বা হত্যার পরে আইনানিকভাবে যতটুকুই প্রাপ্য তার জন্য শিক্ষিকার পরিবার আবেদন করেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ সহ তা পূরণ করবো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়া হলে রুনার স্বামীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: