দ্রুত রেজাল্টের দাবি ইবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের
ইবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩৭; আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৩৬
বিভাগের এক শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে খাতা আটকে রাখায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ফলাফল আটকে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকা হলেন সহযোগী অধ্যাপক মোসাঃ দিলসাদ সুরমা। উক্ত বিভাগের একাডেমিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে খাতা প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রায় আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি খাতা জমা দেননি বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এতে তারা চরম সেশনজট ও ভোগান্তিতে পড়েছে।
বিভাগের শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, বিভাগের সভাপতি ও পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদের কাছে সকল শিক্ষক ফলাফল জমা দিলেও একটি কোর্সের ফলাফল এখনও পাননি তিনি। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষিকার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নিজের আটকে থাকা প্রমোশন না পেলে তিনি শিক্ষার্থীদের খাতা দিবেন না বলে জানান। দ্রুত স্নাতক শেষ করার তাগিদে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা গত ১৩ এপ্রিল উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করলে তিনি বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন এবং বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে গতকাল ১৮ এপ্রিল বিভাগীয় সভাপতি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রস্তুতির কাজ শুরু করবেন বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উক্ত বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মাশরাফি জিম জানান, বিভাগের মেয়েরা ম্যামের সাথে প্রথমে দেখা করেছে, এবিষয়ে আমি ভালো বলতে পারবো না।
বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের তানজিলুর রহমান বলেন,আমাদের ফেব্রুয়ারীর ৭ তারিখে চতুর্থ বর্ষ প্রথম সেমিস্টার শেষ হলেও একজন ম্যাম রেজাল্ট আটকে রেখেছেন। তার কাছে আমরা বেশ কয়েকদিন ঘুরেছি এবং আমরা বিভাগেও গিয়েছি।
যতটুকু আমরা জানতে পারলাম যে প্রমোশনের জন্য আমাদের খাতা বা রেজাল্ট আটকে আছে। এবং এই বিষয়ে ম্যামের সাথে যোগাযোগ করলে ম্যাম বলেছেন যে তোমরা বিভাগীয় প্রধানের সাথে যোগাযোগ করে ভিসি স্যারের সাথে দেখা করো তারপরে তোমাদের রেজাল্ট পাবা।
বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, দিলসাদ সুরমা ম্যাম এখনও খাতা জমা না দেওয়ায় রেজাল্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উনাকে আমরা গতকালও এ বিষয়ে জানিয়েছি। তিনি খাতা জমা দিলে আমরা অতিদ্রুত রেজাল্ট প্রকাশ করতে পারবো বলে আশা করছি।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোসাঃ দিলসাদ সুরমা বলেন, আমি পরীক্ষার খাতা আটকে রাখেননি। খাতা দেখার কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তা কেবল মার্কশিট প্রসেসিং পর্যায়ে রয়েছে। রেজাল্ট প্রকাশের বিষয়টি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি দেখবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: