নিয়োগ-আন্দোলনে আলোচনায় রাবি: শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া কি?

কে এ এম সাকিব, রাবি | প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২১ ১৬:৩৫; আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২১ ০৫:২৭

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন পরপরই দফায় দফায় আন্দোলনে নামে অ্যাডহকের ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া বিতর্কিত নিয়োগপ্রাপ্তরা। কখনো প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে, কখনো উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে তাদের দাবি আদায়ে একাট্টা। এই নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী এটাকে অযৌক্তিক আন্দোলন বলে অভিহিত করেন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম-সুখ্যাতি ও ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলেও দাবি করেন।

আইন বিভাগের ৩য় বর্ষের এক শিক্ষার্থী শাহরুক মাহমুদ বলেন, রাবিতে চলমান আন্দোলন সত্যিই দৃষ্টিকটু , কেননা নিয়োগে সাবেক ভিসির দূর্নীতির বিষয়টি সকলের সামনে উঠে এসেছে এবং এই বিষয় নিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে যা পরবর্তীতে প্রচুর ঝামেলার সৃষ্টি করে। যেহেতু বিষয়টি এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে আশা করি তারা বিশ্ববিদ্যালয় বান্ধব সিদ্ধান্ত নিবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তারিফ হাসান মেহেদী বলেন, একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমি সবসময় চাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাক শিক্ষা ও গবেষণায়।সাম্প্রতিককালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত।একটি স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চরম অসংঙ্গতি বহিঃক্ষেত্রে আমাদের লজ্জিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন,সিনেট ভবনসহ বেশকিছু ভবনে কয়েকবার তালা ঝুলানোর ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন দাবীর প্রেক্ষিতে। কখনো দাবিগুলো ছিল যৌক্তিক কখনো বা অযৌক্তিক। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবীগুলোর পক্ষে সবসময় অবস্থান করি আর করে যাবো। এ সকল অংসঙ্গতি দূর করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে আবারো এগিয়ে যাক এটাই প্রত্যাশা করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, আসলে আন্দোলনটাই অযৌক্তিক অনেকটা। একটা পত্রিকা মারফত দেখলাম,ফাইন্যান্স কমিটির সভা স্থগিতে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। এ ক্ষতি তো সামগ্রিকভাবে আমাদের। আমরা চাই না বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হোক।

ছাত্র ফেডারেশন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসাইন মিলন বলেন, আমরা দেখছি গত কয়েকদিন ধরে একদল নিয়োগপ্রাপ্ত গোষ্ঠি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন, সিনেট ভবনে তালা লাগিয়ে রাখা হয়েছে, রুটিন ভিসি ড. আনন্দ কুমার সাহার বাসভবনে তালা লাগিয়ে রাখা হয়েছে। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কাছে এক প্রকার অসহায়ত্ব বরণ করে নিয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা কেন এমন কাজ করছে৷ তার উত্তর আসলেই সকলের জানা। আমাদের সদ্য সাবেক ভিসি তার মেয়াদের শেষদিন অবৈধভাবে এদেরকে নিয়োগ দিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করেছে৷ এবং অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া শিক্ষামন্ত্রণালয় তদন্ত করে তাদের চাকরিতে যোগ দান করা স্থগিত করেছে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি এই নিয়োগ অবৈধ বলে দাবি করেছে৷ ফলে স্বাভাবিক অর্থেই এদের চাকরিতে যোগদান করার কোন প্রকার নৈতিক ও আইনী ইখতেয়ার নাই। এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পেলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাবে৷ ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত হবে এরা যাতে কোনভাবে চারকিতো বহাল থাকতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।

তবে এই অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার যে নীতি গ্রহণ করেছে তা নিঃসন্দেহে ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এতোদিন ধরেও এই সমস্যার সমাধান করতে না পারার মধ্যদিয়ে তারা তাদের দায়িত্ব অবহেলা এবং অদক্ষতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে বলে আমার মনে হয়। যার ফলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ ভীষণভাবে লজ্জিত।
আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী বলেন, এম এইচ মিনাল বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। এই মেরুদন্ডের ধারক হলেন শিক্ষক সমাজ। আমরা উচ্চশিক্ষার পাঠ পড়ে আর্দশ জীবন গড়তে যাই দেশের সর্ব্বোচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে, মেধা মননে আর্দশে শিক্ষাগরুরা আমাদের অনুসরনীয়। কিন্তু এই শিক্ষকরাই যখন দুর্নীতির চর্চা করে, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ঢালাওভাবে নিয়োগ দিয়ে আখের গোছাতে ব্যস্ত। তখন জাতি এবং সমাজের ধ্বংস অনিবার্য। সাবেক ভিসি আব্দুস সোবাহানের এহেন হীন কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান আসিফ বলেন, গায়ের জোরে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য স্পষ্টত একটা বখাটেপনা চলছে। এই বখাটেপনার সূত্রপাত করেছিলেন উপাচার্য আব্দুস সোবহান তার পাতানো অবরুদ্ধ অবরুদ্ধ খেলার মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের দাবি-দাওয়ার প্রতি ইতিবাচকতা দেখিয়ে তাদের আশকারা দিয়ে আবারো উষ্কে দিয়েছেন। ওনারা সরকার বনাম সাবেক ছাত্রলীগ (অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত), ইউজিসি বনাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মত অন্তর্জাল তৈরি করে এক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন, যা অনভিপ্রেত। অবিলম্বে আমি এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানাই।



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top