পবায় সালিশ অমান্য করলেন আলিমগঞ্জের টুনু বাহিনী

পবা (রাজশাহী) প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ২০:৪৭; আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ২১:৫০

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর পবা উপজেলার ৪নং হরিপুর ইউনিয়নের গোপালপুর মৌজায় দলিল খতিয়ানভুক্ত জমি নিয়ে সালিশি বৈঠকে জমির মালিককে জমিতে যেতে নিষেধ করে মামলা করেন গা বললেন মাস্তান বাহিনী।

একাধিক ভূমি অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত মাস্তান গং টুনু বাহিনীর বিরুদ্ধে। দলিল খতিয়ানে বৈধ মালিকানা থাকা সত্ত্বেও সালিশি আদালতের সিদ্ধান্ত মানেননি বাহিনী ও তার প্রধান আব্দুল হক টুনু।

ফলে ন্যায়বিচার না পেয়ে জমির মালিকগণ এখন ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ এর অধীনে প্রতিকার নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

৪নং হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সালিশি আদালতের ১০২/২০২৬ নং মামলার নথি ও ১৩/০৮/২০২৬ তারিখের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিরোধের জমিটি হলো রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার গোপালপুর/৪১ মৌজার ১৭৮২ নং দাগ। জমির পরিমাণ ০.২৬ একর। জমির তফসিল অনুযায়ী এর এসএ খতিয়ান ৩৫১, আরএস খতিয়ান ২০৭ এবং প্রস্তাবিত খতিয়ান ৮১২৬।

ইউনিয়ন পরিষদের নথি ও কাগজপত্রে দেখা যায়, ওই জমির প্রকৃত মালিক সোনাইকান্দি গ্রামের মৃত এ.কে.এম সিকান্দারের পুত্র ওয়ারেন্ট অফিসার সেলিম দিং। তাদের মালিকানার পক্ষে শক্ত ভিত্তি রয়েছে। তাদের কাছে রয়েছে ৩টি বন্টনামা দলিল নং- ১৬৮৭/২০১৪, ৪৯৬৮/২০১৪, ৬৪০২/২০১৫ এবং ৪টি সাব-কবলা দলিল নং- ৫৬৮/২০১৬, ৯০/২০১৬, ১৪৯৮/২০১৬, ২৭৮৩/২০১৭। রয়েছে নিজ নামীয় প্রস্তাবিত খতিয়ানও। অন্যদিকে আলিমগঞ্জ গ্রামের ইসমাইল হোসেন, নাইম হোসেন, আব্দুল হক টুনু, নারগিস বেগম, আব্দুর রাজ্জাক, মাসুদ রানা ও সাইদুল ইসলাম ওই জমিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করছেন।

সরকারি দপ্তরের তদন্ত ও সালিশের নথি পর্যালোচনায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে গুরুতর ভূমি অপরাধের তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে দেখা যায়, বিবাদীদের দাবিকৃত দলিলের দাতা মৃত সিরাজুল ইসলাম জমিটি অন্যদের সাথে বন্টন না করে অন্য ওয়ারিশ গোপন করে সব জমি বিক্রি করেছেন।

আইন অনুযায়ী বন্টনবিহীন সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে ওই দলিলের মালিকানার অংশ ছাড়া অন্য ওয়ারিশ'র জমি নিতে পারে না। তদন্তে আরও জানা যায়, সিরাজুল ইসলামের প্রাপ্য অংশ ১ শতকেরও কম। অথচ মাস্তান টুনু বাহিনী ২৬ শতক জমির পুরোটাতেই অবস্থান নিতে মালিকপক্ষকে জমিতে যেতে নিষেধ করছেন।

গত ১৯ জুলাই ইউনিয়ন পরিষদের সালিশি বৈঠকে উভয় পক্ষ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। শুনানিতে বাদীপক্ষের ৪ জন উপস্থিত থাকলেও বিবাদীপক্ষের ৬ জনের মধ্যে ৩ জন অনুপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিবাদীপক্ষের আব্দুল হক টুনু প্রকাশ্যে জানান যে তারা গ্রাম আদালতের রায় মানবেন না। তদন্তে বিবাদীপক্ষের দাখিলকৃত কাগজপত্রে জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে এবং ওয়ারিশকে ফাঁকি দেয়ায় কর্তৃপক্ষের নিকট মিথ্যা তথ্য দাখিলের বিষয়টিও প্রমাণিত হয়েছে।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top