চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে মানববন্ধন

রাজশাহীতে ইসলামী ব্যাংক শাখার কর্মবিরতী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২৬ ১১:৩৪; আপডেট: ৪ জুন ২০২৬ ১৮:৩৭

রাজশাহীতে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১০টা থেকে রাজশাহীতে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি এলাকায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির রাজশাহী শাখার সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন হাফেজ মাওলানা আরিফুল ইসলাম।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ও আইবিডব্লিউএফ (IBWF)-এর সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, গাঙ্গাপাড়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. সুলতান প্রামাণিক, অধ্যাপক আবু তাহের প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের প্রচেষ্টায় ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ ৪৪ বছরের পথচলায় নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ব্যাংকটি দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে।

তাদের অভিযোগ, দেশের ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকটি থেকে সরে যান। এর পর ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ব্যাপক অর্থপাচার শুরু করে। এর ফলে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং গ্রাহকেরা তাদের আমানত ফেরত পেতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। পাশাপাশি এস আলমের কারণে  অন্তত আরও ৫টি ব্যাংক আজ দেওলিয়ার পথে। গ্রাহকরা তাদের জমানো নূন্যতম টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় জুলাই আন্দোলনের পর ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করলে এস আলম দোষররা আবারো ব্যাংকটির হৃদপিণ্ড খামচে ধরছে। 

বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে আবারও সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তারা এ নিয়োগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা সাত দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের পদত্যাগ।
২. ওমর ফারুক খানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে পুনর্বহাল।
৩. লুটপাটের সঙ্গে জড়িত কাউকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে না রাখা।
৪. ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের ১৮(ক) ধারা বাতিল।
৫. এস আলমের দখলে থাকা মালিকানা ও দেশে থাকা সম্পত্তি বিক্রি করে লুট হওয়া অর্থের সমন্বয়।
৬. এস আলম যাতে কোনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৭. ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংক খাতের সব লুটপাটকারীর বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান।

 

 

 





বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top