রাজশাহীতে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে জামায়াতের মতবিনিময় সভা
নিজস্ব প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬ ২০:১২; আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ ২০:৪৮
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের সম্মানে মতবিনিময় সভা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে জামায়াতে ইসলামী, রাজশাহী মহানগরী।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৬টার দিকে নগরীর শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকায় অবস্থিত মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি এবং জামায়াতের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কেরামত আলী এমপি বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এ দেশে একটি নতুন পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় একটি ফ্যাসিবাদী শক্তির বিদায় ঘটেছে। জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা। এ প্রশ্নে আমাদের দলের কোনো আপস নেই।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হোক। কিন্তু বর্তমান সরকার জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। তারা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও, জনগণ যে লক্ষ্য সামনে রেখে গণভোট দিয়েছে এবং জুলাই আন্দোলনের যে মৌলিক সংস্কারের দাবি ছিল, তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে বাকিগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গুম-খুনের বিচার এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। বৈষম্যের যেসব দিক নিয়ে আমরা কথা বলেছি, সেগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়ায় মানুষ এখন বিষয়টি উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। আগামী দিনে জাতি যদি পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তনের লক্ষ্যে এগিয়ে না আসে, তাহলে প্রয়োজন হলে আমরা আবারও আন্দোলনে যাব।’
এ সময় জুলাই যোদ্ধা মারুফ হোসেন বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিইনি। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা। কিন্তু আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, সেই প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।’ তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজশাহীসহ সারা দেশে জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন শহীদ সাকিব আনজুমের পিতা মায়নুল ইসলাম, শহীদ মিনারুল ইসলামের ভাবি মোছা. দুলালী বেগম এবং ভাই মো. নাজমুল হক। এছাড়া জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইশতিয়াক আহমেদ, মো. মারুফ আল হাসান, মো. মমিনুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল হাকিম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম ও অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন সরকার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এবং মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজীর।
মতবিনিময় সভা শেষে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: