বাতিল হতে পারে নিষ্ক্রিয় গ্রাহকদের নিবন্ধন 

ডিএসই’র অ্যাপসে চার্জ আরোপে ক্ষুদ্ধ রাজশাহীর বিনিয়োগকারীরা

বিশেষ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২১ ২০:৪৫; আপডেট: ২১ জুন ২০২১ ২০:৫১

পুঁজিবাজারে ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপস। ফাইল ছবি

করোনা মহামারীকালে পুঁজিবাজারে মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারের উপর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এর মাসিক সার্ভিস চার্জ আরোপে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন রাজশাহীর বিনিয়োগকারীরা। অবিলম্বে তারা সার্ভিস চার্জ প্রত্যাহার অথবা হাউজ কমিশন অর্ধেক করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি মানসম্মত মোবাইল অ্যাপস উন্নত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

তথ্যসূত্র থেকে জানা গেছে, আগামী পয়লা জুলাই থেকে পুঁজিবাজারে মোবাইল অ্যাপস্ এর মাধ্যমে লেনদেনকারী বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবধারীদের প্রতি মাসে ১’শ টাকা করে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে এই চার্জ আরোপ করা হয়েছে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা যায়, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করতে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন সব বিনিয়োগকারীকে প্রতিমাসে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। সে টাকা এখন থেকে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেওয়া হবে। ফি না দিলে সংশ্লিষ্টদের অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডিএসই।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ডিএসই’র অ্যাপটি চালু হয়। পরে পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগকারীরা অ্যাপটি ব্যাবহারের সুযোগ পান। দেশে বর্তমানে সাড়ে ২৬ লাখ বিও হিসাবধারী রয়েছেন। এর মধ্যে ডিএসই মোবাইল অ্যাপস্-এ যুক্ত আছেন ৬৩ হাজার বিনিয়োগকারী। এদের মধ্যে ২৫ হাজার বিনিয়োগকারী সক্রিয়ভাবে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে লেনদেন করেন।

পুঁজিবাজারের বিওধারীরা জানান, একজন বিওধারীরা বাৎসরিক সিডিবিএল চার্জ বাবদ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কে ৪’শ ৫০ টাকা প্রদান করেন। আবার প্রতিটি লেনদেনে অর্থাৎ ক্রয় এবং বিক্রয়ের বিপরীতে ব্রোকার হাউজের নির্ধারিত ফি প্রদান করেন। নতুন এ মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারের উপর মাসিক সার্ভিস চার্জ আরোপের কারণে একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে ১’শ টাকা হারে ১২’শ টাকা করে সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হবে। এ হিসেবে লেনদেনের চার্জ ব্যতিরেকেই একজন বিনিয়োগকারীকে বাৎসরিক ১৬’শ ৫০ টাকা চার্জ প্রদান করতে হবে। যাকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা অর্থিক জুলুম হিসেবে বিবেচনা করছেন। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বলেন, একজন বিনিয়োগকারী যখন নিজেই অ্যাপে লেনদেন করেন, সেখানে হাউজের উপর চাপ কমে যায়। এ্যাপ ব্যাবহারের মাধ্যমে ডিএসই ব্রোকারেজ হাজউগুলোর খরচও অনেকাংশে কমে যাচ্ছে। এজন্য তাদের ট্রেডার নিয়োগ দিতে হচ্ছে কম, অফিস স্পেসের আয়তনও কম লাগার পাশাপাশি কাজকর্ম কমে গেছে। আবার করোনা মহামারীকালে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ লডডাউন জানি করছে। এমন অবস্থায় মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারের উপর চার্জ আরোপের বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হবার পাশাপশি হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারীদের ভীড় বাড়বে। যাতে করে সংশ্লিষ্ট হাউজের বিনিয়োগকারীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথেষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন।

রাজশাহীর অ্যাপ ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীরা আরও বলেন, ডিএসই মোবাইল অ্যাপস সেবারমান উন্নত নয়। আবার অ্যাপস ব্যবহারকারীরা শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। তারা রিয়েল টাইমে শেয়ার লেনদেন করতে পারছেন না। পছন্দের দরে শেয়ার কেনাবেচার আদেশ দেওয়ার পর অনেক সময়ই ওই আদেশ ডিএসইর ট্রেড সার্ভারে পৌঁছতে কয়েক মিনিট সময় লেগে যাচ্ছে। ততক্ষণে শেয়ারের দর বেড়ে যাচ্ছে বা কমছে। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এ অ্যাপের সক্ষমতা হলো দিনে ১৪ হাজার ব্যবহারকারীর সেবা দেওয়া। কিন্তু প্রতিদিনই ৩০ থেকে ৩৫ হাজার বিনিয়োগকারী লগইন করছেন। যার কারণে তারা বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সবদিক বিবেচনা করে রাজশাহীর বিনিয়োগকারীরা ডিএসই’র এ সিদ্ধান্তকে হটকারী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে চার্জ প্রত্যাহারের দাবি করেন।

এদিকে, কিছু সূত্র থেকে জানাগেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানির লেনদেন করার জন্য ডিএসই-মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ফি নেওয়া হবে না। গত বৃহস্পতিবার ডিএসইর পর্ষদ সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি অ্যাপ ব্যবহার করেন না এমন নিষ্ক্রিয় গ্রাহকদের নিবন্ধনও বাতিল করা হবে।

এবিষয়ে, আইসিবি সিকিউরিটি ট্রেডিং কো. লি: (আইসিবি) এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আইএসটিসিএলসহ রাজশাহী ব্রোকার হাউজে কথা বলে জানাগেছে, তারা এ্যাপসের উপর সার্ভিস চার্জ আরোপের বিষয়টি মৌখিক ভাবে শুনেছেন। কিন্তু ডিএসই থেকে এ সংক্রান্ত কোন চিঠি এখনও পাননি।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত দুই বছরে একাধিকবার লেনদেনের এ মোবাইল অ্যাপসের ওপর সার্ভিস চার্জ আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই। ডিএসই মোবাইল অ্যাপে তিন ধরনের সংস্করণ রয়েছে। এর একটি ব্রোকার হাউজগুলোর জন্য, অন্য দুটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। যার একটি দিয়ে শেয়ার কেনাবেচা করা যায়। অপরটি দিয়ে শুধু লেনদেনের অবস্থা দেখা যায়।
 



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top