টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের নতুন বার্তা
রাজটাইমস ডেস্ক: | প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১৯:৫১; আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ ২০:৫৮
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কয়েকটি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার দাবিকে কেন্দ্র করে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিএসটিআই। টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক ইস্যুতে এটি সংস্থাটির দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।
বিএসটিআই জানায়, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর এক গবেষণায় বাজারে থাকা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। এ তথ্য প্রকাশের পর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট সংগ্রহ করে নিজস্ব উদ্যোগে পরীক্ষার কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীক্ষায় যদি কোনো টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা মাইক্রোবিডের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট উৎপাদক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএসটিআই আরও জানায়, দেশে টুথপেস্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিডিএস ১২১৬:২০১২ (Specification for Toothpaste) মানদণ্ড অনুসরণ বাধ্যতামূলক। এই মানদণ্ডে ক্ষতিকর উপাদান, বিষাক্ততা ও জীবাণুর উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া অনুমোদিত ৮১টি কাঁচামালের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো উল্লেখ নেই। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে এ উপাদান ব্যবহারের সুযোগ নেই বলেই সংস্থাটির ধারণা।
এর আগে, ২৮ জুলাইয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, ইএসডিওর পূর্ণাঙ্গ গবেষণা প্রতিবেদন, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং কাঁচা তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছ থেকে কাঁচামাল ও পণ্যের উপাদানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাজার ও কারখানা থেকে নতুন নমুনা সংগ্রহ করে দেশি-বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারেও পুনঃপরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই প্রকাশিত ইএসডিওর গবেষণায় দাবি করা হয়, পরীক্ষাধীন ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। শিশুদের জন্য বাজারজাত ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও এ উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে ইএসডিও স্পষ্ট করেছে, তাদের গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে দায়ী করা নয়। বরং টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক বিষয়ে জাতীয় মানদণ্ড নির্ধারণ, গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারণ, পরীক্ষার নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং পণ্যের মোড়কে উপাদান উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরাই ছিল গবেষণার লক্ষ্য।
ভোক্তাদের উদ্দেশে বিএসটিআই পরামর্শ দিয়েছে, টুথপেস্ট কেনার আগে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স নম্বর যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন বা অজানা ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট ব্যবহার না করা, টুথপেস্ট গিলে না ফেলা এবং গুজব বা অযথা আতঙ্কে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমদানিকৃত টুথপেস্টের আমদানি ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে বিএসটিআই।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: