সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিক-সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাবি ছাত্রদল নেতার মামলা

রাবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৪:৩৫; আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৫:৩৩

ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ প্রকাশের জেরে এক বছর পর চার সম্পাদক ও এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিব।

গত ১১ জুলাই মতিহার থানায় করা এ মামলায় রাবি প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহসভাপতি মারুফ হোসেন মিশনসহ চারটি গণমাধ্যমের সম্পাদককে বিবাদী করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানায়, অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তাই মামলাটি এখনও নথিভুক্ত করা হয়নি। তবে তদন্ত চলমান রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তরে জব্দ থাকা এক ব্যবসায়ীর ফুডকার্ট মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই স্টোর শাখা থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে বাদী ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিবের বিরুদ্ধে।

ফুডকার্ট ফিরে পেতে প্রকৃত মালিক আক্তার সাংবাদিকদের সাহায্য চান। বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। নিউজ প্রকাশের পর অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ফুডকার্টটি ওই ব্যবসায়ীর কাছে ফেরত দেন।

এর প্রায় নয় মাস পর, ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড এলাকায় বহিরাগতদের নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ওঠে একই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসসহ ২০-২৫টা পত্রিকা ও পোর্টালে নিউজ প্রকাশিত হয়।

এই দুই সংবাদ প্রকাশের জেরে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই হাসিবুল ইসলাম হাসিব মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, তাকে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে ডেইলি ক্যাম্পাসের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন, সকালের বুলেটিন-এর সম্পাদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সম্পাদক, ডেইলি ক্যাম্পাস-এর সম্পাদক এবং এনটিভি অনলাইনের সম্পাদককে।

এছাড়া ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থী হাসানকেও এ মামলার আসামি করা হয়েছে।

ফুডকার্টসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে মামলার এজাহারে হাসিব দাবি করেছেন, তিনি ফুডকার্টের মালিককে সেটি ফিরে পেতে সহায়তা করেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট ফুডকার্টটি ফেরত নেওয়ার জন্য তার (হাসিব) নিজের হাতেলেখা আবেদনপত্রের কপি এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

যা তার দাবির সাথে সাংঘর্ষিক। এছাড়া ছুরিকাঘাতের ঘটনা অস্বীকার করে তিনি বলেন, সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। তবে ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বলেন, সেসময় ছাত্রদল নেতা হাসিব উপস্থিত ছিলেন এবং তার উপস্থিতিতে হামলা করে হয়।

বিবাদী সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন বলেন, যে দুই নিউজের জন্য আমার নামে মামলা করা হয়েছে তা ২০-২৫ জন সাংবাদিক কভার করেছিল। কিন্তু তিনি শুধু আমার বিরুদ্ধেই মামলা করেছেন। যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানি করার জন্য করা হয়েছে। ওই নিউজ দুটোর শতভাগ প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। ওই ছাত্রদল নেতা ফুডকার্টটির মালিকানা দাবি করে নিজের হাতে আবেদন করেছিলেন। যা আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।

এছাড়া ভুক্তভোগী ও এস্টেট দপ্তরের বক্তব্যও আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি, আইন অনুযায়ী লড়তে প্রস্তুত আছি। মামলার ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের দমিয়ে রাখা যায় না।

শুধু আপনার বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে কেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা হলে অবৈধভাবে অবস্থান করছে তাদের নিয়ে আমি কয়েকটি নিউজ করেছিলাম। এর ভেতরে তিনটি নিউজের অভিযুক্তরা ছিল ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত। এজন্য ছাত্রদলের ওই নেতা আমাকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্যই মামলা করেছে; যাতে অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারীদের নিয়ে আর নিউজ না করি। নিউজ করল ২৫ জনের বেশি সাংবাদিক। অথচ মামলা করা হলো শুধু আমার নামে। আমি এর ধিক্কার জানাই।

একাধিক পোর্টালে নিউজ পাবলিশ হলেও মামলা করা হয়েছে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা হাসিব বলেন, সে সাংবাদিক পরে, আগে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, আমরা ভাই-ভাই। তবে ছাত্রদলের কোনো কিছু হলে, কোনো কথা গেলেই সে মনগড়া, যতরকম যা যা বলতে পারে ইচ্ছাকৃতভাবে সব তুলে ধরে যাচাই-বাছাই না করে। যেকোনো অপপ্রচার, মিথ্যা, প্রপাগান্ডা সব ওই শুরু করে। তারপর ওর নিউজ থেকে অন্যরা কপি করে।

ফুডকার্ট চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, যার ফুডকার্ট তাকে বরং আমি সেটা ফিরে পেতে সাহায্য করেছি। তার হয়ে আমি আবেদন করেছিলাম, তবে সেটা সে জানত না। সেজন্য একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে বুঝিয়ে দিয়েছি।

ছুরিকাঘাতের বিষয়ে তিনি বলেন, যে ছেলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে সে আগে ছাত্রলীগ করত। এখন নতুন করে ছাত্রদলের রাজনীতিতে এসেছে। সে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে৷ রাজনীতি প্রতিহিংসার, তাকে দিয়ে অন্যকেউ এ কাজটা করিয়েছে।

এত দেরিতে মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ধৈর্য ধরেছি, চেষ্টা করেছি এগুলো থামানোর জন্য। কিন্তু তিনি একটার পর একটা অপপ্রচার চালিয়েই যাচ্ছে। শেষমেশ আমি আমার পরিবার ও সংগঠনের সাথে কথা বলে মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ সদস্য জানান, কেউ মামলা করলে তা প্রথমে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হয়। অনুসন্ধান করা হয় ঘটনা সত্য কি না। মামলার এজাহারে যে বিষয়গুলো বাদী এনেছেন, তার তেমন কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। এজন্য মামলা এখনও গ্রহণ করিনি। তবে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, মামলা করার বিষয়টা সে আগে আমাকে জানিয়েছিল। প্রথমে আমরা তেমন গুরুত্ব দেইনি। পরবর্তীতে সে আমাকে এসে বলে যে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হেয় প্রতিপূর্ণ বা ক্ষতিগ্রস্থ করার হচ্ছে। তখন আমি তাকে বলি যে সংগঠন হিসেবে তো বিচার এনে দিতে পারবো না তুমি একটু ব্যক্তিগতভাবে তুমি কথা বল তাদের সাথে। তখন সে বলে সে জিডি করতে চায়। আমি তখন বলি সেটা তোমার ইচ্ছা।
সংগঠন থেকে তাকে কিছু করতে বলা হয়নি।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top