মনোবল ভেঙে পড়েছে 'রণক্লান্ত' ইসরায়েলি সেনাদের

রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৬:৫২; আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৮:২৪

- ছবি - ইন্টারনেট

ইরান ও সহযোগীদের সাঁড়াশি সামরিক অভিযানে বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে ইহুদিবাদী দেশ ইসরায়েলের সেনারা।

টাইমস অফ ইসরায়েলের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকে ইহুদি সেনাবাহিনীর হাঁড়ির হাল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির।

বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীদের সামনে ১০টি বিপদসঙ্কেত উল্লেখ করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষা প্রধান।

যুদ্ধের আবহে শঙ্কার মেঘ ঘনাচ্ছে ইহুদি রাষ্ট্রের মাথার ওপর। ভিতরে ভিতরে শক্তিক্ষয় হয়ে চলেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর। টানা যুদ্ধবিগ্রহ ও ক্ষয়ক্ষতির ফলে ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েলি বাহিনী।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান বহুমুখী যুদ্ধের চাপে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রতিরোধ শক্তি কমে এসেছে। এই কথা কোনও বিদেশি রাষ্ট্র বা শত্রুপক্ষের দাবি নয়। এই তথ্য জানিয়েছেন খোদ প্রতিরক্ষা দফতরের শীর্ষকর্তা।

ইসরায়েলের ‘চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ’ বা সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সেনাবাহিনী নিয়ে আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন।

নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের এক বৈঠকে তিনি জানান, জনবলের তীব্র সঙ্কটের কারণে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ভিতর থেকে ‘ভেঙে পড়তে’ পারে।

ক্রমবর্ধমান অভিযানের ফলে বাহিনীতে সেনার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলের পরিস্থিতি খুব একটা স্থিতিশীল নয়। এই অবস্থায় সেনাবাহিনীর সঙ্কট নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে তেল আবিবের।

টাইমস অফ ইসরায়েলের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকে ইহুদি সেনাবাহিনীর হাল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামির। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীদের সামনে ১০টি বিপদসঙ্কেতের উল্লেখ করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষা প্রধান। টানা যুদ্ধ চলতে থাকলে সেনাবাহিনীর মনোবল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা জামিরের।

আইডিএফ প্রধান জামির মূলত সরকারকে এই বার্তাই দিয়েছেন যে, শুধু অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য মানুষও লাগে।

ক্রমাগত যুদ্ধের কারণে সেনাদের ওপর যে মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হচ্ছে, তা আর সামলানো সম্ভব হচ্ছে না বলে এক প্রকার হাত তুলে নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রধান।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র বলছে, বর্তমানে আইডিএফ-এ প্রায় ১২,০০০ সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৭,০০০ জন সরাসরি কমব্যাট বা যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করার মতো সেনাসদস্য। বহু রিজ়ার্ভ সেনাকে ইতিমধ্যে ৬ থেকে ৭ বার তলব করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কারণে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি রিজার্ভ বাহিনীর কাঠামোও ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত না নিলে সংরক্ষিত সেনাব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা দুষ্কর হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা।

ইসরায়েলি সেনাপ্রধানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে আইডিএফের একটি বাধ্যতামূলক সামরিক আইন, একটি রিজার্ভ ডিউটি আইন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য একটি আইন আনার প্রয়োজন।

তা না হলে আইডিএফকে আর কোনও ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভবপর হবে না। সৈন্যসংখ্যা না বৃদ্ধি করলে অচিরেই ইহুদি বাহিনীর রিজার্ভ ব্যবস্থাটিও ধসে পড়বে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বর্তমানে ইরান, লেবানন (হিজবুল্লা) এবং পশ্চিম দিকে একাধিক ফ্রন্টে একসঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনীকে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে পাল্টা ‘পাটকেল’ ধেয়ে আসছে তাদের দিকেও। এর পাশাপাশি ‘আল্ট্রা অর্থোডক্স’ ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে যোগদান নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চরম অস্থিরতা চলছে, যা এই সঙ্কটকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

গাজার ঘটনার জন্য মোট সাতটি ফ্রন্টে লড়াইয়ের মুখে পড়েছে ইহুদি সেনাবাহিনী। যুদ্ধে হামাসের পাশে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলে হামলা চালায় লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি।

এ ছাড়া পর্দার আড়ালে থেকে তাঁদের হাতিয়ার, গোলা-বারুদ এবং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছিল ইরান। ইরানের দিক থেকে সরাসরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে। সরাসরি স্থলযুদ্ধ এবং তীব্র রকেট হামলা হতে পারে গাজা ও লেবাননের দিক থেকে।

এতগুলি লড়াইয়ে সক্রিয় থাকতে গিয়ে সেনাদের কোনও বিশ্রাম বা রুটিনে বদল করা সম্ভব হচ্ছে না। আইডিএফ প্রধানের ভাষায় যা ‘মানবিক সক্ষমতার বাইরে’। সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথও এই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তার গলায়ও একই সুর।

জামিরের বক্তব্যকে সমর্থন করে তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের নীতি আইডিএফ-এর সীমিত সেনাবলের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে।

উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ব্লুথ জানিয়েছেন যে, গত এক বছরে নেতানিয়াহুর সরকার জর্ডন উপত্যকা এবং সমগ্র পশ্চিম তীর জুড়ে অসংখ্য বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে।

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও নেতানিয়াহুর সরকারকে একহাত নিয়ে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নেতৃত্ব আইডিএফ-কে জিততে বাধা দিচ্ছে। তার দাবি, সেনাদলে ২০,০০০ সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে।

বর্তমানে সামরিক বাহিনীতে যোগদানের উপযুক্ত এক লাখ ‘আল্ট্রা-অর্থোডক্স’ গোষ্ঠীর হারেদি তরুণকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। যদি তাদের মাত্র এক-পঞ্চমাংশকেও নিয়োগ করা হয়, তা হলে এই সঙ্কট কেটে যাবে বলে ধারণা তার।

সেনাঘাটতির বিষয়ে আইডিএফ প্রধানের উদ্বেগ প্রকাশের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তাদের চিঠি লিখে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, জনবলের ঘাটতি শীঘ্রই সেনাবাহিনীর অভিযানিক প্রস্তুতিকে প্রভাবিত করতে পারে।



বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top