অব্যাহত পরিবহন ধর্মঘটে অচল রাজশাহী

রাজটাইমস ডেস্ক:  | প্রকাশিত: ২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:৫১; আপডেট: ২৮ জানুয়ারী ২০২৩ ১৮:৪৮

ছবি: সংগৃহীত

সড়ক আইন সংশোধন ও অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে সমগ্র রাজশাহী বিভাগে চলছে পরিবহন ধর্মঘট। গতকাল বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া পরিবহন ধর্মঘট আজ শুক্রবার অব্যাহত রয়েছে।

ধর্মঘট শুরুর পর রাজশাহী থেকে দূরপাল্লা বা আন্তঃজেলা রুটের কোনো বাস ছেড়ে যায় নি।

রাজশাহীর সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশের সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা। ধর্মঘটের প্রভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো রাজশাহী বিভাগ। এতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শ্রমজীবি, দিনমজুর কিংবা সাধারণ মানুষকেও। জরুরী কাজে গন্তব্যে যাওয়ার একমাত্র ভরসা হয়েছে ট্রেন। এছাড়া অটো বা বিকল্প পরিবহনে যেতে কয়েকগুণ অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের।

এদিকে রাজশাহী নগরীর শিরোইল বাসস্ট্যান্ড, ভদ্রা বাসস্ট্যান্ড, তালাইমারি বাসস্টপেজ, রুয়েট গেট বাসস্টপেজ, গোরহাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, বিন্দুর মোড় বাসস্টপেজ ও বিলশিমলা বাসস্টপেজে গিয়ে দেখা যায়, বন্ধ রয়েছে সব রকমের টিকিট কাউন্টার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন বিকল্প যানবাহনের জন্য। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে তাদের।

বিশেষ করে বয়স্ক বা শিশুদের নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন অন্য যাত্রীরা। অনেকে ক্লান্ত হয়ে রাস্তার পাশেই শুয়ে পড়তে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা করেই দূর গন্তব্যের উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছেন। তবে এর জন্য যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছে।

নগরীর রেলগেট এলাকায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন নাজমা খাতুন। তিনি বলেন, হঠাৎ এক আত্মীয় অসুস্থ হওয়ার খবর পেলাম। নিরুপায় হয়ে এই ধর্মঘটের মধ্যেই জয়পুরহাট যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। দেড় ঘণ্টা পার হলেও যাওয়ার মতো গাড়ি পেলাম না। চার্জার অটো এতোদূর যেতে চায় না, দু একটা সিএনজি রাজি হলেও রিজার্ভ নিতে বলে। চরম বিপদে পড়েছি। সাধারণ জনগণের কষ্টের কথা ভেবে হলেও অবিলম্বে এ পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

তবে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, শনিবারের গণসমাবেশে বাধা দিতেই এ পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে বিকল্প পরিবহনে বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা এলেও পথে পথে গাড়িতে তল্লাশি করছে পুলিশ। রাস্তায় গাড়ি আটকে রাজশাহী প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে, ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশের সমন্বয়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আগামী ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় গণসমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতেই এ পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। তবে সমাবেশ বাধা দিয়ে বন্ধ করতে পারবে না, রাজশাহী বিভাগের আট জেলা থেকেই তাদের নেতাকর্মীরা বিকল্প পরিবহনে রাজশাহী আসছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার যত চেষ্টা করুক গণসমাবেশে জনস্রোত নামবেই। শত বাধা উপেক্ষা করে হলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা সেই বুধবার রাত থেকে রাজশাহীতে আসছেন। তারা গণসমাবেশস্থলের পাশে ঈদগাহ মাঠে এ শীতের মধ্যেও খোলা আকাশের নিচে রাত্রী যাপন করছেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুলিশ রাজশাহীর প্রবেশ পথে ঢুকতে বেশি বাধা দিচ্ছে পুলিশ। যানবাহন থেকে নামিয়ে দিয়ে নেতাকর্মীদের নিদারুণ কষ্ট দিচ্ছে বলেও অভিযোগ এই বিএনপি নেতার।

তবে ধর্মঘট প্রসঙ্গে বিএনপি নেতার মন্তব্য অস্বীকার করেছেন রাজশাহী বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক পরিষদের সভাপতি সাফকাত মঞ্জুর বিপ্লব। তিনি বলেন, পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে কারও সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও পুলিশ হয়রানি বন্ধে বারবার বলা হলেও সরকার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। তাই সেবামূলক পেশা হলেও দাবি আদায়ে তারা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কিছু দিন আগেও আমরা সংবাদ সম্মেলন করে দাবি পূরণে আল্টিমেটাম দিয়েছি। কিন্তু দাবি পূরণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় নি।

তিনি আরও বলেন, গত ২৬ নভেম্বর নাটোরে সভা করে দাবি পূরণ করতে বুধবার (৩০ নভেম্বর) রাত পর্যন্ত আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। দাবি না মানলে আমরা ধর্মঘটে যাবো বলে জানিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু সময় পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাইনি। ফলে আমাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যেতেই হচ্ছে। তাই আমরা কঠোর পথে যেতে বাধ্য হয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

উল্লেখ্য, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধান করাসহ হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে থ্রিহুইলার, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ ও জ্বালানি তেলসহ যন্ত্রাংশের মূল্য হ্রাস করাসহ ১১ দফা বাস্তবায়নে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে ১ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দেন রাজশাহী বিভাগীয় মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে ধর্মঘট শুরু হলে রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার সকল বাস চলাচল বন্ধ হয়।

এনএ



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top