স্টেশনে নেই র্যাম্প, উঠানামায় দুর্ঘটনা; কাকনহাটে মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৬ মে ২০২৬ ১৭:১৭; আপডেট: ৬ মে ২০২৬ ১৮:০৯
রাজশাহীর কাকনহাট রেলওয়ে স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম ও র্যাম্পের অভাবে ট্রেনে উঠানামার সময় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। অনেকের পা ভাঙার ঘটনাও ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে স্টেশনে র্যাম্প নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্টেশন চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিসিডিবি-সিআরপির সহযোগিতায় গোদাগাড়ী উপজেলা নেটওয়ার্ক কমিটি মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সিসিডিবি-সিআরপির এরিয়া ম্যানেজার পিটার সরকারের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা নেটওয়ার্ক কমিটির সভানেত্রী দুলালী বেগম, কাকনহাট পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সরকার, পাকড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম বকুল, সংরক্ষিত নারী সদস্য লতিফা বেগম, রিশিকুল ইউপির সদস্য ফারুক হোসেন, সংরক্ষিত নারী সদস্য আলিয়া বেগম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল খালেক ও শিক্ষক মইনুল ইসলামসহ অনেকে।
বক্তারা জানান, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী চলাচল করেন। কমিউটার ট্রেন ও মল্লিকা পুনর্ভবা ট্রেনসহ একাধিক ট্রেন এখানে নিয়মিত চলাচল করলেও মেইন লাইনের পাশে কোনো প্ল্যাটফর্ম বা র্যাম্প নেই। কেবল লুপ লাইনে প্ল্যাটফর্ম থাকায় ক্রসিংয়ের সময় ট্রেন মেইন লাইনে দাঁড়ালে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন এবং প্রায়ই পড়ে গিয়ে আহত হন।
তাদের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ১,২০০ থেকে ১,৫০০ যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করেন, যাদের মধ্যে অনেক প্রবীণ শিক্ষকও রয়েছেন। র্যাম্প না থাকায় তাদের উঠানামা করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা আরও জানান, অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বছরখানেক আগে স্টেশনের বুকিং সহকারী ফায়জানা ইয়াসমিন ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে পড়ে পা ভেঙে ফেলেন। এ কারণে দ্রুত র্যাম্প নির্মাণের পাশাপাশি ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেসের অন্তত এক মিনিটের স্টপেজ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য স্টেশন মাস্টার শিরিন আক্তারের মাধ্যমে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কাকনহাট পৌরসভার প্রশাসকের কাছেও একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
স্টেশন মাস্টার শিরিন আক্তার বলেন, “এলাকাবাসীর দাবি যৌক্তিক। মেইন লাইনে প্ল্যাটফর্ম না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: