দু’বোনের হাতের গয়নায় মাতোয়ারা ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২১ ০১:০৩; আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২১ ১১:২২

দু’বোনের হাতের গয়নায় মাতোয়ারা হয়েছেন ক্রেতারা। শখ থেকে কমার্শিয়াল ভাবে কিছু করার চিন্তা। এ থেকেই পরিকল্পনা শুরু। নগরীর ভদ্রা এলাকার এস.এম.সালাম-ঊন-নূর এবং মমতাজ বেগম-এর মেয়ে এস.এম সায়মা আনজুম মীম ও এস.এম সালমা আনজুম তামান্না।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগে পড়াশোনা করছেন। আজ তাদের মুখেই শুনবো উদ্যোক্তা হবার গল্প।
রাজটাইমস: আপনারা কি ধরণের পন্য নিয়ে ব্যাবসার করছেন।
মীম ও তামান্না: আমরা হাতে তৈরি গহনা নিয়ে কাজ করছি।
রাজটাইমস: ব্যবসার আইডিয়া কিভাবে পেলেন?
মীম ও তামান্না: শুরু থেকেই গয়নার প্রতি আকর্ষণ কাজ করতো। মেটাল ও কাঠের বিভিন্ন ধরনের গয়না কেনা হতো। এক সময় মনে হলো নিজেদের গয়না নিজেরাই তৈরি করবো। সেই থেকেই গয়না তৈরির হাতে খড়ি। ইউটিউবে বিভিন্ন ক্রাফটস এর গহনা দেখে আইডিয়া নিয়ে গয়না বানানো শুরু করি। গয়নাগুলো সবাই পছন্দ করে। দুই তিনজন কিনতেও চায়। তখনই গয়না নিয়ে কমার্শিয়ালি কিছু করার চিন্তা মাথায় আসে। তারপর ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ আমরা কমার্শিয়াল ভাবে উদ্যোগ শুরু করি।
রাজটাইমস: ব্যবসার শুরুর দিকের গল্পটা যদি বলতেন?
মীম ও তামান্না: ছোটবেলা থেকেই দুইবোনের ক্রাফটিং এর প্রতি ঝোঁক বেশি। বিভিন্ন সৌখিন জিনিস বানাতাম। দুই বোন মিলে শখের বসে গয়না বানিয়েছিলাম নিজেদের জন্য। হাতে তৈরি গহনা নিয়ে কাজ করছি। নিজেদের তৈরি গয়না নিয়ে অন্যরা যখন প্রশংসা করতো অনেক ভালো লাগতো। নিজের তৈরি গয়নায় অন্য নারীরা নিজেকে, নিজের প্রিয়দিনগুলো সাজাবে এটা দেখার ইচ্ছা থেকেই গয়না নিয়ে কাজ শুরু।
রাজটাইমস: ব্যবসার শুরুটা কি অনলাইনেই, নাকি অন্য কোনো উপায়ে ছিল?
মীম ও তামান্না: জী অনলাইনেই ছিলো।
রাজটাইমস: কাজ করতে কখনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন?
মীম ও তামান্না: প্রথমে ফ্যামিলি ব্যাপার টা পছন্দ করতো না,আত্মীয়রাও আমাদের উদ্যোগকে ভালো চোখে দেখতোনা। এখন ফ্যামিলি আত্মীয়স্বজন সবাই সাপোর্ট ও সহযোগিতা করে আলহামদুলিল্লাহ।
রাজটাইমস: নতুন উদ্যোক্তারা এই ধরণের ব্যবসায় আসতে চাইলে আপনাদের পরামর্শ কী?
মীম ও তামান্না: সব কাজেই ধৈর্যের প্রয়োজন, কোন কাজই সহজ না। তাই ধৈর্য্য ধরে কাজে আগাতে হবে। শুরুতে লাভ-ক্ষতি থাকবেই। আর সেটা মেনে নেওয়ার মানসিক ও আর্থিক শক্তি থাকতে হবে এবং মেইনলি সেইটা নিয়েই কাজ করতে হবে যেটা নিজেকে টানে। ভালোবাসাকেই কাজে ফুটিয়ে তুলতে হবে।
রাজটাইমস: উদ্যোক্তা জীবন সফল হতে কাদের ভূমিকা বেশি ছিল?
মীম ও তামান্না: পরিবার ও কাছের বন্ধুবান্ধবরা ভীষণ ভাবে সাপোর্ট করেছে। রাজশাহীর গ্রুপ যেমন, "আমরা রাজশাহীর উদ্যোক্তা" গ্রুপ আমাদের সামনে এগোতে অনেকটা সাহায্য করেছে।
রাজটাইমস: বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপনার ব্যবসা নিয়ে পরিকল্পনা কী?
মীম ও তামান্না: ব্যবসা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। সে অনুযায়ী আগাবো ইনশাআল্লাহ।
রাজটাইমস: রেভিনিউ কেমন?
মীম ও তামান্না: মোটামুটি দেড় বছর হলো আমাদের ব্যবসার বয়স। ১২’শ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম এবং এখন পর্যন্ত মোট আয় ৯৬ হাজার ক্রস করেছে।
রাজটাইমস: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পরা নিয়ে জানতে চাই।
মীম ও তামান্না : ভবিষ্যতে দুইবোনেরই জব করার ইচ্ছে আছে। তবে ব্যাবসা নিয়েও আমাদের একটা বড় স্বপ্ন রয়েছে। আমাদের দুইবোনের স্বপ্ন আমাদের একটা শো-রুম থাকবে। যেখানে মানুষজন গিয়ে গয়না পছন্দ করে নিতে পারবে। আশাকরি একদিন আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে।
রাজটাইমস: আপনাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
মীম ও তামান্না : রাজটাইমস’সহ সকলকে ধন্যবাদ।



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top