রাজশাহীতে ১৭ জন নিহতের ঘটনায়  

ঘাতক চালক গ্রেফতার।।  লাশ হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২১ ১৭:০২; আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২১ ১৯:৫২

ঘাতক চালক আব্দুল রহিম

রাজশাহীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জনের লাশ স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর দিকে গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকে মামলার আসামী কেটিসি হানিফ বাসের ঘাতক চালক আব্দুল রহিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস বিষয়টি গণমাধ্যকে নিশ্চিত করেন।

আরএমপির মুখপাত্র এবং রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে হানিফ কেটিসি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকায় যাচ্ছিল। রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে একটি হায়েস মাইক্রোবাস যাচ্ছিল রাজশাহীর দিকে। দুপুর পৌনে ২টার দিকে কাটাখালী থানার সামনে মাইক্রোবাসটি একটি ট্রাককে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় যাত্রীবাহী বাসটি রং সাইডে আসলে সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে মাইক্রোবাস ও ইমাগাড়ী ( লেগুনা) মুহুর্তেই ভষ্মিভূত হয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি গাড়ি আগুন নিভিয়ে মাইক্রোবাসের চালক ছাড়া কাউকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেনি। মাইক্রোবাসটিতে চালকসহ মোট ১৮ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ১৭ জনই মারা যায়। শুক্রবার দুপুরে পাঁচটি পরিবারের ১৮ জন সদস্য রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে রাজশাহীতে পিকনিকের জন্য আসছিলেন।

শুক্রবার রাতেই কাটাখালি থানার এসআই নুর মোহাম্মদ বাদি হয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহতের ঘটনায় হানিফ বাসের চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৭ জনকে হত্যাসহ কয়েকজন জখমের অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে মামলার একমাত্র আসামী বাস চালক আব্দুর রহিমকে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মাহিন্দ্র বাইপাস থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে পুঠিয়া উপজেলার বাড়ইপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। পুলিশ আরও জানায় চালক ঘটনার সময় ১৩০ কিলোমিটার গতি বেগে বাসটি ড্রাইভ করছিলো।

লাশ হস্তান্তর
এদিকে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে মর্গে নিহতদের ডিএনএ সংগ্রহ ও শনাক্তের পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে নিহতদের মধ্যে ছয়জনের মুখ অক্ষত থাকায় তাদের চেহারা দেখেই লাশ শনাক্ত করা হয়। অন্য ১১ জনের লাশ পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও আকৃতি দেখে স্বজনরা লাশ শনাক্ত করে। পরে স্বজনরা দুইটি ট্রাক ও একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নিয়ে রংপুরের পীরগঞ্জের উদ্যেশ্যে রওনা হন।
নিহতরা হলেন- রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মহজিদপুর গ্রামের ফুল মিয়া (৪০), তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫), ছেলে ফয়সাল মিয়া (১৫), মেয়ে সুমাইয়া (৭) ও ছোট মেয়ে সাজিদা (৩) ; একই ইউনিয়নের দুরামিঠিপুর গ্রামের সাইদুর রহমান (৪৫), চৈত্রকোল ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন (৩৯), তার স্ত্রী শামছুন্নাহার (৩২), শ্যালিকা কামরুন্নাহার বেগম (২৫), ছেলে সাজিদ (১০) ও মেয়ে সাবাহ খাতুন (৩); পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রজাপাড়ার মোটরসাইকেল মেকার তাজুল ইসলাম ভুট্টো (৪০), তার স্ত্রী মুক্তা বেগম (৩৫), ছেলে ৮ম শ্রেণির ছাত্র ইয়ামিন (১৪); রায়পুর ইউনিয়নের দ্বাড়িকাপাড়া গ্রামের মোকলেছার রহমান (৪০), তার স্ত্রী পারভীন বেগম (৩৫), ছেলে পাভেল মিয়া (১৮)।

এদিকে মাইক্রোবাস চালক পীরগঞ্জ পৌরসভার পঁচাকান্দর গ্রামের হানিফ মিয়া ওরফে পঁচা (৩০) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

তদন্ত কমিটি গঠন
ভয়াবহ এ সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু আসলামকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে তাদের দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়। জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল গণমাধ্যমকে বলেন নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা এবং লাশ তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।



বিষয়: গ্রেফতার


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top