শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ অস্বীকার

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২২ ২০:১২; আপডেট: ১ ডিসেম্বর ২০২২ ০৯:০৪

ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহীর পবা উপজেলার হাড়ুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই সহকারী শিক্ষিকাকে কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। তারা দাবি করেছেন, ফেসবুকে প্রধান শিক্ষিকার ছবি দেওয়ায় ওই সহকারী শিক্ষিকা বকাঝকা করা হয়েছে। তবে কান ধরে ওঠবস করানোর মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

রোববার (২৮ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে তারা এ দাবি করেন।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাজমা ফেরদৌসী এক সহকারী শিক্ষিকাকে স্কুলে কান ধরে ওঠবস করান বলে অভিযোগ উঠে। স্কুলের জমিদাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আজিজের সামনে তাকে এভাবে হেনস্থার অভিযোগ তুলে তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করছে শিক্ষা অফিস।

এরমধ্যেই রোববার সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্যে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মুশফিকুর রহমান রাসেল বলেন, এ স্কুলের এক সহকারী শিক্ষিকাকে লাঞ্ছনা করা হয়েছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সংবাদগুলোতে প্রকৃত সত্য উঠে আসছে না। ওই সহকারী শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা নাজমা ফেরদৌসীর ছবি ব্যবহার করে অশালীন, নোংরা চারটি টিকটক ভিডিও তৈরি করে প্রচার করছিলেন।

তিনি এসব অশালীন ভিডিও তৈরি করে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের দেখিয়ে হাসাহাসি করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তার ফেসবুক আইডি থেকে প্রধান শিক্ষিকার একাধিক ব্যক্তিগত ছবি ‘মাই স্টোরি’তে আপলোড করেছেন। এ ব্যাপারে তাকে সতর্ক করা সত্ত্বেও তিনি এ ধরনের কার্যকলাপ অব্যাহত রাখেন। প্রমাণ হিসেবে ১৬ মিনিটের একটি ভিডিও আছে।

তিনি বলেন, গত বুধবারও প্রধান শিক্ষিকা এ ব্যাপারে তার সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময়ে এলাকার প্রবীণ বিদ্যোৎসাহী বিদ্যালয়ের জমিদাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আজিজকে বিষয়টি প্রধান শিক্ষিকা অবগত করেন। ওই সহকারী শিক্ষিকা আবদুল আজিজকে চাচা বলে ডাকেন। তাই তিনি ওই শিক্ষিকাকে সামান্য বকাঝকা করেন। এ সময় শিক্ষকদের কেউ কেউ তাকে সতর্ক করে বলেন, এমন কর্মকাণ্ড চাকরিবিধি পরিপন্থী ও সাইবার অপরাধের মধ্যে পড়ে। প্রধান শিক্ষিকা চাইলেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

এতেই তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে সবাইকে বলে বেড়াচ্ছেন যে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছে। বিভিন্ন রকম কথা বলে তার প্রকৃত অপরাধ আড়াল করার অপচেষ্টা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আজিজ বলেন, ওই সহকারী শিক্ষিকা রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা। তিনি চাকরির আবেদন করেন পবা উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে। ওই সময় তিনি আবদুল আজিজকে চাচা দেখিয়ে তার পবার বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করেন।

এটি একটি জালিয়াতি। আবেদন করার পর আবদুল আজিজ বিষয়টি জেনেছিলেন। তাই আর কিছু বলেননি। তিনি চাচা ডাকেন বলেই সেই অধিকারে ওই শিক্ষিকাকে বকাঝকা করেন। কিন্তু এখন তিনি ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোমিনুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। তিনিও দাবি করেন যে, স্কুলশিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবসের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তবে এ ঘটনাই ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা। তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলন মিথ্যা। তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছে এবং এর সাক্ষীও আছে।

জানতে চাইলে রাজশাহীর পবা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে তদন্ত করতে পাঠিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি তদন্ত করেছেন। এরপর ছুটি ছিল। আজ প্রশিক্ষণের জন্য তিনি বগুড়ায়। রিপোর্ট হাতে পাননি। তাই তদন্তে কী পাওয়া গেছে তা জানেন না। তার হাতে রিপোর্টটা আসার পর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন।



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top