চার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধে স্বায়ত্তশাসন প্রসঙ্গ

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৬:৫৭; আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৭:০৮

কে এ এম সাকিব।

দেশে বর্তমানে অধর্শত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও একশত এরও অধিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। দেশের সকল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় একটিমাত্র আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। আর প্রত্যেকটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা আইন।

তবে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ আইনের দৃষ্টিতে দুই ধারায় বিভক্ত। একধারা স্বায়ত্তশাসিত এবং অপরটি সংবিধিবদ্ধ। প্রশ্ন হল স্বায়ত্তশাসিত কোনগুলি? যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের Delegated Legislation রয়েছে অর্থাৎ সিনেট রয়েছে যেখানে By-laws তৈরীর ক্ষমতা রয়েছে কর্তৃপক্ষের সেসব হল স্বায়ত্তশাসিত।

১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জারি করা অর্ডিন্যান্স অনুসারে মাত্র চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা রয়েছে। আর তা হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়।

এই চার বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের সব সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিয়ে থাকে। কিন্তু সব সিদ্ধান্তই কি? ধরুন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খুলতে হলে এক্ষেত্রে অবশ্যই তা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনুমোদিত হবে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্প হলেও ইউজিসির নিয়ন্ত্রণ আছে তা স্বীকার করতেই হবে।

কিন্তু প্রশ্ন হল, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা কি? রাষ্ট্রপতি পদাধিকার বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য এবং তিনি উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে থাকেন। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা শাখা এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সচিবালয় হিসেবে কাজ করে থাকে। এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা এড়ানোর কোন সুযোগ নেই।

সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষার বিষয়ে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে৷ প্রশ্ন হল, চলমান মহামারীতে সরকারি কোন নির্দেশ মানতে চার বিশ্ববিদ্যালয় বাধ্য কি না?

সেটা জানতে হলে আমাদের দেখতে হবে, ২০১৮ সালের সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন। এই আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে "আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে"। অর্থাৎ ৭৩ এর আইনের চেয়ে এই আইনের প্রাধান্য বেশী।

প্রশ্ন হল, করোনাভাইরাস এই আইনের আওতাভুক্ত কি না। তার উত্তর ধারা ৪ এর (ভ) উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে "সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষিত কোনো নবোদ্ভূত বা পুনরুদ্ভূত (Emerging or Reemerging) রোগসমূহ। অর্থাৎ করোনাভাইরাস এই আইনের আওতাভুক্ত।

এবার আসি আসল কথায়, এই আইনের ১১ ধারায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের দেশের নির্দিষ্ট এলাকাকে সংক্রমিত ঘোষণা করার বা ওই এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রয়েছে। অতএব বিশেষ এই আইনের আলোকর স্বায়ত্তশাসিত চার বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি নির্দেশ মানতে বাধ্য।

  • লেখক: কে এ এম সাকিব
  • শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়


বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top