টিলা ভূমিতে কফি চাষের সম্ভাবনা

রাজটাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৮:২৩; আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২২ ০৪:২১

টিলাভূমিতে কফি চাষ।

৫০ বিঘা জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে রোবাস্তা প্রজাতির ‘কফি গার্ডেন’। এ যেন দেশের অর্থনীতিতে নতুন দেখানো পথ। এমন গার্ডেন গড়ে উঠেছে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কদম রসুল গ্রামের। খবর বণিক বার্তার।

একই সঙ্গে সিলেটে থাকা বিপুল পরিমাণ অনাবাদি টিলায় কফি উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কফি একটি দীর্ঘ মূলবিশিষ্ট মাঝারি জাতীয় উদ্ভিদ। এটি প্রায় চা গাছের মতোই ৮-১০ ফুট উঁচু হয় এবং ৫০-৬০ বছর ফলন দেয়। তাতে অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি টিলাও সুরক্ষিত থাকবে।

সিলেট কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, টিলা এলাকায় চাষবাসে বেশকিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়। প্রথমত টিলার মাটি শুষ্ক এবং বর্ষাকাল শেষে শুকিয়ে যায়। তাই গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘ মূলবিশিষ্ট গাছ লাগাতে হয়। দ্বিতীয়ত টিলার ঢালুতে ফসলের যত্ন নেয়া এবং বারবার চলাচল করা কঠিন। তাই এমন গাছ লাগানো উচিত যেন একবার লাগালে ন্যূনতম ১০-১৫ বছর ফলন পাওয়া যায়। দীর্ঘ মূলবিশিষ্ট গাছ হলে টিলার মাটিও ধরে রাখে। সেই দিক থেকে কদম রসুল এলাকা কফি চাষের জন্য সম্ভাবনাময় জায়গা।

সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, সিলেটে বিচ্ছিন্নভাবে কফি গাছ লাগানো হলেও পূর্ণাঙ্গ বাগান গড়ে ওঠেনি। কেবল গোলাপগঞ্জের আমুড়া ইউনিয়ন কমপ্লেক্স-সংলগ্ন কদম রসুল গ্রামে ৫০ বিঘা জায়গায় সাড়ে ৩ হাজার কফি গাছ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কফি গার্ডেন। উঁচু-নিচু টিলায় সারি সারি আনারস গাছের মাঝে লাগানো হয়েছে গাছগুলো। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফুল আসা শুরু করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাগানে কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, অনাবাদি টিলা চাষের আওতায় আনতে বাগান করার পরিকল্পনা নেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সৈয়দ মাছুম আহমদ। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ৫০ বিঘা জায়গা নিয়ে প্রথমে গড়ে তোলেন কফি বাগান। পরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে টিলা আবাদের জন্য উন্নত জাতের চারা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেয়ায় গত বছর থেকে তিনি ব্যাপকভাবে কফি চাষ শুরু করেছেন।

কফি গার্ডেনের ব্যবস্থাপক আবু সুফিয়ান বণিক বার্তাকে জানান, গোলাপগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রথমবার তাদের আড়াইশ কফি গাছ দেয়া হয়েছিল। পরে আরো ১ হাজার ১২৬টি গাছ দেয়া হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষও নিজেদের থেকে ২ হাজার কফি গাছ রোপণ করেছে। এসব গাছে কয়েক মাসের মধ্যেই ফুল আসবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আবু সুফিয়ান আরো জানান, প্রথমে আনারস বাগান করার পরিকল্পনা ছিল মালিকের। সে অনুযায়ী আনারস চাষও করা হয়েছে। এর ফাঁকে ফাঁকে লাগানো হয়েছে কফি গাছ। তবে তারা আগামীতে আনারস সরিয়ে শুধু কফি আবাদ করবেন। বাগানের জন্য আরো কয়েকটি টিলা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আরো ১ হাজার ১২৬টি গাছ দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। কফি গাছে আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে ফলন আসে এবং ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায় বলেও জানিয়েছেন আবু সুফিয়ান।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, কফি গার্ডেন কর্তৃপক্ষকে কৃষি বিভাগ থেকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। সিলেটের ঐতিহ্য লেবু ও আনারসের পাশাপাশি টিলা সংরক্ষণ, টিলা ধস রোধ, উদ্যোক্তা তৈরির জন্য এ বাগান অনুকরণীয় হতে পারে বলেও মনে করেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক কাজী মুজিবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, উচ্চমূল্যের ফসল আবাদ বাড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় আছে। কফি একটি উচ্চমূল্যের পণ্য। সিলেটের টিলা এলাকায় এর চাষ ছড়িয়ে দেয়ার অনেক সুবিধা রয়েছে। কেননা এখনো বিপুল পরিমাণ টিলা ভূমি অনাবাদি রয়েছে। এরই মধ্যে সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায়ও ছোট ছোট কফি বাগান গড়ে উঠছে বলে জানান তিনি।

নিউজের লিঙ্ক

 



বিষয়:


বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস
এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top