এবার ভারতের রাজধানীতে জেন-জি আন্দোলন
রাজ টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ জুন ২০২৬ ২৩:২৪; আপডেট: ৭ জুন ২০২৬ ০০:২২
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ থেকে জন্ম নেওয়া ভারতের তরুণদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার প্রথমবারের মতো রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। আন্দোলনকারীরা দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
শনিবার রাজধানীর নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল জন্তর মন্তরে শত শত তরুণ জড়ো হন। তাদের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ আন্দোলন’-এর সূচনা করেন।
ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, মূল্যায়ন-সংক্রান্ত অনিয়ম এবং শিক্ষা ব্যবস্থার নানা বিতর্কে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। বিশেষ করে দেশের বৃহত্তম শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অসঙ্গতি এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সেই ক্ষোভ আরো তীব্র হয়ে ওঠে।
গত মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য, যেখানে তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল বলে সমালোচনা ওঠে, সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। এরই প্রেক্ষাপটে অভিজিৎ দিপকে এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি সব তেলাপোকা একসঙ্গে হয়?’ সেই মন্তব্য দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং পরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জন্ম হয়। নামটি ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সঙ্গে শব্দের মিল রেখে রাখা হয়েছে।
দিপকের উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে বিপুল সাড়া পায়। তার প্ল্যাটফর্মের অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটিতে পৌঁছায়। তবে আন্দোলনের নেতারা বলছেন, বিষয়টি এখন আর নিছক রসিকতা নয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে দিপকে বলেন, মোদি সরকারের প্রতি আমাদের বার্তা স্পষ্ট শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে আমরা এখান থেকে সরে যাব না।
মধ্যপ্রদেশের ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সৌরভ কুশওয়াহও এই বিক্ষোভে অংশ নিতে রাতভর ট্রেনে করে রাজধানীতে আসেন। সম্প্রতি তিনি দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের কারণে তিনি ক্ষুব্ধ। তার ভাষায়, আমি মজা করে তাদের ইনস্টাগ্রাম অনুসরণ করেছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সত্যিই হয়তো আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আদায় করতে পারব।
ইরানকে শক্তিশালী ও অহংকারী বললেন ট্রাম্পইরানকে শক্তিশালী ও অহংকারী বললেন ট্রাম্প
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়ম প্রায় প্রতি বছরই ঘটছে, অথচ এর জন্য কোনো রাজনৈতিক জবাবদিহি দেখা যায় না।
সমাবেশে দিপকে আরো অভিযোগ করেন, ভারতে সরকারবিরোধী মত প্রকাশের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করছে। তিনি বলেন, আমার মা ভেবেছিলেন, দেশে ফিরলেই আমাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। শুধু আমার মা নন, এই দেশের অনেক মায়েরই আশঙ্কা রাজনীতি নিয়ে কথা বললে কিংবা সরকারের সমালোচনা করলে তাদের সন্তানদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
অবশ্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এবং বিজেপি বিরোধীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, সরকার সবসময় আইন ও সংবিধান মেনেই কাজ করছে।
এদিকে তীব্র গরমের মধ্যেও বিক্ষোভস্থলে তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই তেলাপোকার মুখোশ পরে সমাবেশে অংশ নেন। কেউ ফুলের তোড়া, কেউ বই হাতে নিয়ে উপস্থিত হন। আন্দোলনের প্রতীকী বার্তা তুলে ধরতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বের বৃহত্তম জেন জেড জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নিয়ে গঠিত ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে এই আন্দোলন কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: